শিক্ষার্থী নেই, নেই ভালো কোনো ভবন, ঘরে বসে বেতন পান ৪ শিক্ষক

টাঙ্গাইলের কালিহাতীতে বাড্ডা হামেদিয়া হাজী ওয়াজেদীয়া এবতেদায়ি মাদ্রাসা নামে একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ১৯৬৯ সালে প্রতিষ্ঠিত থাকলেও লাগেনি উন্নয়নের ছোঁয়া। মাদ্রাসার নেই আসবাবপত্র ও শিক্ষার্থী, ঘরে বসে সরকারি বেতন পাচ্ছে শিক্ষকরা।

কালিহাতী উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষাতথ্য বলছে, আমাদের অফিস থেকে প্রতি বছরের মতো এ বছরও ১ম শ্রেণীতে ৫০ সেট, দ্বিতীয় শ্রেণীতে ৩৫ সেট, তৃতীয় শ্রেণীতে ২৫ সেট, চতুর্থ শ্রেণীতে ২০ সেট, ৫ম শ্রেণীতে ১০ সেটসহ মোট ১৪০ সেট বই দেয়া হয়েছে, বাস্তবে এখন এই প্রতিষ্ঠানের কোনো শিক্ষা কার্যক্রম আছে কিনা জানা নেই।

সরজমিন গত ৭ জুলাই সকাল সাড়ে ১০টার দিকে উপজেলার কোকডহরা ইউনিয়নের বাড্ডা দক্ষিণ পাড়া গ্রামে গিয়ে প্রতিষ্ঠানটি বন্ধ দেখা দেখা যায়। নামেমাত্র একটি ঘর থাকলেও নেই কোনো আসবাবপত্র। ঘর দেখে বোঝার কোনো উপায় নেই এটা কোনো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয় একাধিক ব্যক্তি জানান, এই মাদ্রাসার নামেমাত্র চারজন শিক্ষক। প্রধান শিক্ষক সেলিম মিয়া এক বছর আগে অবসরে গেছেন। বাড্ডা গ্রামের শিক্ষক ফরিদ সে অটোরিকশা চালান, কখনো শিক্ষক হিসেবে মাদ্রাসা দেখিনি। বাড্ডা দক্ষিণ পাড়ার শামসুলের স্ত্রী ফরিদা নিজেই কথাই গুছিয়ে বলতে পারেন না। সে কেমনে ছেলেমেয়েদের পড়াশোনা করাবে। উপজেলার জগরমান গ্রামের আবুতালেব মিয়া সে নিজেই চলাফেরা করতে শারীরিক এবং মানসিক সমস্যা। তাকে কোনো দিন মাদ্রাসায় শিক্ষক হিসেবে দেখেনি।

বাড্ডা গ্রামের ইউসুফ মাদ্রাসার বিষয়ে জানান, মাদ্রাসায় এজন ছাত্রছাত্রী নেই। একটি ঘর আছে সেখানে কিছু দিন আগেও গ্রামের লোকজন গরু ছাগল রাখতেন। প্রধান শিক্ষক ছিলেন এই গ্রামের সেলিম মিয়া সে-ও মাদ্রাসায় কখনো আসে নাই। বাড়িতে বসে বসে বেতন নিয়েছে।

বাড্ডা মধ্যেপাড়া গ্রামের সহকারী শিক্ষক দেওয়ান ফরিদ উদ্দিন বলেন, আমি মাদ্রাসা শুরু থেকেই শিক্ষক হিসেবে আছি, আগে বেতন কম ছিল এখন দুই হাজার তিনশ টাকা পাই এটাতে সংসার চলে না। বাধ্য হয়ে অটো চালিয়ে সংসার চালাচ্ছি। নামেমাত্র শিক্ষক হিসেবে আছি।

মাদ্রাসার ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক আবু তালেব মিয়ার কাছে মোবাইল ফোনে মাদ্রাসার বইয়ের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি উত্তেজিত হয়ে বলেন, আমরা বই বিতরণ করেছি। ২০২৪ সালের ১৪০ সেট বই কোন কোন শিক্ষার্থীকে বই দেয়া হয়েছেÑ এ প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আপনি মাদ্রাসার হিসাব নেয়ার কে। আমাদের প্রতিষ্ঠানের বিষয়ে ভালো-মন্দ আমরা বুঝব।

বাড্ডা হামেদিয়া হাজী ওয়াজেদীয়া এবতেদায়ি মাদ্রাসার টানা ১৮ বছর যাবত সভাপতি লালমামুদ জানান, মাদ্রাসার ছাত্রছাত্রীর বিষয়ে কিছু জানি না মাস্টারা জানে। মাদ্রাসা না চলার কারণে সমাজের পক্ষ থেকে আলাদা একটি ঘর করে নুরানি মাদ্রাসা চালাচ্ছি। মাদ্রাসার অবসরপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক সেলিম মিয়ার কাছে মাদ্রাসা এ বিষয়ে জানতে চাইলে তিন বলেন, গ্রামের ভেতরে প্রতিষ্ঠান এজন্য আমি কিছু করতে পারি না। ২০২৩ সালে আমি অবসরে এসেছি। মাদ্রাসার বর্তমান অবস্থান জানি না। তবে শিক্ষকদের বেতন অনুদান হিসাবে মাত্র ২ হাজার তিনশ টাকা পায় এজন্য শিক্ষকরাও তেমন গুরুত্ব দেন না। কালিহাতী মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার এ কে এম আমির হোসেন এ বিষয়ে বলেন, আমি নতুন এসছি মাদ্রাসার বিষয়ে জানা ছিল না, এলাকাবাসী পক্ষ থেকে দুই তিনটি গ্রুপে লোকজন এসেছিলেন মাদ্রাসাটি ভালোভাবে চালানো এবং ম্যানেজিং কমিটির বিষয় জানিয়ে গেছেন। অন্যান্য বিষয়ে আমি গিয়ে খোঁজখবর নিয়ে ব্যবস্থা নিব।

বুধবার, ১০ জুলাই ২০২৪ , ২৬ আষাড় ১৪৩১ ৩ মহরম ১৪৪৫

সাইনবোর্ডই এক এবতেদায়ি মাদ্রাসা

শিক্ষার্থী নেই, নেই ভালো কোনো ভবন, ঘরে বসে বেতন পান ৪ শিক্ষক

প্রতিনিধি, কালিহাতী (টাঙ্গাইল)

টাঙ্গাইলের কালিহাতীতে বাড্ডা হামেদিয়া হাজী ওয়াজেদীয়া এবতেদায়ি মাদ্রাসা নামে একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ১৯৬৯ সালে প্রতিষ্ঠিত থাকলেও লাগেনি উন্নয়নের ছোঁয়া। মাদ্রাসার নেই আসবাবপত্র ও শিক্ষার্থী, ঘরে বসে সরকারি বেতন পাচ্ছে শিক্ষকরা।

কালিহাতী উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষাতথ্য বলছে, আমাদের অফিস থেকে প্রতি বছরের মতো এ বছরও ১ম শ্রেণীতে ৫০ সেট, দ্বিতীয় শ্রেণীতে ৩৫ সেট, তৃতীয় শ্রেণীতে ২৫ সেট, চতুর্থ শ্রেণীতে ২০ সেট, ৫ম শ্রেণীতে ১০ সেটসহ মোট ১৪০ সেট বই দেয়া হয়েছে, বাস্তবে এখন এই প্রতিষ্ঠানের কোনো শিক্ষা কার্যক্রম আছে কিনা জানা নেই।

সরজমিন গত ৭ জুলাই সকাল সাড়ে ১০টার দিকে উপজেলার কোকডহরা ইউনিয়নের বাড্ডা দক্ষিণ পাড়া গ্রামে গিয়ে প্রতিষ্ঠানটি বন্ধ দেখা দেখা যায়। নামেমাত্র একটি ঘর থাকলেও নেই কোনো আসবাবপত্র। ঘর দেখে বোঝার কোনো উপায় নেই এটা কোনো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয় একাধিক ব্যক্তি জানান, এই মাদ্রাসার নামেমাত্র চারজন শিক্ষক। প্রধান শিক্ষক সেলিম মিয়া এক বছর আগে অবসরে গেছেন। বাড্ডা গ্রামের শিক্ষক ফরিদ সে অটোরিকশা চালান, কখনো শিক্ষক হিসেবে মাদ্রাসা দেখিনি। বাড্ডা দক্ষিণ পাড়ার শামসুলের স্ত্রী ফরিদা নিজেই কথাই গুছিয়ে বলতে পারেন না। সে কেমনে ছেলেমেয়েদের পড়াশোনা করাবে। উপজেলার জগরমান গ্রামের আবুতালেব মিয়া সে নিজেই চলাফেরা করতে শারীরিক এবং মানসিক সমস্যা। তাকে কোনো দিন মাদ্রাসায় শিক্ষক হিসেবে দেখেনি।

বাড্ডা গ্রামের ইউসুফ মাদ্রাসার বিষয়ে জানান, মাদ্রাসায় এজন ছাত্রছাত্রী নেই। একটি ঘর আছে সেখানে কিছু দিন আগেও গ্রামের লোকজন গরু ছাগল রাখতেন। প্রধান শিক্ষক ছিলেন এই গ্রামের সেলিম মিয়া সে-ও মাদ্রাসায় কখনো আসে নাই। বাড়িতে বসে বসে বেতন নিয়েছে।

বাড্ডা মধ্যেপাড়া গ্রামের সহকারী শিক্ষক দেওয়ান ফরিদ উদ্দিন বলেন, আমি মাদ্রাসা শুরু থেকেই শিক্ষক হিসেবে আছি, আগে বেতন কম ছিল এখন দুই হাজার তিনশ টাকা পাই এটাতে সংসার চলে না। বাধ্য হয়ে অটো চালিয়ে সংসার চালাচ্ছি। নামেমাত্র শিক্ষক হিসেবে আছি।

মাদ্রাসার ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক আবু তালেব মিয়ার কাছে মোবাইল ফোনে মাদ্রাসার বইয়ের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি উত্তেজিত হয়ে বলেন, আমরা বই বিতরণ করেছি। ২০২৪ সালের ১৪০ সেট বই কোন কোন শিক্ষার্থীকে বই দেয়া হয়েছেÑ এ প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আপনি মাদ্রাসার হিসাব নেয়ার কে। আমাদের প্রতিষ্ঠানের বিষয়ে ভালো-মন্দ আমরা বুঝব।

বাড্ডা হামেদিয়া হাজী ওয়াজেদীয়া এবতেদায়ি মাদ্রাসার টানা ১৮ বছর যাবত সভাপতি লালমামুদ জানান, মাদ্রাসার ছাত্রছাত্রীর বিষয়ে কিছু জানি না মাস্টারা জানে। মাদ্রাসা না চলার কারণে সমাজের পক্ষ থেকে আলাদা একটি ঘর করে নুরানি মাদ্রাসা চালাচ্ছি। মাদ্রাসার অবসরপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক সেলিম মিয়ার কাছে মাদ্রাসা এ বিষয়ে জানতে চাইলে তিন বলেন, গ্রামের ভেতরে প্রতিষ্ঠান এজন্য আমি কিছু করতে পারি না। ২০২৩ সালে আমি অবসরে এসেছি। মাদ্রাসার বর্তমান অবস্থান জানি না। তবে শিক্ষকদের বেতন অনুদান হিসাবে মাত্র ২ হাজার তিনশ টাকা পায় এজন্য শিক্ষকরাও তেমন গুরুত্ব দেন না। কালিহাতী মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার এ কে এম আমির হোসেন এ বিষয়ে বলেন, আমি নতুন এসছি মাদ্রাসার বিষয়ে জানা ছিল না, এলাকাবাসী পক্ষ থেকে দুই তিনটি গ্রুপে লোকজন এসেছিলেন মাদ্রাসাটি ভালোভাবে চালানো এবং ম্যানেজিং কমিটির বিষয় জানিয়ে গেছেন। অন্যান্য বিষয়ে আমি গিয়ে খোঁজখবর নিয়ে ব্যবস্থা নিব।