কোটা : আজ সকাল-সন্ধ্যা সর্বাত্মক ‘বাংলা ব্লকেড’

একদিন স্থাগিত থাকার পর আজ আবারও ‘বাংলা ব্লকেড’ বা অবরোধ কর্মসূচিতে নামছে কোটা সংস্কার আন্দোলনকারীরা। আগে দুদিন বিকেলে একবেলা এই কর্মসূচি পালন করলেও এবার ‘সকাল-সন্ধ্যা’ পালনের ঘোষণাও দিয়েছেন তারা। সেই সঙ্গে এবার শুধু ঢাকায় নয়, সর্বাত্মক তথা সারাদেশই ‘বাংলা ব্লকেড’ কর্মসূচি পালন করবেন বলেও তারা জানিয়েছেন।

গতকাল সন্ধ্যায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারের সামনে এক সংবাদ সম্মেলনে নতুন কর্মসূচি ঘোষণা দেন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতারা। তারা বলেন, তাদের আন্দোলন কোটার বিরুদ্ধে নয়, ‘যৌক্তিকভাবে’ কোটা সংস্কার করা। তবে এই সিদ্ধান্ত নির্বাহী বিভাগ থেকে কমিশন গঠনের মাধ্যমে আসতে হবে। এবং সরকারের নির্বাহী বিভাগের কাছ থেকে লিখিত আশ্বাস চান তারা।

আন্দোলনের অন্যতম সমন্বয়ক নাহিদ ইসলাম সংবাদ সম্মেলনে বলেন, ‘শিক্ষার্থীরা কোটা সংস্কারের দাবিতে ১ জুলাই থেকে টানা আন্দোলন চলছে। প্রথমে ক্লাস পরীক্ষা বর্জন তারপর অবস্থান কর্মসূচি ও শাহবাগের সড়ক অবরোধ আর এখন চলছে বাংলা ব্লকেড। দুই দিনের ব্লকেডে চার থেকে পাঁচ ঘণ্টা করে কার্যত বন্ধ ছিল শহরের গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টগুলো। এবার সারাদেশের সব মহাসড়ক ও রেলপথ বাংলা ব্লকেডের আওতাভুক্ত থাকবে। তিনি আরও বলেন, ‘এই আন্দোলন শিক্ষার্থীরা নিজ উদ্যোগে করেনি। হাইকোর্টের রায়ের কারণে আন্দোলনের প্রেক্ষাপট তৈরি হয়েছে। অনেকে সাধারণ মানুষের ভোগান্তির কথা বলছেন। আমরাও চাই না সাধারণ মানুষের কোনো ভোগান্তি তৈরি হোক। কিন্তু এখনো নির্বাহী বিভাগের সঙ্গে আমাদের কোনো আলোচনা বা আশ্বাস পাইনি। সংসদে আইন পাসের মাধ্যমে কোটা বৈষম্য নিরসনের কথা বলছি।’

কোটার বিষয়টি আদালতে বিচারাধীন, সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে আরেক সমন্বয়ক হাসনাত আবদুল বলেন, ‘আমাদের দাবি নির্বাহী বিভাগের কাছে। কমিশন গঠন করে কোটার যৌক্তিক সংস্কারের লিখিত পরিপত্র জারি না করা পাওয়া পর্যন্ত রাজপথ ছাড়বে না আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা। আমার বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন মানুষ ও পিছিয়েপড়া জনগোষ্ঠীর জন্য সর্বোচ্চ ৫ শতাংশ কোটা থাকতে পারে বলে মনে করি।’

২০১৮ সালের ৪ অক্টোবর সরকারি চাকরিতে প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণীর পদে সরাসরি নিয়োগে বিদ্যমান কোটা পদ্ধতি তুলে দিয়ে পরিপত্র জারি করে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়। ওই প্রজ্ঞাপনকে চ্যালেঞ্জ করে মুক্তিযোদ্ধার সন্তান কেন্দ্রীয় কমান্ড কাউন্সিলের সাত সদস্য ২০২১ সালে হাইকোর্টে রিট আবেদন করেন। এই রিটের চূড়ান্ত শুনানিতে গত ৫ জুন সরকারি চাকরিতে প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণীর মুক্তিযোদ্ধা কোটা পদ্ধতি বাতিলের সিদ্ধান্ত অবৈধ ঘোষণা করে হাইকোর্ট।

এরপর ৯ জুন হাইকোর্টের রায় স্থগিত চেয়ে আবেদন করে রাষ্ট্রপক্ষ। গত ৪ জুলাই প্রধান বিচারপতি ওবায়দুল হাসানের নেতৃত্বে ছয় বিচারপতির আপিল বেঞ্চ সরকারি চাকরির প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণীতে মুক্তিযোদ্ধা কোটা পদ্ধতি বাতিলের সিদ্ধান্ত অবৈধ ঘোষণা করে হাইকোর্টের দেয়া রায় আপাতত বহাল রাখার নির্দেশ দেয়। আদালতের রায়ের বিরুদ্ধে গত ২ জুলাই থেকে আন্দোলনে নামে শিক্ষার্থীরা। সর্বশেষ ৭ ও ৮ জুলাই তারা দুপুরের পর থেকে রাত অব্দি রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন এলাকার সড়ক অবরোধ করে ‘বাংলা ব্লকেড’ কর্মসূচি পালন করেন।

গণসংযোগ-ক্লাস বর্জনের মধ্যে অবরোধ-বিক্ষোভ-মানববন্ধন

গত রোববার ও সোমবার ‘বাংলা ব্লকেড’ কর্মসূচি পালন করে এই কর্মসূচি গতকাল স্থগিত রাখা হয়েছিল। তবে ক্যাম্পাসে ধর্মঘট ও ক্লাস বর্জনের সঙ্গে গতকাল ‘কঠিন’ কর্মসূচির প্রস্তুতি হিসেবে ‘গণসংযোগ’ কর্মসূচি পালনের ঘোষণা দিয়েছিল।

সেই অনুযায়ী গতকাল সন্ধ্যায় নতুন কর্মসূচি ঘোষণার পর আন্দোলনরতরা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন হলে সকাল সন্ধ্যার ‘বাংলা ব্লকেড’ কর্মসূচির লিফলেট বিতরণ করেন।

এদিন ঢাকাসহ সারাদেশে ঘোষণা অনুযায়ী কর্মসূচি পালন অব্যাহত রাখেন বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা। সেই সঙ্গে কোথাও কোথাও ‘প্রতীকী’ সড়ক অবরোধ ও মানববন্ধনের মতো কর্মসূচিও পালিত হয়েছে।

এদিন দুপুরে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ে (বুয়েট) ১৫ মিনিটের মৌন মানববন্ধন কর্মসূচি পালিত হয়। বুয়েটের ১৯তম ব্যাচের শিক্ষার্থীদের আয়োজনে এই কর্মসূচিতে অংশ নেন শতাধিক শিক্ষার্থী।

মানববন্ধন কর্মসূচিতে শিক্ষার্থীদের কেউ বক্তব্য দেননি। তবে কর্মসূচির ব্যানারে লেখা ছিল ‘কোটা না মেধা? মেধা মেধা’। ব্যানারের নিচে ছিল ‘রিফর্ম কোটা’ লেখা হ্যাশট্যাগ।

মানববন্ধন শেষে বুয়েট শিক্ষার্থীরা সাংবাদিকদের একটি লিখিত বিবৃতি দেন। ওই বিবৃতিতে তারা চলমান কোটা সংস্কার আন্দোলনের সঙ্গে সংহতি জানান।

শিক্ষার্থীরা বলেন, ‘দেশের সব স্তরে কোটা সংস্কার নিয়ে যে আন্দোলন হচ্ছে, তা খুবই যৌক্তিক। আমরা বুয়েটের সাধারণ শিক্ষার্থীরা কোটা সংস্কার আন্দোলনের সঙ্গে সর্বাত্মকভাবে একাত্মতা ও সংহতি প্রকাশ করছি এবং আদালতের প্রতি মেধার মূল্যায়নকে সর্বাধিক গুরুত্ব দিয়ে সাধারণ শিক্ষার্থীদের দাবির পক্ষে অতি দ্রুত রায় দেয়ার জন্য অনুরোধ জানাচ্ছি।’

জাবির মহাসড়ক অবরোধ

আমাদের জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিনিধি জানান, কোটা সংস্কারের একদফা দাবিতে গতকাল ক্লাস বর্জনের পাশাপাশি গণসংযোগ করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। একই সঙ্গে ঢাকা-আরিচা মহাসড়কে ‘প্রতীকী’ অবরোধও করেন তারা।

এদিন বিকেল ৩টা থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারের সামনে জড়ো হতে থাকেন শিক্ষার্থীরা। এরপর সেখান থেকে মিছিল নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকের সামনের ঢাকা-আরিচা মহাসড়কে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ করেন। এ সময় তারা প্রায় ৩৫ মিনিট ঢাকা-আরিচা মহাসড়ক অবরোধ করে রাখেন।

আন্দোলনকারীরা বলেন, তাদের কেন্দ্র থেকে শুধু গণসংযোগ কর্মসূচি ঘোষণা করেছিল। কিন্তু তারা আন্দোলনের গতি ধরে রাখতে প্রতীকী অবরোধও করেছেন।

হবিগঞ্জে বিক্ষোভ

আমাদের হবিগঞ্জ প্রতিনিধি জানিয়েছেন, কোটা সংস্কারের দাবিতে সেখানে বিক্ষোভ মিছিল ও মানববন্ধন করেছেন শিক্ষার্থীরা।

এদিন দুপুরে শহরে সাধারণ শিক্ষার্থীদের ব্যানারে কর্মসূচি পালন করেন তারা। এ সময় শিক্ষার্থীরা ‘এই বাংলায় হবে না, বৈষম্যের ঠিকানা’, ‘সংবিধানের মূল কথা, সুযোগের সমতা’, ‘জেগেছে রে জেগেছে, ছাত্র সমাজ জেগেছে’ সহ নানা স্লোগান দেন শিক্ষার্থীরা। পরে বিক্ষোভ মিছিলটি শহর প্রদক্ষিণ শেষে বৃন্দাবন সরকারি কলেজে গিয়ে শেষ হয়।

বুধবার, ১০ জুলাই ২০২৪ , ২৬ আষাড় ১৪৩১ ৩ মহরম ১৪৪৫

কোটা : আজ সকাল-সন্ধ্যা সর্বাত্মক ‘বাংলা ব্লকেড’

নিজস্ব বার্তা পরিবেশক ও প্রতিনিধি, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়

image

কোটা বাতিলের দাবিতে গতকাল বুয়েটে মানববন্ধন করে শিক্ষার্থীরা -সংবাদ

একদিন স্থাগিত থাকার পর আজ আবারও ‘বাংলা ব্লকেড’ বা অবরোধ কর্মসূচিতে নামছে কোটা সংস্কার আন্দোলনকারীরা। আগে দুদিন বিকেলে একবেলা এই কর্মসূচি পালন করলেও এবার ‘সকাল-সন্ধ্যা’ পালনের ঘোষণাও দিয়েছেন তারা। সেই সঙ্গে এবার শুধু ঢাকায় নয়, সর্বাত্মক তথা সারাদেশই ‘বাংলা ব্লকেড’ কর্মসূচি পালন করবেন বলেও তারা জানিয়েছেন।

গতকাল সন্ধ্যায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারের সামনে এক সংবাদ সম্মেলনে নতুন কর্মসূচি ঘোষণা দেন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতারা। তারা বলেন, তাদের আন্দোলন কোটার বিরুদ্ধে নয়, ‘যৌক্তিকভাবে’ কোটা সংস্কার করা। তবে এই সিদ্ধান্ত নির্বাহী বিভাগ থেকে কমিশন গঠনের মাধ্যমে আসতে হবে। এবং সরকারের নির্বাহী বিভাগের কাছ থেকে লিখিত আশ্বাস চান তারা।

আন্দোলনের অন্যতম সমন্বয়ক নাহিদ ইসলাম সংবাদ সম্মেলনে বলেন, ‘শিক্ষার্থীরা কোটা সংস্কারের দাবিতে ১ জুলাই থেকে টানা আন্দোলন চলছে। প্রথমে ক্লাস পরীক্ষা বর্জন তারপর অবস্থান কর্মসূচি ও শাহবাগের সড়ক অবরোধ আর এখন চলছে বাংলা ব্লকেড। দুই দিনের ব্লকেডে চার থেকে পাঁচ ঘণ্টা করে কার্যত বন্ধ ছিল শহরের গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টগুলো। এবার সারাদেশের সব মহাসড়ক ও রেলপথ বাংলা ব্লকেডের আওতাভুক্ত থাকবে। তিনি আরও বলেন, ‘এই আন্দোলন শিক্ষার্থীরা নিজ উদ্যোগে করেনি। হাইকোর্টের রায়ের কারণে আন্দোলনের প্রেক্ষাপট তৈরি হয়েছে। অনেকে সাধারণ মানুষের ভোগান্তির কথা বলছেন। আমরাও চাই না সাধারণ মানুষের কোনো ভোগান্তি তৈরি হোক। কিন্তু এখনো নির্বাহী বিভাগের সঙ্গে আমাদের কোনো আলোচনা বা আশ্বাস পাইনি। সংসদে আইন পাসের মাধ্যমে কোটা বৈষম্য নিরসনের কথা বলছি।’

কোটার বিষয়টি আদালতে বিচারাধীন, সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে আরেক সমন্বয়ক হাসনাত আবদুল বলেন, ‘আমাদের দাবি নির্বাহী বিভাগের কাছে। কমিশন গঠন করে কোটার যৌক্তিক সংস্কারের লিখিত পরিপত্র জারি না করা পাওয়া পর্যন্ত রাজপথ ছাড়বে না আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা। আমার বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন মানুষ ও পিছিয়েপড়া জনগোষ্ঠীর জন্য সর্বোচ্চ ৫ শতাংশ কোটা থাকতে পারে বলে মনে করি।’

২০১৮ সালের ৪ অক্টোবর সরকারি চাকরিতে প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণীর পদে সরাসরি নিয়োগে বিদ্যমান কোটা পদ্ধতি তুলে দিয়ে পরিপত্র জারি করে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়। ওই প্রজ্ঞাপনকে চ্যালেঞ্জ করে মুক্তিযোদ্ধার সন্তান কেন্দ্রীয় কমান্ড কাউন্সিলের সাত সদস্য ২০২১ সালে হাইকোর্টে রিট আবেদন করেন। এই রিটের চূড়ান্ত শুনানিতে গত ৫ জুন সরকারি চাকরিতে প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণীর মুক্তিযোদ্ধা কোটা পদ্ধতি বাতিলের সিদ্ধান্ত অবৈধ ঘোষণা করে হাইকোর্ট।

এরপর ৯ জুন হাইকোর্টের রায় স্থগিত চেয়ে আবেদন করে রাষ্ট্রপক্ষ। গত ৪ জুলাই প্রধান বিচারপতি ওবায়দুল হাসানের নেতৃত্বে ছয় বিচারপতির আপিল বেঞ্চ সরকারি চাকরির প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণীতে মুক্তিযোদ্ধা কোটা পদ্ধতি বাতিলের সিদ্ধান্ত অবৈধ ঘোষণা করে হাইকোর্টের দেয়া রায় আপাতত বহাল রাখার নির্দেশ দেয়। আদালতের রায়ের বিরুদ্ধে গত ২ জুলাই থেকে আন্দোলনে নামে শিক্ষার্থীরা। সর্বশেষ ৭ ও ৮ জুলাই তারা দুপুরের পর থেকে রাত অব্দি রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন এলাকার সড়ক অবরোধ করে ‘বাংলা ব্লকেড’ কর্মসূচি পালন করেন।

গণসংযোগ-ক্লাস বর্জনের মধ্যে অবরোধ-বিক্ষোভ-মানববন্ধন

গত রোববার ও সোমবার ‘বাংলা ব্লকেড’ কর্মসূচি পালন করে এই কর্মসূচি গতকাল স্থগিত রাখা হয়েছিল। তবে ক্যাম্পাসে ধর্মঘট ও ক্লাস বর্জনের সঙ্গে গতকাল ‘কঠিন’ কর্মসূচির প্রস্তুতি হিসেবে ‘গণসংযোগ’ কর্মসূচি পালনের ঘোষণা দিয়েছিল।

সেই অনুযায়ী গতকাল সন্ধ্যায় নতুন কর্মসূচি ঘোষণার পর আন্দোলনরতরা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন হলে সকাল সন্ধ্যার ‘বাংলা ব্লকেড’ কর্মসূচির লিফলেট বিতরণ করেন।

এদিন ঢাকাসহ সারাদেশে ঘোষণা অনুযায়ী কর্মসূচি পালন অব্যাহত রাখেন বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা। সেই সঙ্গে কোথাও কোথাও ‘প্রতীকী’ সড়ক অবরোধ ও মানববন্ধনের মতো কর্মসূচিও পালিত হয়েছে।

এদিন দুপুরে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ে (বুয়েট) ১৫ মিনিটের মৌন মানববন্ধন কর্মসূচি পালিত হয়। বুয়েটের ১৯তম ব্যাচের শিক্ষার্থীদের আয়োজনে এই কর্মসূচিতে অংশ নেন শতাধিক শিক্ষার্থী।

মানববন্ধন কর্মসূচিতে শিক্ষার্থীদের কেউ বক্তব্য দেননি। তবে কর্মসূচির ব্যানারে লেখা ছিল ‘কোটা না মেধা? মেধা মেধা’। ব্যানারের নিচে ছিল ‘রিফর্ম কোটা’ লেখা হ্যাশট্যাগ।

মানববন্ধন শেষে বুয়েট শিক্ষার্থীরা সাংবাদিকদের একটি লিখিত বিবৃতি দেন। ওই বিবৃতিতে তারা চলমান কোটা সংস্কার আন্দোলনের সঙ্গে সংহতি জানান।

শিক্ষার্থীরা বলেন, ‘দেশের সব স্তরে কোটা সংস্কার নিয়ে যে আন্দোলন হচ্ছে, তা খুবই যৌক্তিক। আমরা বুয়েটের সাধারণ শিক্ষার্থীরা কোটা সংস্কার আন্দোলনের সঙ্গে সর্বাত্মকভাবে একাত্মতা ও সংহতি প্রকাশ করছি এবং আদালতের প্রতি মেধার মূল্যায়নকে সর্বাধিক গুরুত্ব দিয়ে সাধারণ শিক্ষার্থীদের দাবির পক্ষে অতি দ্রুত রায় দেয়ার জন্য অনুরোধ জানাচ্ছি।’

জাবির মহাসড়ক অবরোধ

আমাদের জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিনিধি জানান, কোটা সংস্কারের একদফা দাবিতে গতকাল ক্লাস বর্জনের পাশাপাশি গণসংযোগ করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। একই সঙ্গে ঢাকা-আরিচা মহাসড়কে ‘প্রতীকী’ অবরোধও করেন তারা।

এদিন বিকেল ৩টা থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারের সামনে জড়ো হতে থাকেন শিক্ষার্থীরা। এরপর সেখান থেকে মিছিল নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকের সামনের ঢাকা-আরিচা মহাসড়কে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ করেন। এ সময় তারা প্রায় ৩৫ মিনিট ঢাকা-আরিচা মহাসড়ক অবরোধ করে রাখেন।

আন্দোলনকারীরা বলেন, তাদের কেন্দ্র থেকে শুধু গণসংযোগ কর্মসূচি ঘোষণা করেছিল। কিন্তু তারা আন্দোলনের গতি ধরে রাখতে প্রতীকী অবরোধও করেছেন।

হবিগঞ্জে বিক্ষোভ

আমাদের হবিগঞ্জ প্রতিনিধি জানিয়েছেন, কোটা সংস্কারের দাবিতে সেখানে বিক্ষোভ মিছিল ও মানববন্ধন করেছেন শিক্ষার্থীরা।

এদিন দুপুরে শহরে সাধারণ শিক্ষার্থীদের ব্যানারে কর্মসূচি পালন করেন তারা। এ সময় শিক্ষার্থীরা ‘এই বাংলায় হবে না, বৈষম্যের ঠিকানা’, ‘সংবিধানের মূল কথা, সুযোগের সমতা’, ‘জেগেছে রে জেগেছে, ছাত্র সমাজ জেগেছে’ সহ নানা স্লোগান দেন শিক্ষার্থীরা। পরে বিক্ষোভ মিছিলটি শহর প্রদক্ষিণ শেষে বৃন্দাবন সরকারি কলেজে গিয়ে শেষ হয়।