বাইডেন কি দলে বোঝা হয়ে যাচ্ছেন?

শিতাংশু গুহ

ওয়াশিন্টন পোস্ট গত রোববার সন্ধ্যায় জানিয়েছে যে, চারজন ডেমক্রেট কংগ্রেসম্যান নীরবে প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনকে নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ানোর আহ্বান জানিয়েছেন। তারা হচ্ছেন নিউইয়র্কের জেরি নাডলার ও জোসেফ মোরেলি; ক্যালিফোর্নিয়ার মার্ক তাকানো এবং ওয়াশিংটনের এডাম স্মিথ। এর আগে টেক্সাসের লয়েড ডগেট, আরিজোনার রাউল গ্রিজালভা ও মিনেসোটার কংগ্রেসওমেন এনজি ক্রেগ প্রকাশ্যেই বাইডেনকে সরে দাঁড়ানোর আহ্বান জানান। এবিসি নিউজকে বাইডেন বলেছেন, কেবল ঈশ্বরের নির্দেশেই আমি সরে যেতে পারি। বাইডেন কি তার নিজ দল ডেমক্রেট পার্টিতে বোঝা হয়ে যাচ্ছেন?

ডেমক্রেটদের মধ্যে আতঙ্ক কমেনি। দ্য গার্ডিয়ান পত্রিকা গত শনিবার বলেছে, ডেমক্রেটরা বৈঠকে বসছেন। এখন পর্যন্ত অর্ধডজন কংগ্রেসম্যান বাইডেনকে সরে দাঁড়ানোর আহ্বান জানিয়েছেন। ওয়াসিংটন পোস্ট বলছে যে, ভার্জিনিয়ার সিনেটর মার্ক ওয়ার্নার সতীর্থ সিনেটরদের সঙ্গে কথা বলছেন এবং তারা একত্রে বাইডেনকে সরে দাঁড়ানোর আহ্বান জানাতে পারেন। প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন বলেছেন, তিনি নির্বাচনী রেসে আছেন, শেষ পর্যন্ত থাকছেন। সতীর্থ ডেমক্রেটদের তিনি আরও বলছেন যে, তিনি জানেন তাকে ভালো করতে হবে এবং প্রমাণ করতে হবে যে ‘তিনি ফিট’।

বাইডেনের সঙ্গে যারা ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করেন তারা গোপনে বলছেন, প্রেসিডেন্টের বয়সজনিত সমস্যাগুলো দ্রুত বাড়ছে। বাইডেনের ব্যক্তিগত ডাক্তার পার্কিনসন্স রোগ বিশেষজ্ঞের সঙ্গে কথা বলেছেন। টাইম ম্যাগাজিনের সঙ্গে এক সাক্ষাৎকারে প্রেসিডেন্ট বাইডেন তার বয়সজনিত সমস্যা উড়িয়ে দিয়ে বলেন যে, তিনি জানেন কীভাবে সমস্যার মোকাবিলা করতে হয়। ওয়েস্ট ভার্জিনিয়ার অন্য সিনেটর জো মানচিন বিদ্রোহ করতে চেয়েছিলেন, বাইডেন শিবির তাকে নিবৃত করেছে। সাবেক প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা প্রকাশ্যে বাইডেনকে সমর্থন দিলেও এখন নিভৃতে ডেমক্রেটদের বলছেন, বাইডেনের অবস্থা এমনিতেই কাহিল, বিতর্কের পর তা শোচনীয় হয়ে পড়েছে।

দ্য ইন্ডিপেনডেন্স বলেছে, বাইডেন যদি শেষপর্যন্ত সরেই দাঁড়ান, তবে ভাইস-প্রেসিডেন্ট কমলা হ্যারিস-ই হবেন ডেমক্রেট প্রার্থী। বাইডেন শিবিরের মুখপাত্র সেথ শুস্টার ইন্ডিপেনডেন্সকে জানিয়েছেন যে, ‘নিশ্চিত থাকুন প্রেসিডেন্ট সরে দাঁড়াচ্ছেন না’। বাইডেন তার নির্বাচনী স্টাফদের বলেছেন, ‘আমি শেষপর্যন্ত লড়ব এবং আমরা জিতব।’

যুক্তরাষ্ট্রের স্বাধীনতা দিবসে নিউইয়র্ক টাইমস-সিয়েনা এবং ওয়ালস্ট্রিট জার্নাল রেজিস্টার্ড ভোটারদের মধ্যে দুটি জরিপ চালিয়ে বলেছে যে, বাইডেন আরও পিছিয়ে পড়ছেন। টাইমস-সিয়েনা বলেছে ট্রাম্প-বাইডেন ৪৯-৪১%, ওয়ালস্ট্রিট বলেছে ৪৮-৪১%। ১৫-১৮ জুলাই মিলওয়াকিতে রিপাবলিকান সম্মেলনের পর ব্যবধান আরও বেড়ে যাওয়ার সম্ভবনা রয়েছে।

সুপ্রিমকোর্ট সাবেক প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পকে কিছুটা দায়মুক্তি দিলেও তিনি পুরোপুরি মুক্ত নন। বিচার বিভাগ বলেছে, তারা ট্রাম্পের বিরুদ্ধে দুটি ফৌজদারি মামলা চালিয়ে যাবে, এমনকি তিনি নির্বাচনে জয়ী হলেও তা চলবে। এদিকে নিউইয়র্ক আদালতে ট্রাম্পের সাজা ঘোষণা পিছিয়ে গিয়েছে, নতুন দিন ধার্য হয়েছে ১৮ সেপ্টেম্বর। আগামী সপ্তাহে ট্রাম্প রিপাবলিকান দলের আনুষ্ঠানিক প্রার্থী হচ্ছেন, আগস্ট মাসের ১৯ তারিখ শিকাগোতে ডেমক্রেট দলের সম্মেলন, ধারণা করা যায়, ওই পর্যন্ত বাইডেনকে নিয়ে দলে জল্পনা-কল্পনা চলতে থাকবে।

[লেখক : যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী]

বুধবার, ১০ জুলাই ২০২৪ , ২৬ আষাড় ১৪৩১ ৩ মহরম ১৪৪৫

বাইডেন কি দলে বোঝা হয়ে যাচ্ছেন?

শিতাংশু গুহ

ওয়াশিন্টন পোস্ট গত রোববার সন্ধ্যায় জানিয়েছে যে, চারজন ডেমক্রেট কংগ্রেসম্যান নীরবে প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনকে নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ানোর আহ্বান জানিয়েছেন। তারা হচ্ছেন নিউইয়র্কের জেরি নাডলার ও জোসেফ মোরেলি; ক্যালিফোর্নিয়ার মার্ক তাকানো এবং ওয়াশিংটনের এডাম স্মিথ। এর আগে টেক্সাসের লয়েড ডগেট, আরিজোনার রাউল গ্রিজালভা ও মিনেসোটার কংগ্রেসওমেন এনজি ক্রেগ প্রকাশ্যেই বাইডেনকে সরে দাঁড়ানোর আহ্বান জানান। এবিসি নিউজকে বাইডেন বলেছেন, কেবল ঈশ্বরের নির্দেশেই আমি সরে যেতে পারি। বাইডেন কি তার নিজ দল ডেমক্রেট পার্টিতে বোঝা হয়ে যাচ্ছেন?

ডেমক্রেটদের মধ্যে আতঙ্ক কমেনি। দ্য গার্ডিয়ান পত্রিকা গত শনিবার বলেছে, ডেমক্রেটরা বৈঠকে বসছেন। এখন পর্যন্ত অর্ধডজন কংগ্রেসম্যান বাইডেনকে সরে দাঁড়ানোর আহ্বান জানিয়েছেন। ওয়াসিংটন পোস্ট বলছে যে, ভার্জিনিয়ার সিনেটর মার্ক ওয়ার্নার সতীর্থ সিনেটরদের সঙ্গে কথা বলছেন এবং তারা একত্রে বাইডেনকে সরে দাঁড়ানোর আহ্বান জানাতে পারেন। প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন বলেছেন, তিনি নির্বাচনী রেসে আছেন, শেষ পর্যন্ত থাকছেন। সতীর্থ ডেমক্রেটদের তিনি আরও বলছেন যে, তিনি জানেন তাকে ভালো করতে হবে এবং প্রমাণ করতে হবে যে ‘তিনি ফিট’।

বাইডেনের সঙ্গে যারা ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করেন তারা গোপনে বলছেন, প্রেসিডেন্টের বয়সজনিত সমস্যাগুলো দ্রুত বাড়ছে। বাইডেনের ব্যক্তিগত ডাক্তার পার্কিনসন্স রোগ বিশেষজ্ঞের সঙ্গে কথা বলেছেন। টাইম ম্যাগাজিনের সঙ্গে এক সাক্ষাৎকারে প্রেসিডেন্ট বাইডেন তার বয়সজনিত সমস্যা উড়িয়ে দিয়ে বলেন যে, তিনি জানেন কীভাবে সমস্যার মোকাবিলা করতে হয়। ওয়েস্ট ভার্জিনিয়ার অন্য সিনেটর জো মানচিন বিদ্রোহ করতে চেয়েছিলেন, বাইডেন শিবির তাকে নিবৃত করেছে। সাবেক প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা প্রকাশ্যে বাইডেনকে সমর্থন দিলেও এখন নিভৃতে ডেমক্রেটদের বলছেন, বাইডেনের অবস্থা এমনিতেই কাহিল, বিতর্কের পর তা শোচনীয় হয়ে পড়েছে।

দ্য ইন্ডিপেনডেন্স বলেছে, বাইডেন যদি শেষপর্যন্ত সরেই দাঁড়ান, তবে ভাইস-প্রেসিডেন্ট কমলা হ্যারিস-ই হবেন ডেমক্রেট প্রার্থী। বাইডেন শিবিরের মুখপাত্র সেথ শুস্টার ইন্ডিপেনডেন্সকে জানিয়েছেন যে, ‘নিশ্চিত থাকুন প্রেসিডেন্ট সরে দাঁড়াচ্ছেন না’। বাইডেন তার নির্বাচনী স্টাফদের বলেছেন, ‘আমি শেষপর্যন্ত লড়ব এবং আমরা জিতব।’

যুক্তরাষ্ট্রের স্বাধীনতা দিবসে নিউইয়র্ক টাইমস-সিয়েনা এবং ওয়ালস্ট্রিট জার্নাল রেজিস্টার্ড ভোটারদের মধ্যে দুটি জরিপ চালিয়ে বলেছে যে, বাইডেন আরও পিছিয়ে পড়ছেন। টাইমস-সিয়েনা বলেছে ট্রাম্প-বাইডেন ৪৯-৪১%, ওয়ালস্ট্রিট বলেছে ৪৮-৪১%। ১৫-১৮ জুলাই মিলওয়াকিতে রিপাবলিকান সম্মেলনের পর ব্যবধান আরও বেড়ে যাওয়ার সম্ভবনা রয়েছে।

সুপ্রিমকোর্ট সাবেক প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পকে কিছুটা দায়মুক্তি দিলেও তিনি পুরোপুরি মুক্ত নন। বিচার বিভাগ বলেছে, তারা ট্রাম্পের বিরুদ্ধে দুটি ফৌজদারি মামলা চালিয়ে যাবে, এমনকি তিনি নির্বাচনে জয়ী হলেও তা চলবে। এদিকে নিউইয়র্ক আদালতে ট্রাম্পের সাজা ঘোষণা পিছিয়ে গিয়েছে, নতুন দিন ধার্য হয়েছে ১৮ সেপ্টেম্বর। আগামী সপ্তাহে ট্রাম্প রিপাবলিকান দলের আনুষ্ঠানিক প্রার্থী হচ্ছেন, আগস্ট মাসের ১৯ তারিখ শিকাগোতে ডেমক্রেট দলের সম্মেলন, ধারণা করা যায়, ওই পর্যন্ত বাইডেনকে নিয়ে দলে জল্পনা-কল্পনা চলতে থাকবে।

[লেখক : যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী]