জনবসতিতে কেন সিসা গলানো কারখানা

মুন্সীগঞ্জের শ্রীনগরে সিসা গলানো কারখানাগুলোর প্রয়োজনীয় কাগজপত্র নেই। এসব কারখানায় শুধু সিসা গলানো হয় না, তামা, পিতল প্রভৃতি গলানো হয়। কারখানার ধোঁয়ায় বিপন্ন হচ্ছে পরিবেশ। জনস্বাস্থ্য পড়েছে হুমকির মুখে।

অতীতে ভ্রাম্যমাণ আদালত অভিযান চালিয়ে এসব কারখানার বিরুদ্ধে কিছু ব্যবস্থা নিয়েছে। অভিযানের পর কারখানাগুলো সাময়িকভাবে বন্ধ থাকে। তবে দু-এক মাস পার আবার কার্যক্রম শুরু হয়। এ নিয়ে গত সোমবার সংবাদ-এ বিস্তারিত প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে।

শুধু মুন্সীগঞ্জেই নয়, সিসা তৈরির এমন অনেক কারখানা গড়ে উঠেছে দেশের অন্যান্য অঞ্চলেও। এসব কারখানার না আছে পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়পত্র, না আছে ট্রেড লাইসেন্স। সিসা গলানো বা তৈরি করার ক্ষেত্রে ব্যবহার করা হয় না নিরাপদ চুলা। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সিসা তৈরির কারখানা থেকে ক্ষতিকর ও বিষাক্ত রাসায়নিক পদার্থ নির্গত হয়। এর প্রভাবে পরিবেশের ক্ষতি হয়। জনস্বাস্থ্যের ওপরও বিরূপ প্রভাব পড়ে। গবেষকরা বলছেন, সিসা যদি মাটির সঙ্গে মেশে তাহলে শত শত বছর বিদ্যমান থাকবে। তখন প্রজন্মের পর প্রজন্ম আক্রান্ত হবে সিসা দূষণে। এছাড়া কারখানায় কর্মরত শ্রমিকদের মধ্যেও স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি হয়।

প্রশ্ন হচ্ছে, প্রশাসনের নাকের ডগায় এসব কারখানা গড়ে ওঠে কীভাবে। অভিযোগ রয়েছে যে, যারা এ ধরনের কারখানা গড়ে তোলে তারা স্থানীয়ভাবে প্রভাবশালী। যে কারণে তাদের বিরুদ্ধে অনেক সময় ব্যবস্থা নেয়া হয় না। আবার অনেক সময় প্রশাসনকে ম্যানেজ করেই এই গোষ্ঠী অন্যায় তৎপরতা চালায়।

কারখানা স্থাপনের জন্য দেশে আইন আছে। কোথায় কোন কারখানা স্থাপন করা যাবে না, কারখানা স্থাপন করতে হলে কী ব্যবস্থা থাকতে হবে সেটা আইনে বলা আছে। সমস্যা হচ্ছে, আইনের কঠোর প্রয়োগ হয় না। আইনের কঠোর প্রয়োগ করা হলে এভাবে জনবসতিতে সিসা কারখানা গড়ে উঠতে পারত না।

আমরা বলতে চাই, শ্রীনগরে জনবসতিতে যে সিসা কারখানা গড়ে উঠেছে তার বৈধতা যাচাই করে দেখতে হবে। কারখানা প্রতিষ্ঠা বা পরিচালনায় আইন না মানা হলে এসব কারখানা উচ্ছেদ করতে হবে। যে বা যারা কারখানা স্থাপন করেছে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিয়ে দৃষ্টান্ত স্থাপন করা জরুরি। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ দ্রুত ব্যবস্থা নিচ্ছে এমনটাই আমরা দেখতে চাই।

বুধবার, ১০ জুলাই ২০২৪ , ২৬ আষাড় ১৪৩১ ৩ মহরম ১৪৪৫

জনবসতিতে কেন সিসা গলানো কারখানা

মুন্সীগঞ্জের শ্রীনগরে সিসা গলানো কারখানাগুলোর প্রয়োজনীয় কাগজপত্র নেই। এসব কারখানায় শুধু সিসা গলানো হয় না, তামা, পিতল প্রভৃতি গলানো হয়। কারখানার ধোঁয়ায় বিপন্ন হচ্ছে পরিবেশ। জনস্বাস্থ্য পড়েছে হুমকির মুখে।

অতীতে ভ্রাম্যমাণ আদালত অভিযান চালিয়ে এসব কারখানার বিরুদ্ধে কিছু ব্যবস্থা নিয়েছে। অভিযানের পর কারখানাগুলো সাময়িকভাবে বন্ধ থাকে। তবে দু-এক মাস পার আবার কার্যক্রম শুরু হয়। এ নিয়ে গত সোমবার সংবাদ-এ বিস্তারিত প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে।

শুধু মুন্সীগঞ্জেই নয়, সিসা তৈরির এমন অনেক কারখানা গড়ে উঠেছে দেশের অন্যান্য অঞ্চলেও। এসব কারখানার না আছে পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়পত্র, না আছে ট্রেড লাইসেন্স। সিসা গলানো বা তৈরি করার ক্ষেত্রে ব্যবহার করা হয় না নিরাপদ চুলা। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সিসা তৈরির কারখানা থেকে ক্ষতিকর ও বিষাক্ত রাসায়নিক পদার্থ নির্গত হয়। এর প্রভাবে পরিবেশের ক্ষতি হয়। জনস্বাস্থ্যের ওপরও বিরূপ প্রভাব পড়ে। গবেষকরা বলছেন, সিসা যদি মাটির সঙ্গে মেশে তাহলে শত শত বছর বিদ্যমান থাকবে। তখন প্রজন্মের পর প্রজন্ম আক্রান্ত হবে সিসা দূষণে। এছাড়া কারখানায় কর্মরত শ্রমিকদের মধ্যেও স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি হয়।

প্রশ্ন হচ্ছে, প্রশাসনের নাকের ডগায় এসব কারখানা গড়ে ওঠে কীভাবে। অভিযোগ রয়েছে যে, যারা এ ধরনের কারখানা গড়ে তোলে তারা স্থানীয়ভাবে প্রভাবশালী। যে কারণে তাদের বিরুদ্ধে অনেক সময় ব্যবস্থা নেয়া হয় না। আবার অনেক সময় প্রশাসনকে ম্যানেজ করেই এই গোষ্ঠী অন্যায় তৎপরতা চালায়।

কারখানা স্থাপনের জন্য দেশে আইন আছে। কোথায় কোন কারখানা স্থাপন করা যাবে না, কারখানা স্থাপন করতে হলে কী ব্যবস্থা থাকতে হবে সেটা আইনে বলা আছে। সমস্যা হচ্ছে, আইনের কঠোর প্রয়োগ হয় না। আইনের কঠোর প্রয়োগ করা হলে এভাবে জনবসতিতে সিসা কারখানা গড়ে উঠতে পারত না।

আমরা বলতে চাই, শ্রীনগরে জনবসতিতে যে সিসা কারখানা গড়ে উঠেছে তার বৈধতা যাচাই করে দেখতে হবে। কারখানা প্রতিষ্ঠা বা পরিচালনায় আইন না মানা হলে এসব কারখানা উচ্ছেদ করতে হবে। যে বা যারা কারখানা স্থাপন করেছে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিয়ে দৃষ্টান্ত স্থাপন করা জরুরি। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ দ্রুত ব্যবস্থা নিচ্ছে এমনটাই আমরা দেখতে চাই।