শিশুর জন্য পৃথিবী হোক নিরাপদ

বিশ্বের পরিবেশ আজ নানাভাবে দূষিত। এই দূষণ আজ ভয়ংকর এক ভবিষ্যতের দিকে নিয়ে যাচ্ছে আমাদের। আজ জলে বিষ, বাতাসে আতঙ্ক, মাটিতে মহাত্রাস। বিগত ৬০ বছরে ৮০টির বেশি প্রজাতির প্রাণী নিশ্চিহ্ন হয়ে গেছে। কয়েকশ প্রজাতির গাছপালা বিলুপ্ত হয়েছে।

আমাদের অর্থনৈতিক উন্নতি হয়েছে; কিন্তু এর পরিণামে বাতাসে প্রতিবছর ২২ কোটি টন কার্বন মনোক্সাইড সঞ্চিত হচ্ছে। বায়ুম-লে কার্বন ডাইঅক্সাইড, সালফার ডাইঅক্সাইড, নাইট্রাস অক্সাইড গ্যাসের আনুপাতিক হার ক্রমেই বাড়ছে। এর ফলে বৃষ্টির পানিতে অ্যাসিডের পরিমাণ বেশি হচ্ছে। এই অ্যাসিড বর্ষণ অরণ্যে মহামারি সৃষ্টি করছে, যা খাদ্যশস্যকে করছে বিষাক্ত। দ্রুত ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে সবুজ অরণ্য। প্রতি বছর ৭৫ লাখ হেক্টর জমি মরুভূমি হয়ে যাচ্ছে। প্রতি মিনিটে ৫০ হেক্টর উর্বর জমি বালুকাকীর্ণ হয়ে যাচ্ছে।

প্রতি বছর বাতাসে বিপুল পরিমাণ অক্সিজেন কমছে। বিজ্ঞানের অপব্যবহারে ভূ-প্রকৃতির ওপর অত্যাচার বাড়ছেই। শস্য রক্ষার জন্য নানা ধরনের কীটনাশক তৈরি ও প্রয়োগ হচ্ছে। এসব বিপজ্জনক রাসায়নিক দ্রব্যের অনুপ্রবেশ ঘটছে মানুষের শরীরে। ফলে নানা জটিল ও কঠিন রোগ দানা বাঁধছে আমাদের শরীরে। পরিবেশ দূষণের কারণে পৃথিবীতে ৮০ শতাংশ নিত্যনতুন রোগের সৃষ্টি হচ্ছে। মেরু অঞ্চলের বরফ গলে পানিতে পরিণত হচ্ছে। বায়ুম-লের ওজোন স্তরের আয়তন সংকুচিত হচ্ছে। দূষণের কারণে উদ্ভিদ ও জীবজগৎ আজ বিপন্ন। সমুদ্র-নদী-জলাশয়ে মাছের সংখ্যা দিনদিন কমছে। মাছের শরীরেও দেখা দিচ্ছে নানা রোগ।

চাইলেই আমরা আমাদের দেশের সভ্যতা নগরের পরিবর্তে অরণ্যে বিকশিত করে তুলতে পারি; আমাদের গ্রামগুলিকে, ছোট ও বড় শহরগুলিকে পরিকল্পিত এবং পরিবেশ সমুন্নতভাবে গড়ে তুলতে পারি; চাইলেই আমরা একতাবদ্ধ হয়ে আমাদের চারপাশ থেকে পরিবেশের সকল অন্যায়ের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াতে পারি।

আমরা যদি উন্নয়ন করতে চাই এবং একে টেকসই করতে চাই তাহলে পরিবেশ সুন্দর রাখতে হবে। আমরা যদি পরিবেশ ঠিক রাখতে না পারি তাহলে উন্নয়ন টেকসই হবে না। এক্ষেত্রে সচেতনতার কোনো বিকল্প নেই। আর সচেতনতা সৃষ্টির অন্যান্য সাপোর্টও প্রয়োজন।

আমরা যদি একটা পৃথিবী কল্পনা করি যা বৃক্ষহীন, জলাভূমিহীন এবং বৃষ্টিশূন্য, প্রথমেই যা মাথায় আসবে তা হলো ধূসর, জীবনবিহীন একটি গ্রহ, যেখানে প্রাণের কোন অস্তিত্ব নেই। আদিম মানুষ প্রকৃতির সাথে সমন্বয় রেখে বসবাস করতো; কিন্তু সভ্যতার বিকাশের সাথে সাথে মানুষ নিজের হাতে এই সমন্বয় নষ্ট করে নতুন সব প্রযুক্তির উদ্ভব ঘটিয়েছে।

১৯৭৪ সাল থেকে বিশ্বব্যাপী সচেতনতা ও বিভিন্ন কার্যক্রমের মাধ্যমে পরিবেশকে সুস্থ রাখার অঙ্গীকার নিয়ে প্রতি বছর এই দিনে বিশ্ব পরিবেশ দিবস পালিত হয়ে আসছে। এবারের উন্নয়নের যে পরিকল্পনায় প্রকৃতির কল্যাণ বিবেচনা করা হয়না, সে পরিকল্পনার কোন ভবিষ্যৎ নেই। কয়েক দিন আগেই বড় বড় বিশ্ব নেতাদের নিয়ে অনুষ্ঠিত হয়ে গেলো জলবায়ুবিষয়ক সম্মেলন। এ সম্মেলন কতখানি ফলপ্রসূ হবে জানি না।

তবে এ সমাজের চিত্রকে পরিবর্তন করে দূষণ মুক্ত সুস্থ ও সুন্দর সমাজ উপহার দেয়ার জন্য সবাইকে সম্মিলিতভাবে চেষ্টা করতে হবে। আমাদের সামষ্টিক ও ব্যক্তিগত উদ্যোগের মাধ্যমে পরিবর্তন হোক বিশ্ব। আগামী শিশুর জন্য পৃথিবী হোক বাস যোগ্য ও নিরাপদ।

হিরা তালুকদার

আরও খবর

শুক্রবার, ০৭ জুন ২০২৪ , ২৭ জৈষ্ঠ্য ১৪৩১ ২৮ জিলক্বদ ১৪৪৫

শিশুর জন্য পৃথিবী হোক নিরাপদ

বিশ্বের পরিবেশ আজ নানাভাবে দূষিত। এই দূষণ আজ ভয়ংকর এক ভবিষ্যতের দিকে নিয়ে যাচ্ছে আমাদের। আজ জলে বিষ, বাতাসে আতঙ্ক, মাটিতে মহাত্রাস। বিগত ৬০ বছরে ৮০টির বেশি প্রজাতির প্রাণী নিশ্চিহ্ন হয়ে গেছে। কয়েকশ প্রজাতির গাছপালা বিলুপ্ত হয়েছে।

আমাদের অর্থনৈতিক উন্নতি হয়েছে; কিন্তু এর পরিণামে বাতাসে প্রতিবছর ২২ কোটি টন কার্বন মনোক্সাইড সঞ্চিত হচ্ছে। বায়ুম-লে কার্বন ডাইঅক্সাইড, সালফার ডাইঅক্সাইড, নাইট্রাস অক্সাইড গ্যাসের আনুপাতিক হার ক্রমেই বাড়ছে। এর ফলে বৃষ্টির পানিতে অ্যাসিডের পরিমাণ বেশি হচ্ছে। এই অ্যাসিড বর্ষণ অরণ্যে মহামারি সৃষ্টি করছে, যা খাদ্যশস্যকে করছে বিষাক্ত। দ্রুত ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে সবুজ অরণ্য। প্রতি বছর ৭৫ লাখ হেক্টর জমি মরুভূমি হয়ে যাচ্ছে। প্রতি মিনিটে ৫০ হেক্টর উর্বর জমি বালুকাকীর্ণ হয়ে যাচ্ছে।

প্রতি বছর বাতাসে বিপুল পরিমাণ অক্সিজেন কমছে। বিজ্ঞানের অপব্যবহারে ভূ-প্রকৃতির ওপর অত্যাচার বাড়ছেই। শস্য রক্ষার জন্য নানা ধরনের কীটনাশক তৈরি ও প্রয়োগ হচ্ছে। এসব বিপজ্জনক রাসায়নিক দ্রব্যের অনুপ্রবেশ ঘটছে মানুষের শরীরে। ফলে নানা জটিল ও কঠিন রোগ দানা বাঁধছে আমাদের শরীরে। পরিবেশ দূষণের কারণে পৃথিবীতে ৮০ শতাংশ নিত্যনতুন রোগের সৃষ্টি হচ্ছে। মেরু অঞ্চলের বরফ গলে পানিতে পরিণত হচ্ছে। বায়ুম-লের ওজোন স্তরের আয়তন সংকুচিত হচ্ছে। দূষণের কারণে উদ্ভিদ ও জীবজগৎ আজ বিপন্ন। সমুদ্র-নদী-জলাশয়ে মাছের সংখ্যা দিনদিন কমছে। মাছের শরীরেও দেখা দিচ্ছে নানা রোগ।

চাইলেই আমরা আমাদের দেশের সভ্যতা নগরের পরিবর্তে অরণ্যে বিকশিত করে তুলতে পারি; আমাদের গ্রামগুলিকে, ছোট ও বড় শহরগুলিকে পরিকল্পিত এবং পরিবেশ সমুন্নতভাবে গড়ে তুলতে পারি; চাইলেই আমরা একতাবদ্ধ হয়ে আমাদের চারপাশ থেকে পরিবেশের সকল অন্যায়ের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াতে পারি।

আমরা যদি উন্নয়ন করতে চাই এবং একে টেকসই করতে চাই তাহলে পরিবেশ সুন্দর রাখতে হবে। আমরা যদি পরিবেশ ঠিক রাখতে না পারি তাহলে উন্নয়ন টেকসই হবে না। এক্ষেত্রে সচেতনতার কোনো বিকল্প নেই। আর সচেতনতা সৃষ্টির অন্যান্য সাপোর্টও প্রয়োজন।

আমরা যদি একটা পৃথিবী কল্পনা করি যা বৃক্ষহীন, জলাভূমিহীন এবং বৃষ্টিশূন্য, প্রথমেই যা মাথায় আসবে তা হলো ধূসর, জীবনবিহীন একটি গ্রহ, যেখানে প্রাণের কোন অস্তিত্ব নেই। আদিম মানুষ প্রকৃতির সাথে সমন্বয় রেখে বসবাস করতো; কিন্তু সভ্যতার বিকাশের সাথে সাথে মানুষ নিজের হাতে এই সমন্বয় নষ্ট করে নতুন সব প্রযুক্তির উদ্ভব ঘটিয়েছে।

১৯৭৪ সাল থেকে বিশ্বব্যাপী সচেতনতা ও বিভিন্ন কার্যক্রমের মাধ্যমে পরিবেশকে সুস্থ রাখার অঙ্গীকার নিয়ে প্রতি বছর এই দিনে বিশ্ব পরিবেশ দিবস পালিত হয়ে আসছে। এবারের উন্নয়নের যে পরিকল্পনায় প্রকৃতির কল্যাণ বিবেচনা করা হয়না, সে পরিকল্পনার কোন ভবিষ্যৎ নেই। কয়েক দিন আগেই বড় বড় বিশ্ব নেতাদের নিয়ে অনুষ্ঠিত হয়ে গেলো জলবায়ুবিষয়ক সম্মেলন। এ সম্মেলন কতখানি ফলপ্রসূ হবে জানি না।

তবে এ সমাজের চিত্রকে পরিবর্তন করে দূষণ মুক্ত সুস্থ ও সুন্দর সমাজ উপহার দেয়ার জন্য সবাইকে সম্মিলিতভাবে চেষ্টা করতে হবে। আমাদের সামষ্টিক ও ব্যক্তিগত উদ্যোগের মাধ্যমে পরিবর্তন হোক বিশ্ব। আগামী শিশুর জন্য পৃথিবী হোক বাস যোগ্য ও নিরাপদ।

হিরা তালুকদার