উন্নত বাংলাদেশ গড়তে এআইআইবি’র সহায়তা চান প্রধানমন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বাংলাদেশকে ২০৪১ সালের মধ্যে একটি উন্নত, সমৃদ্ধ এবং ডিজিটাল দেশে রূপান্তর করতে এশিয়ান ইনফ্রাস্ট্রাকচার অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্ট ব্যাংকের (এআইআইবি) কাছ থেকে সহযোগিতার আহ্বান জানিয়েছেন।

তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশের উন্নয়ন যাত্রা এবং ২০৪১ সালের মধ্যে দেশকে একটি উন্নত ও সমৃদ্ধ দেশে রূপান্তরের স্বপ্ন বাস্তবায়নে এআইআইবি ভবিষ্যতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে।’

এআইআইবির প্রেসিডেন্ট জিন লিকুনের নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধিদল প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাতের সময় প্রধানমন্ত্রী এ মন্তব্য করেন।

চীন সফরের দ্বিতীয় দিনের কর্মকা- সম্পর্কে সাংবাদিকদের ব্রিফিংকালে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ এক সংবাদ ব্রিফিংয়ে এ তথ্য জানান।

বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশের অবকাঠামোগত উন্নয়ন, নদী খনন এবং জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব থেকে দেশকে রক্ষা করার লক্ষ্যে জলবায়ু সহিষ্ণুতা গড়ে তোলার জন্য এআইআইবির কাছে অর্থ সহায়তা চেয়েছেন।

তার সরকার উপকূলীয় অঞ্চলে জলবায়ু সহিষ্ণু বাড়িঘর নির্মাণ করছে উল্লেখ করে তিনি এই লক্ষ্যে আর্থিক সহায়তা চেয়েছেন।

প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশের উন্নয়নে এআইআইবি এর অবদানের কথাও স্মরণ করেন। তিনি বলেন, এশিয়ান ইনফ্রাস্ট্রাকচার অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্ট ব্যাংক অতীতে বাংলাদেশের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে।

শেখ হাসিনা বাংলাদেশের জন্য ঋণের সুদের হার আরও কমানোর জন্য এআইআইবিকে অনুরোধ করেন।

জবাবে এআইআইবি প্রেসিডেন্ট বলেন, ব্যাংকটি এর আগে বাংলাদেশের জন্য বিশেষ ছাড় দিয়েছে এবং আবারও অনুরূপ সুবিধা দেয়ার কথা বিবেচনা করবে। তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশ তার ব্যাংকের সবচেয়ে বড় ঋণগ্রহীতা।

এআইআইবির ভাইস প্রেসিডেন্ট এবং ব্যাংকের অন্যান্য ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা এ সময় এআইআইবি প্রেসিডেন্টের সঙ্গে ছিলেন।

বাংলাদেশে বিনিয়োগের এখনই উপযুক্ত সময় : চীনা ব্যবসায়ীদের প্রতি প্রধানমন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা চীনা ব্যবসায়ী সম্প্রদায়কে পারস্পরিক স্বার্থে বিশ্বের সবচেয়ে উদার বিনিয়োগ ব্যবস্থার সুবিধা নিয়ে বাংলাদেশের প্রধান খাতে বিনিয়োগের আহ্বান জানিয়েছেন।

বেইজিংয়ে ‘বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যে বাণিজ্য, ব্যবসা এবং বিনিয়োগের সুযোগ’ শীর্ষক এক শীর্ষ সম্মেলনে বক্তৃতাকালে তিনি বলেন, ‘এখন বাংলাদেশে বিনিয়োগের সময় এবং আমি আত্মবিশ্বাসী যে আমাদের হাতে হাত মিলিয়ে একসঙ্গে আমরা দুর্দান্ত কিছু অর্জন করতে পারি।’

প্রধানমন্ত্রী চীনা ব্যবসায়ী সম্প্রদায়কে বাংলাদেশের মূল খাতগুলো বিবেচনা করার জন্য উৎসাহিত করে বলেন, ‘আমরা আমাদের অবকাঠামো, জ্বালানি এবং লজিস্টিক খাতে বিনিয়োগকে স্বাগত জানাই’।

চীনে তার চারদিনের দ্বিপক্ষীয় সফরের দ্বিতীয় দিনে সম্মেলনে যোগ দিয়ে তিনি বাংলাদেশের সম্ভাব্য খাত আইসিটি, পর্যটন, কৃষি প্রক্রিয়াকরণ শিল্প এবং উন্নয়ন খাতে বৃহত্তর পরিমাণে বিনিয়োগ করার জন্য চীনা উদ্যোক্তাদের এবং বিনিয়োগকারীদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন।

বেইজিংয়ে বাংলাদেশ দূতাবাস, বিআইডিএ, বিএসইসি এবং সিসিপিআইটি চায়না ওয়ার্ল্ড সামিট উইং, শাংরি-লা সার্কেল, বেইজিং-এ এই সম্মেলনের আয়োজন করে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা বিশ্বাস করি চীনা বিনিয়োগের উল্লেখযোগ্য সম্ভাবনা রয়েছে, বিশেষ করে নবায়নযোগ্য জ্বালানিসহ জ্বালানি খাতে।’

তিনি আরও বলেন, জলবায়ু-সহনশীল স্মার্ট ফার্মিং চীনের সঙ্গে ক্রয়-ব্যাক ব্যবস্থাসহ কৃষি-প্রক্রিয়াকরণ শিল্পে সহযোগিতার সুযোগ উন্মুক্ত করে।

শেখ হাসিনা বলেন, তারা তিনটি বিশেষ পর্যটন অঞ্চল প্রতিষ্ঠার পরিকল্পনা করছে যেখানে চীন রিয়েল এস্টেট এবং আতিথেয়তা খাতে বিনিয়োগ করতে পারে।

তিনি আরও বলেন, আমি চীনা বিনিয়োগকারীদের বাংলাদেশে পোর্টফোলিও বিনিয়োগ অন্বেষণ করার আহ্বান জানাচ্ছি।

তিনি বলেন, ‘আমরা দক্ষিণ এশীয়, দক্ষিণ-পূর্ব এশীয় এবং পূর্ব এশীয় প্রবৃদ্ধি সার্কিটের সংযোগস্থলে রয়েছি। আমাদের সমুদ্রবন্দর, বিমানবন্দর এবং স্থল পথগুলোকে আন্তর্জাতিক মান পূরণের জন্য ক্রমাগত উন্নীত, দক্ষ এবং নির্বিঘœ লজিস্টিক নিশ্চিত করা হচ্ছে।’

তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশের বিশাল অভ্যন্তরীণ বাজার এবং এর সংলগ্ন বাজারসমূহে সমগ্র অঞ্চলের জন্য অফুরন্ত সুযোগ রয়েছে।

শেখ হাসিনা বলেন, ‘বিনিয়োগকারী হিসেবে আপনি দেখতে পারেন যে বাংলাদেশ আপনার ব্যবসায়িক কার্যক্রমকে লাভজনক করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ বিশ্বের অন্যতম উদার বিনিয়োগ ব্যবস্থা প্রদান করছে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, চীন আমাদের সবচেয়ে বড় অংশীদার। দেশটির সঙ্গে বছর বছর আমাদের বাণিজ্যের পরিমাণ বাড়ছে।

তবে দু’দেশের বাণিজ্যিক সম্পর্ক আরও সম্প্রসারিত করার অপার সম্ভাবনা রয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

তিনি বলেন, ‘আমরা বাণিজ্য ভারসাম্যহীনতা মোকাবিলা করতে এবং আরও ন্যায়সঙ্গত বাণিজ্যিক সম্পর্ক তৈরি করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।’

বাংলাদেশ টেক্সটাইল, গার্মেন্টস, চামড়াজাত, পাটজাত ও কৃষিজাত পণ্যসহ চীনে আরও পণ্য রপ্তানি করতে আগ্রহী উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘আমরা আমাদের রপ্তানিমুখী শিল্পে চীনা বিনিয়োগকে স্বাগত জানাই, যা আমাদের রপ্তানিতে বৈচিত্র্য আনতে এবং বাণিজ্য ঘাটতি কমাতে সাহায্য করবে।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ব্যবসায়িক সহযোগিতা বাড়াতে বাংলাদেশ চীনা কোম্পানি গুলোকে বাংলাদেশি কোম্পানি গুলোর সঙ্গে যৌথ উদ্যোগ গঠনে উৎসাহিত করছে।

এই সহযোগিতা উভয় পক্ষের জন্য প্রযুক্তি স্থানান্তর, দক্ষতা উন্নয়ন এবং বাজারে প্রবেশকে সহজতর করবে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

তিনি তার মতামত ব্যক্ত করে বলেন, উদ্ভাবন এবং প্রতিযোগিতা বৃদ্ধির জন্য গবেষণা ও উন্নয়নে বিনিয়োগ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

শেখ হাসিনা বলেন, ‘আমরা আমাদের দক্ষ কর্মশক্তি এবং একাডেমিক দক্ষতা ব্যবহার করে চীনা কোম্পানি গুলোকে বাংলাদেশে গবেষণা ও উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপনের জন্য আমন্ত্রণ জানাই।’

তিনি বলেন, ‘আমরা যদি ভবিষ্যতের দিকে তাকাই তাহলে বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যে অংশীদারিত্বে সীমাহীন প্রতিশ্রুতি লক্ষ্য করবো। অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি, প্রযুক্তিগত অগ্রগতি এবং টেকসই উন্নয়নের জন্য আমাদের অভিন্ন লক্ষ্য দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের ভিত্তিপ্রস্তর তৈরি করছে।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, দুই দেশ একসঙ্গে একটি সমৃদ্ধ ভবিষ্যত তৈরি করতে পারে যা আমাদের দেশ ও জনগণ উভয়কে উপকৃত করবে।

তিনি বলেন, ‘আসুন আমরা একটি শক্তিশালী, আরও সমৃদ্ধ এবং আরও সংযুক্ত বিশ্ব গড়তে একসঙ্গে কাজ করি।’

বাংলাদেশে ব্যবসা ও বিনিয়োগের সুযোগ অন্বেষণে চীনা ব্যবসায়ী সম্প্রদায়ের আগ্রহের প্রশংসা করে শেখ হাসিনা বলেন, ‘এই অনুষ্ঠান বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যে শক্তিশালী ও স্থায়ী বন্ধুত্বের প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ ও চীনের দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতা ও পারস্পরিক সমর্থনের দীর্ঘ ঐতিহ্য রয়েছে।

তিনি আরও বলেন, ‘চীন আমাদের অবকাঠামো প্রকল্প, প্রযুক্তিগত অগ্রগতি এবং আমাদের অর্থনীতির সামগ্রিক প্রবৃদ্ধিতে উল্লেখযোগ্যভাবে অবদান রাখছে।’

শেখ হাসিনা উল্লেখ করেন যে, বাংলাদেশ ও চীনের বাণিজ্য ও বিনিয়োগে আরও সহযোগিতার নতুন ক্ষেত্র খুঁজে বের করার সময় এসেছে।

বুধবার, ১০ জুলাই ২০২৪ , ২৬ আষাড় ১৪৩১ ৩ মহরম ১৪৪৫

উন্নত বাংলাদেশ গড়তে এআইআইবি’র সহায়তা চান প্রধানমন্ত্রী

বাসস

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বাংলাদেশকে ২০৪১ সালের মধ্যে একটি উন্নত, সমৃদ্ধ এবং ডিজিটাল দেশে রূপান্তর করতে এশিয়ান ইনফ্রাস্ট্রাকচার অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্ট ব্যাংকের (এআইআইবি) কাছ থেকে সহযোগিতার আহ্বান জানিয়েছেন।

তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশের উন্নয়ন যাত্রা এবং ২০৪১ সালের মধ্যে দেশকে একটি উন্নত ও সমৃদ্ধ দেশে রূপান্তরের স্বপ্ন বাস্তবায়নে এআইআইবি ভবিষ্যতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে।’

এআইআইবির প্রেসিডেন্ট জিন লিকুনের নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধিদল প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাতের সময় প্রধানমন্ত্রী এ মন্তব্য করেন।

চীন সফরের দ্বিতীয় দিনের কর্মকা- সম্পর্কে সাংবাদিকদের ব্রিফিংকালে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ এক সংবাদ ব্রিফিংয়ে এ তথ্য জানান।

বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশের অবকাঠামোগত উন্নয়ন, নদী খনন এবং জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব থেকে দেশকে রক্ষা করার লক্ষ্যে জলবায়ু সহিষ্ণুতা গড়ে তোলার জন্য এআইআইবির কাছে অর্থ সহায়তা চেয়েছেন।

তার সরকার উপকূলীয় অঞ্চলে জলবায়ু সহিষ্ণু বাড়িঘর নির্মাণ করছে উল্লেখ করে তিনি এই লক্ষ্যে আর্থিক সহায়তা চেয়েছেন।

প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশের উন্নয়নে এআইআইবি এর অবদানের কথাও স্মরণ করেন। তিনি বলেন, এশিয়ান ইনফ্রাস্ট্রাকচার অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্ট ব্যাংক অতীতে বাংলাদেশের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে।

শেখ হাসিনা বাংলাদেশের জন্য ঋণের সুদের হার আরও কমানোর জন্য এআইআইবিকে অনুরোধ করেন।

জবাবে এআইআইবি প্রেসিডেন্ট বলেন, ব্যাংকটি এর আগে বাংলাদেশের জন্য বিশেষ ছাড় দিয়েছে এবং আবারও অনুরূপ সুবিধা দেয়ার কথা বিবেচনা করবে। তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশ তার ব্যাংকের সবচেয়ে বড় ঋণগ্রহীতা।

এআইআইবির ভাইস প্রেসিডেন্ট এবং ব্যাংকের অন্যান্য ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা এ সময় এআইআইবি প্রেসিডেন্টের সঙ্গে ছিলেন।

বাংলাদেশে বিনিয়োগের এখনই উপযুক্ত সময় : চীনা ব্যবসায়ীদের প্রতি প্রধানমন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা চীনা ব্যবসায়ী সম্প্রদায়কে পারস্পরিক স্বার্থে বিশ্বের সবচেয়ে উদার বিনিয়োগ ব্যবস্থার সুবিধা নিয়ে বাংলাদেশের প্রধান খাতে বিনিয়োগের আহ্বান জানিয়েছেন।

বেইজিংয়ে ‘বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যে বাণিজ্য, ব্যবসা এবং বিনিয়োগের সুযোগ’ শীর্ষক এক শীর্ষ সম্মেলনে বক্তৃতাকালে তিনি বলেন, ‘এখন বাংলাদেশে বিনিয়োগের সময় এবং আমি আত্মবিশ্বাসী যে আমাদের হাতে হাত মিলিয়ে একসঙ্গে আমরা দুর্দান্ত কিছু অর্জন করতে পারি।’

প্রধানমন্ত্রী চীনা ব্যবসায়ী সম্প্রদায়কে বাংলাদেশের মূল খাতগুলো বিবেচনা করার জন্য উৎসাহিত করে বলেন, ‘আমরা আমাদের অবকাঠামো, জ্বালানি এবং লজিস্টিক খাতে বিনিয়োগকে স্বাগত জানাই’।

চীনে তার চারদিনের দ্বিপক্ষীয় সফরের দ্বিতীয় দিনে সম্মেলনে যোগ দিয়ে তিনি বাংলাদেশের সম্ভাব্য খাত আইসিটি, পর্যটন, কৃষি প্রক্রিয়াকরণ শিল্প এবং উন্নয়ন খাতে বৃহত্তর পরিমাণে বিনিয়োগ করার জন্য চীনা উদ্যোক্তাদের এবং বিনিয়োগকারীদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন।

বেইজিংয়ে বাংলাদেশ দূতাবাস, বিআইডিএ, বিএসইসি এবং সিসিপিআইটি চায়না ওয়ার্ল্ড সামিট উইং, শাংরি-লা সার্কেল, বেইজিং-এ এই সম্মেলনের আয়োজন করে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা বিশ্বাস করি চীনা বিনিয়োগের উল্লেখযোগ্য সম্ভাবনা রয়েছে, বিশেষ করে নবায়নযোগ্য জ্বালানিসহ জ্বালানি খাতে।’

তিনি আরও বলেন, জলবায়ু-সহনশীল স্মার্ট ফার্মিং চীনের সঙ্গে ক্রয়-ব্যাক ব্যবস্থাসহ কৃষি-প্রক্রিয়াকরণ শিল্পে সহযোগিতার সুযোগ উন্মুক্ত করে।

শেখ হাসিনা বলেন, তারা তিনটি বিশেষ পর্যটন অঞ্চল প্রতিষ্ঠার পরিকল্পনা করছে যেখানে চীন রিয়েল এস্টেট এবং আতিথেয়তা খাতে বিনিয়োগ করতে পারে।

তিনি আরও বলেন, আমি চীনা বিনিয়োগকারীদের বাংলাদেশে পোর্টফোলিও বিনিয়োগ অন্বেষণ করার আহ্বান জানাচ্ছি।

তিনি বলেন, ‘আমরা দক্ষিণ এশীয়, দক্ষিণ-পূর্ব এশীয় এবং পূর্ব এশীয় প্রবৃদ্ধি সার্কিটের সংযোগস্থলে রয়েছি। আমাদের সমুদ্রবন্দর, বিমানবন্দর এবং স্থল পথগুলোকে আন্তর্জাতিক মান পূরণের জন্য ক্রমাগত উন্নীত, দক্ষ এবং নির্বিঘœ লজিস্টিক নিশ্চিত করা হচ্ছে।’

তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশের বিশাল অভ্যন্তরীণ বাজার এবং এর সংলগ্ন বাজারসমূহে সমগ্র অঞ্চলের জন্য অফুরন্ত সুযোগ রয়েছে।

শেখ হাসিনা বলেন, ‘বিনিয়োগকারী হিসেবে আপনি দেখতে পারেন যে বাংলাদেশ আপনার ব্যবসায়িক কার্যক্রমকে লাভজনক করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ বিশ্বের অন্যতম উদার বিনিয়োগ ব্যবস্থা প্রদান করছে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, চীন আমাদের সবচেয়ে বড় অংশীদার। দেশটির সঙ্গে বছর বছর আমাদের বাণিজ্যের পরিমাণ বাড়ছে।

তবে দু’দেশের বাণিজ্যিক সম্পর্ক আরও সম্প্রসারিত করার অপার সম্ভাবনা রয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

তিনি বলেন, ‘আমরা বাণিজ্য ভারসাম্যহীনতা মোকাবিলা করতে এবং আরও ন্যায়সঙ্গত বাণিজ্যিক সম্পর্ক তৈরি করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।’

বাংলাদেশ টেক্সটাইল, গার্মেন্টস, চামড়াজাত, পাটজাত ও কৃষিজাত পণ্যসহ চীনে আরও পণ্য রপ্তানি করতে আগ্রহী উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘আমরা আমাদের রপ্তানিমুখী শিল্পে চীনা বিনিয়োগকে স্বাগত জানাই, যা আমাদের রপ্তানিতে বৈচিত্র্য আনতে এবং বাণিজ্য ঘাটতি কমাতে সাহায্য করবে।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ব্যবসায়িক সহযোগিতা বাড়াতে বাংলাদেশ চীনা কোম্পানি গুলোকে বাংলাদেশি কোম্পানি গুলোর সঙ্গে যৌথ উদ্যোগ গঠনে উৎসাহিত করছে।

এই সহযোগিতা উভয় পক্ষের জন্য প্রযুক্তি স্থানান্তর, দক্ষতা উন্নয়ন এবং বাজারে প্রবেশকে সহজতর করবে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

তিনি তার মতামত ব্যক্ত করে বলেন, উদ্ভাবন এবং প্রতিযোগিতা বৃদ্ধির জন্য গবেষণা ও উন্নয়নে বিনিয়োগ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

শেখ হাসিনা বলেন, ‘আমরা আমাদের দক্ষ কর্মশক্তি এবং একাডেমিক দক্ষতা ব্যবহার করে চীনা কোম্পানি গুলোকে বাংলাদেশে গবেষণা ও উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপনের জন্য আমন্ত্রণ জানাই।’

তিনি বলেন, ‘আমরা যদি ভবিষ্যতের দিকে তাকাই তাহলে বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যে অংশীদারিত্বে সীমাহীন প্রতিশ্রুতি লক্ষ্য করবো। অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি, প্রযুক্তিগত অগ্রগতি এবং টেকসই উন্নয়নের জন্য আমাদের অভিন্ন লক্ষ্য দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের ভিত্তিপ্রস্তর তৈরি করছে।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, দুই দেশ একসঙ্গে একটি সমৃদ্ধ ভবিষ্যত তৈরি করতে পারে যা আমাদের দেশ ও জনগণ উভয়কে উপকৃত করবে।

তিনি বলেন, ‘আসুন আমরা একটি শক্তিশালী, আরও সমৃদ্ধ এবং আরও সংযুক্ত বিশ্ব গড়তে একসঙ্গে কাজ করি।’

বাংলাদেশে ব্যবসা ও বিনিয়োগের সুযোগ অন্বেষণে চীনা ব্যবসায়ী সম্প্রদায়ের আগ্রহের প্রশংসা করে শেখ হাসিনা বলেন, ‘এই অনুষ্ঠান বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যে শক্তিশালী ও স্থায়ী বন্ধুত্বের প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ ও চীনের দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতা ও পারস্পরিক সমর্থনের দীর্ঘ ঐতিহ্য রয়েছে।

তিনি আরও বলেন, ‘চীন আমাদের অবকাঠামো প্রকল্প, প্রযুক্তিগত অগ্রগতি এবং আমাদের অর্থনীতির সামগ্রিক প্রবৃদ্ধিতে উল্লেখযোগ্যভাবে অবদান রাখছে।’

শেখ হাসিনা উল্লেখ করেন যে, বাংলাদেশ ও চীনের বাণিজ্য ও বিনিয়োগে আরও সহযোগিতার নতুন ক্ষেত্র খুঁজে বের করার সময় এসেছে।