বোয়ালমারীতে চাল আত্মসাতের অভিযোগ

ফরিদপুরের বোয়ালমারী উপজেলার শেখর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ৪০ জন সুবিধাবঞ্চিত অসহায় মানুষের নামে বরাদ্দ দেয়া চাল আত্মসাৎ করেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। তিনি ঘুষ নিয়ে ২৪০ জন সুবিধাবঞ্চিতের নামে ভাতার কার্ড ইস্যু করেছেন আর যাদের নামে কার্ড ইস্যু করা হয়েছে তাদের সেটা জানানো হয়নি। অভিযোগগুলো করেছেন সংশ্লিষ্ট এলাকার উপকারভোগীরা।

অভিযোগ আরও আছে। শেখর ইউনিয়ন কার্যালয়টি দুইতলাবিশিষ্ট দৃষ্টিনন্দন একটি আধুনিকমানের কমপ্লেক্স ভবন। তবুও চেয়ারম্যান সেখানে বসেন না। তার ব্যক্তিগত ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে বসে কাজ সারেন। তাছাড়া ইউনিয়নের সচিব টাকা ছাড়া কোনো কাজ করেন না বলে ক্ষোভ জানিয়েছে এলাকার মানুষ। তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন চেয়ারম্যান।

জেলা প্রশাসন বলছে, সুবিধাবঞ্চিত মানুষদের জন্য দেয়া সরকারি চাল আত্মসাৎ করার অভিযোগ তদন্তে একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। তদন্ত প্রতিবেদন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। আমরা আশা করি, উপকারভোগীদের করা অভিযোগ সুষ্ঠু তদন্ত করে সংশ্লিষ্ট প্রশাসন প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে।

সরকার দেশের অসহায় সুবিধাবঞ্চিত মানুষের মুখে দু’বেলা দু’মুঠো খাবার তুলে দেয়ার লক্ষ্যে ভাতার কার্ডের ব্যবস্থা করেছে। এ সুবিধা থেকে প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর অতিদরিদ্র মানুষের জীবনের মানোন্নয়নে পরিবর্তন ঘটবে; কিন্তু তারা যদি সেটা না পায় তাহলে তো সরকারের আসল উদ্দেশ্যই ব্যর্থ হবে। যেমন বোয়ালমারীর শেখর ইউনিয়নের চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে গরিব মানুষদের চাল আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে।

শুধু বোয়ালমারীর শেখর ইউনিয়নের জনপ্রতিনিধির বিরুদ্ধেই নয়, এরকম অভিযোগ আরও অনেক এলাকা থেকে পাওয়া যায়। এর একটা স্থায়ী সুরাহা হওয়া দরকার। চাল যাদের জন্য দেয়া হয়, সেটা যদি তাদের হাতে না পৌঁছায় তাহলে প্রান্তিক মানুষের সমস্যা দূর হবে না। তারা সরকারের দেয়া উপকারগুলো থেকে বঞ্চিতই থেকে যাবে। সরকার উপকারভোগীদের জন্য যে চাল দেয়, সেটা তাদের কাছে যথাযথভাবে পৌঁছায় কিনা তা দেখভালের ব্যবস্থা নিতে হবে। শুধু চাল বরাদ্দ দিলেই হবে না। তা সুবিধাভোগীদের হাত পর্যন্ত পৌঁছাচ্ছে কিনাÑ সেটাও নিশ্চিত করতে হবে।

বুধবার, ১০ জুলাই ২০২৪ , ২৬ আষাড় ১৪৩১ ৩ মহরম ১৪৪৫

বোয়ালমারীতে চাল আত্মসাতের অভিযোগ

ফরিদপুরের বোয়ালমারী উপজেলার শেখর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ৪০ জন সুবিধাবঞ্চিত অসহায় মানুষের নামে বরাদ্দ দেয়া চাল আত্মসাৎ করেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। তিনি ঘুষ নিয়ে ২৪০ জন সুবিধাবঞ্চিতের নামে ভাতার কার্ড ইস্যু করেছেন আর যাদের নামে কার্ড ইস্যু করা হয়েছে তাদের সেটা জানানো হয়নি। অভিযোগগুলো করেছেন সংশ্লিষ্ট এলাকার উপকারভোগীরা।

অভিযোগ আরও আছে। শেখর ইউনিয়ন কার্যালয়টি দুইতলাবিশিষ্ট দৃষ্টিনন্দন একটি আধুনিকমানের কমপ্লেক্স ভবন। তবুও চেয়ারম্যান সেখানে বসেন না। তার ব্যক্তিগত ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে বসে কাজ সারেন। তাছাড়া ইউনিয়নের সচিব টাকা ছাড়া কোনো কাজ করেন না বলে ক্ষোভ জানিয়েছে এলাকার মানুষ। তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন চেয়ারম্যান।

জেলা প্রশাসন বলছে, সুবিধাবঞ্চিত মানুষদের জন্য দেয়া সরকারি চাল আত্মসাৎ করার অভিযোগ তদন্তে একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। তদন্ত প্রতিবেদন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। আমরা আশা করি, উপকারভোগীদের করা অভিযোগ সুষ্ঠু তদন্ত করে সংশ্লিষ্ট প্রশাসন প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে।

সরকার দেশের অসহায় সুবিধাবঞ্চিত মানুষের মুখে দু’বেলা দু’মুঠো খাবার তুলে দেয়ার লক্ষ্যে ভাতার কার্ডের ব্যবস্থা করেছে। এ সুবিধা থেকে প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর অতিদরিদ্র মানুষের জীবনের মানোন্নয়নে পরিবর্তন ঘটবে; কিন্তু তারা যদি সেটা না পায় তাহলে তো সরকারের আসল উদ্দেশ্যই ব্যর্থ হবে। যেমন বোয়ালমারীর শেখর ইউনিয়নের চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে গরিব মানুষদের চাল আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে।

শুধু বোয়ালমারীর শেখর ইউনিয়নের জনপ্রতিনিধির বিরুদ্ধেই নয়, এরকম অভিযোগ আরও অনেক এলাকা থেকে পাওয়া যায়। এর একটা স্থায়ী সুরাহা হওয়া দরকার। চাল যাদের জন্য দেয়া হয়, সেটা যদি তাদের হাতে না পৌঁছায় তাহলে প্রান্তিক মানুষের সমস্যা দূর হবে না। তারা সরকারের দেয়া উপকারগুলো থেকে বঞ্চিতই থেকে যাবে। সরকার উপকারভোগীদের জন্য যে চাল দেয়, সেটা তাদের কাছে যথাযথভাবে পৌঁছায় কিনা তা দেখভালের ব্যবস্থা নিতে হবে। শুধু চাল বরাদ্দ দিলেই হবে না। তা সুবিধাভোগীদের হাত পর্যন্ত পৌঁছাচ্ছে কিনাÑ সেটাও নিশ্চিত করতে হবে।