লিভার সিরোসিসের ঝুঁকি

বাংলাদেশে প্রতি তিনজনের একজনের ফ্যাটি লিভার রয়েছে। প্রায় পাঁচ কোটি মানুষ ফ্যাটি লিভারে আক্রান্তের ঝুঁকিতে রয়েছে। লিভার রোগ সম্পর্কিত মৃত্যুহার বিশ্বব্যাপী একটি গুরুতর জনস্বাস্থ্য সমস্যা হিসাবে বিবেচিত।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশে মোট মৃত্যুর ২.৮২ শতাংশ লিভারের রোগ, বিশেষ করে সিরোসিস এবং ক্যান্সারের কারণে। লিভার সিরোসিস এবং ক্যান্সারের অন্যতম প্রধান কারণ হলো ফ্যাটি জমার কারণে প্রদাহ। অনিয়ন্ত্রিত ফ্যাটি লিভার বিপদজনকভাবে অগ্রসর হতে থাকে। এ রোগ সরাসরি হৃদরোগ, ডায়াবেটিস এবং শরীরে ইনস্যুলিন হরমোনের কার্যকারিতা হ্রাসের সঙ্গে সম্পর্কিত।

সারাবিশ্বের মত বাংলাদেশেও এ রোগের প্রকোপ উদ্বেগজনক হারে বাড়ছে। জ্যাঙ্কফুড এবং স্যাচুরেটেড ফ্যাট, চিনি এবং লবণের উচ্চ পরিমাণে প্রক্রিয়াজাত খাবার পরিহার করা দরকার এবং জনসচেতনামূলক কার্যক্রমের মাধ্যমে উৎসাহিত করা উচিত। প্রতিটি স্কুল ও প্রশাসনিক ওয়ার্ডে খেলার মাঠ বাধ্যতামূলক করা এবং প্রত্যেক শিশুকে খেলাধূলা ও অন্যান্য শারীরিক কার্যকলাপে অংশগ্রহণ করতে উৎসাহিত করা।

আব্বাসউদ্দিন আহমদ

স্নাতকোত্তর পরিচ্ছন্নতাকর্মী ও প্রাসঙ্গিক কথা

সম্প্রতি এক গণমাধ্যমের ‘রেলপথের পরিচ্ছন্নতাকর্মী পদে চাকরি পাওয়াদের সবাই স্নাতকোত্তর’। এ নিয়ে বিভিন্ন প্রকার মন্তব্য করা হলেও এটাকে আমি ‘স্বাভাবিক ঘটনা’ হিসেবেই দেখি। কেননা বিসিএস বিশ্ববিদ্যালয়ের কেরানিনির্ভর ব্যবস্থায় এমন ঘটনা কোনো অস্বাভাবিক ঘটনা নয়। যেখানে পুরো চাকরির বাজারকে একমুখী করে একই গ্রোতে যুগের পর যুগ ভাসিয়ে রাখা হচ্ছে, সেখানে স্নাতকোত্তর পাস করে দলবলে পরিচ্ছন্নতাকর্মী হওয়া অস্বাভাবিক কিছু নয়।

এ দেশের চাকরির বাজারের করুণ অবস্থার কথা অনেকেই বলছেন কিন্তু প্রাসঙ্গিক কথা কাউকে বলতে দেখা যাচ্ছে না। যেসব বিশ্ববিদ্যালয়গুলো স্নাতক-স্নাতকোত্তর ডিগ্রি সরবারহ করছে, সে ডিগ্রিগুলোর কতটুকু ওজন আছে, কী পরিমাণ কোয়ালিটি আছে, চাকরির বাজারের জন্য এসব ডিগ্রি কি কোনো ভূমিকা রাখতে পারে? এসব প্রশ্ন কাউকে তুলতে দেখা যাচ্ছে না। অথচ সংকট সেখানেও বিরাজমান। ব্যাঙের ছাতার মতো ঘরে ঘরে পাড়ায় পাড়ায় যে বিশ্ববিদ্যালয় নামক দোকান খুলে রাখা হয়েছে, সেগুলোর আউটকাম কী? সে প্রশ্ন কি কেউ কখনো তুলেছে?

বর্তমানে আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়গুলো যে মানের ডিগ্রি প্রদান করছে, সেগুলো দিয়ে পরিচ্ছন্নতাকর্মীর চাকরি কেন, অনেক ক্ষেত্রে বাদাম বিক্রেতাও প্যাকেট বানাবেন না। স্নাতক-স্নাতকোত্তরের মতো এমন ডিগ্রিকে যারা আজ বেকারত্ব, বিদ্রƒপ আর হতাশার মোড় বানিয়ে দিয়েছেন তাদের প্রতি জানাই ধিক্কার।

ইমরান ইমন

আরও খবর

শনিবার, ০৮ জুন ২০২৪ , ২৮ জৈষ্ঠ্য ১৪৩১ ২৯ জিলক্বদ ১৪৪৫

লিভার সিরোসিসের ঝুঁকি

বাংলাদেশে প্রতি তিনজনের একজনের ফ্যাটি লিভার রয়েছে। প্রায় পাঁচ কোটি মানুষ ফ্যাটি লিভারে আক্রান্তের ঝুঁকিতে রয়েছে। লিভার রোগ সম্পর্কিত মৃত্যুহার বিশ্বব্যাপী একটি গুরুতর জনস্বাস্থ্য সমস্যা হিসাবে বিবেচিত।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশে মোট মৃত্যুর ২.৮২ শতাংশ লিভারের রোগ, বিশেষ করে সিরোসিস এবং ক্যান্সারের কারণে। লিভার সিরোসিস এবং ক্যান্সারের অন্যতম প্রধান কারণ হলো ফ্যাটি জমার কারণে প্রদাহ। অনিয়ন্ত্রিত ফ্যাটি লিভার বিপদজনকভাবে অগ্রসর হতে থাকে। এ রোগ সরাসরি হৃদরোগ, ডায়াবেটিস এবং শরীরে ইনস্যুলিন হরমোনের কার্যকারিতা হ্রাসের সঙ্গে সম্পর্কিত।

সারাবিশ্বের মত বাংলাদেশেও এ রোগের প্রকোপ উদ্বেগজনক হারে বাড়ছে। জ্যাঙ্কফুড এবং স্যাচুরেটেড ফ্যাট, চিনি এবং লবণের উচ্চ পরিমাণে প্রক্রিয়াজাত খাবার পরিহার করা দরকার এবং জনসচেতনামূলক কার্যক্রমের মাধ্যমে উৎসাহিত করা উচিত। প্রতিটি স্কুল ও প্রশাসনিক ওয়ার্ডে খেলার মাঠ বাধ্যতামূলক করা এবং প্রত্যেক শিশুকে খেলাধূলা ও অন্যান্য শারীরিক কার্যকলাপে অংশগ্রহণ করতে উৎসাহিত করা।

আব্বাসউদ্দিন আহমদ

স্নাতকোত্তর পরিচ্ছন্নতাকর্মী ও প্রাসঙ্গিক কথা

সম্প্রতি এক গণমাধ্যমের ‘রেলপথের পরিচ্ছন্নতাকর্মী পদে চাকরি পাওয়াদের সবাই স্নাতকোত্তর’। এ নিয়ে বিভিন্ন প্রকার মন্তব্য করা হলেও এটাকে আমি ‘স্বাভাবিক ঘটনা’ হিসেবেই দেখি। কেননা বিসিএস বিশ্ববিদ্যালয়ের কেরানিনির্ভর ব্যবস্থায় এমন ঘটনা কোনো অস্বাভাবিক ঘটনা নয়। যেখানে পুরো চাকরির বাজারকে একমুখী করে একই গ্রোতে যুগের পর যুগ ভাসিয়ে রাখা হচ্ছে, সেখানে স্নাতকোত্তর পাস করে দলবলে পরিচ্ছন্নতাকর্মী হওয়া অস্বাভাবিক কিছু নয়।

এ দেশের চাকরির বাজারের করুণ অবস্থার কথা অনেকেই বলছেন কিন্তু প্রাসঙ্গিক কথা কাউকে বলতে দেখা যাচ্ছে না। যেসব বিশ্ববিদ্যালয়গুলো স্নাতক-স্নাতকোত্তর ডিগ্রি সরবারহ করছে, সে ডিগ্রিগুলোর কতটুকু ওজন আছে, কী পরিমাণ কোয়ালিটি আছে, চাকরির বাজারের জন্য এসব ডিগ্রি কি কোনো ভূমিকা রাখতে পারে? এসব প্রশ্ন কাউকে তুলতে দেখা যাচ্ছে না। অথচ সংকট সেখানেও বিরাজমান। ব্যাঙের ছাতার মতো ঘরে ঘরে পাড়ায় পাড়ায় যে বিশ্ববিদ্যালয় নামক দোকান খুলে রাখা হয়েছে, সেগুলোর আউটকাম কী? সে প্রশ্ন কি কেউ কখনো তুলেছে?

বর্তমানে আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়গুলো যে মানের ডিগ্রি প্রদান করছে, সেগুলো দিয়ে পরিচ্ছন্নতাকর্মীর চাকরি কেন, অনেক ক্ষেত্রে বাদাম বিক্রেতাও প্যাকেট বানাবেন না। স্নাতক-স্নাতকোত্তরের মতো এমন ডিগ্রিকে যারা আজ বেকারত্ব, বিদ্রƒপ আর হতাশার মোড় বানিয়ে দিয়েছেন তাদের প্রতি জানাই ধিক্কার।

ইমরান ইমন