টিকা নিয়ে টিপ্পনির ডেলিভারি!

মোহাম্মদ আবু নোমান

কেউ বলছেন বিএনপিকে আগে টিকা দাও! বিএনপি বলে আওয়ামী লীগকে আগে টিকা দাও! ভিআইপিরা বলে সাধারণ মানুষকে আগে টিকা দাও! সাধারণ মানুষ বলে ভিআইপিরা সম্মানিত; তাদের আগে টিকা দাও! এ রকম একটা দিনের কথা, এত নিঃস্বার্থ পরোপকারের উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত, কেউ কোন জনমেও দেখেছে কী? করোনার ভ্যাকসিন বাংলাদেশে আসার সুবাদে মনে হচ্ছে দেশে সব স্তরের মানুষ ভ্রাতৃত্বের মহা থেকে ‘মহাবন্ধনে’ আবদ্ধ হয়ে গেছে! এর আগে দেশের মানুষকে একে অন্যের জন্য এমন করে কখনও ভাবতে দেখেছেন কী? ভারত উপহার হিসেবে অক্সফোর্ড-অ্যাস্ট্রাজেনেকা উদ্ভাবিত ও ভারতের সেরাম ইনস্টিটিউট প্রস্তুতকৃত ২০ লাখ করোনার টিকা বাংলাদেশকে দিয়েছে। ভারত ভ্যাকসিন আসার খবর শুনে সোশ্যাল মিডিয়া, অফিস-আদালত, বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান ও ফুটপাত থেকে সর্বত্র এ নিয়ে আলোচনায় তোলপাড়।

মিথ্যা প্রোপাগান্ডা গুজব

টিকা নিয়ে টিপ্পনির টেক্কার ডেলিভারি, কাউন্টার কমেন্টস, আজেবাজে মন্তব্য, গুজব, বিভ্রান্তি ও অবিশ্বাসের ডালপালা বিস্তার আমাদের নিচু মানসিকতা ও হীনমন্যতারই পরিচয় নয় কী? ভ্যাকসিন দাবার চাল নয়, যেখানে জীবনের প্রশ্ন, মানুষ বাঁচানোর প্রশ্ন; এটি মাথায় রেখেই সর্বমহল, তথা পলিটিক্যাল লিডারদের বক্তব্য-বিবৃতি দেয়া উচিত। সোশ্যাল মিডিয়ায় যেভাবে কমেন্ট, রিকমেন্ট, রিঅ্যাক্ট তাতে মনে হয় প্রতিজনই স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ। কিন্তু প্রকৃতপক্ষে অধিকাংশই বিশেষ ‘অজ্ঞ’, তা স্পষ্ট। কিছু ‘পাকনা’ পাবলিকের ভেতর এমন জালাপোড়া শুরু হয়েছে যে-কমেন্ট, কাউন্টার কমেন্টস, দেখে মনে হয় সরকার পাবলিককে ধরে-ধরে টিকা দিবে। কতিপয় অতি উৎসাহীরা ভারত থেকে ভ্যাকসিন আসার খবরে কমেন্টে ঝাঁপিয়ে পড়ে বলছেন, সাংবাদিকদের অগ্রাধিকার ভিত্তিতে এই টিকা দেয়া হোক, কারণ, তারা বেঁচে থাকলে আমরা সানি লিওনির আপডেট পাব, মরে গেলে জাতি ... মুক্ত হবে! কেউ বলছেন রাজনীতিবিদদের, কেউ বলছেন অমুক-তমুক মন্ত্রীকে ভারতীয় ভ্যাকসিন সবার আগে শরীরে প্রয়োগ করা উচিত। বেঁচে থাকলে ‘ভ্যাকসিন নিরাপদ’, আর মরে গেলে ‘দেশ নিরাপদ’ ইত্যাদি। ভ্যাকসিন কে নিবে, আর কে নিবে না, সেটা নিতান্তই যার যার ব্যক্তিগত বিষয়। কিন্তু না জেনে বুঝে, ভ্যাকসিন নিয়ে মিথ্যা প্রোপাগান্ডা এবং গুজব ছড়ানো অবশ্যই অপরাধ।

কোভিড-১৯ মহামারীর বিপর্যয়মূলক প্রভাবের কারণে বাংলাদেশ শুধু নয় সমগ্র বিশ্বের মানুষই এই শতাব্দীর সবচেয়ে খারাপ সময় অতিবাহিত করছে। ইতিহাসের সবচেয়ে চ্যালেঞ্জপূর্ণ সময়ে যখন এক দেশ আরেক দেশকে, সরকার সর্বসাধারণকে, এক মহল্লা আরেক মহল্লাকে, ধর্ম-কর্ম নির্বিশেষে একজন নাগরিক আরেকজন নাগরিককে সাহায্য করবে মহামারীর ধ্বংসাত্মক প্রভাব কাটিয়ে উঠতে, ঠিক তখনই দেশের একটি কুচক্রী মহল গুজব ছড়িয়ে ভ্যাকসিন ও সরকারের বিশ্বাসযোগ্যতা এবং সফলতাকে প্রশ্নবিদ্ধ করার চেষ্টা করছে।

ভ্যাকসিন প্রশ্নবিদ্ধ করার দুরভিসন্ধি

ফাইজার-বায়োএনটেকের টিকা নেয়ার পর নরওয়েতে ২৩ জনের, পর্তুগালে একজন নার্সের ও ভারতের মধ্য প্রদেশে টিকা নিয়ে একজন মারা যাওয়া ও কিছু সংখ্যকের বিরূপ প্রতিক্রিয়ার ঘটনা ছিল গত কয়েক দিনের মিডিয়ার উল্লেখযোগ্য খবর। আমাদের এখানে দুটো সংবাদ পাশাপাশি এসেছে যে, ভারত বায়োটেক তাদের ভ্যাকসিনের ট্রায়াল বাংলাদেশে করতে চায়; আর সেরাম ইনস্টিটিউটের ভ্যাকসিন বাংলাদেশে আসা। এই দুটো বিষয় নিয়ে কতিপয় মানুষের মনে জট লেগে গেছে। কেউ ভাবছে, এটা ভারতের ভ্যাকসিন, এটা নেয়া নিরাপদ হবে কি না, ভারতের ভ্যাকসিন ভালো হবে কি না। স্বাস্থ্য সংশ্লিষ্টদের অবশ্যই এটা পরিষ্কার করে জনগণকে বোঝাতে হবে অক্সফোর্ড-অ্যাস্ট্রাজেনেকার যে ভ্যাকসিন যুক্তরাজ্যে ব্যবহার হচ্ছে, বাংলাদেশেও ভারত থেকে সেই একই ভ্যাকসিন এসেছে, যেটা সেরাম ইনস্টিটিউট উৎপাদন করছে মাত্র। বাংলাদেশে ইতোমধ্যে ২০ লাখ কোভিড ভ্যাকসিন ভারত সরকারের উপহার হিসেবে এসেছে। এগুলো যুক্তরাজ্যের অক্সফোর্ড-অ্যাস্ট্রাজেনেকার তৈরি করোনা ভ্যাকসিন। যার ভারতীয় নাম ‘কোভিশিল্ড’। বিশ্বের সর্ববৃহত ভ্যাকসিন প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান সেরাম ইনস্টিটিউট অক্সফোর্ড-অ্যাস্ট্রাজেনেকার সঙ্গে চুক্তির আওতায় এগুলো তৈরি করেছে। এ সঙ্গে একটি কথা জানা জরুরি, বাংলাদেশ কোন ট্রায়াল ভ্যাকসিন আনেনি। বাংলাদেশে অক্সফোর্ড-অ্যাস্ট্রাজেনেকার ভ্যাকসিন দিয়েই সারা দেশে ভ্যাকসিন কার্যক্রম পরিচালনা করা হবে। এটি সব ধরনের ট্রায়াল সম্পন্ন করে কার্যকারিতা, পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার হার ও ধরন নিশ্চিত হয়ে একাধিক আন্তর্জাতিক নিয়ন্ত্রক সংস্থা কর্তৃক অনুমোদিত হয়েই এসেছে। ভ্যাকসিনকে প্রশ্নবিদ্ধ করার যে দুরভিসন্ধি সেটা জনস্বাস্থ্য-জনস্বার্থ পরিপন্থি। এর বাইরে রয়টার্সের একটি সংবাদ নিয়ে দ্বিধা দেখা দিয়েছে যে, ভারত তাদের প্রতিষ্ঠান ‘ভারত বায়োটেক’ উদ্ভাবিত ভ্যাকসিনের ট্রায়াল বাংলাদেশে করতে চায়। বায়োটেকের সেই ভ্যাকসিনের নাম ‘কোভ্যাক্সিন’। কিন্তু, সেটি বাংলাদেশে ট্রায়াল নিয়ে কোন ধরনের সিদ্ধান্ত হয়নি, হবেও না।

দেশে সহনীয় পর্যায়ে করোনার প্রকোপ

এটা ঠিক যে স্বাস্থ্য বিভাগ মহামারীর প্রাথমিক পর্যায়ে এ ভাইরাসের বিরুদ্ধে লড়াই করতে কিছুটা হিমশিম খেয়েছে। পিপিই, ফেসমাস্ক, হ্যান্ড স্যানিটাইজারসহ অন্যান্য সরঞ্জামের অপ্রতুলতা, উচ্চমূল্য ও প্রাথমিক পর্যায়ে কোভিড-১৯ মহামারীর অর্থনৈতিক এবং স্বাস্থ্য সংশ্লিষ্টদের গাফিলতি সম্পর্কিত নেতিবাচক বিষয়াদি সম্পর্কে আমরাও লিখেছি। এর অর্থ এই নয় যে, তারা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুরোপুরি ব্যর্থ হয়েছিল। বরং শেখ হাসিনার বিশ্বাসযোগ্য ও পরিপক্ব নেতৃত্ব, সৃষ্টিকর্তার অশেষ কৃপায় দেশে প্রাণঘাতী ভাইরাসের বিস্তার নিয়ন্ত্রণে রাখতে সরকার সফল হয়েছে। সরকারের নানাবিধ প্রচেষ্টায় দেশে এখন অনেকটা সহনীয় পর্যায়ে এই ভাইরাসের প্রকোপ বিদ্যমান। সেবা প্রক্রিয়ায় কিছু অনিয়মের ঘটনা হয়তো ঘটেছে; এর অর্থ এই নয় যে সরকার দরিদ্র জনসাধারণকে পরিষেবা প্রদান করতে পারেনি। দরিদ্র জনগণের নিকট সরাসরি নগদ অর্থ সাহায্য প্রদানসহ সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগ সর্বস্তরে প্রশংসিত হয়েছে। কোভিড প্রতিরোধে ভ্যাকসিন আসা এবং এর সুষ্ঠু প্রয়োগকে সাধুবাদ না জানিয়ে অসত্য, অবৈজ্ঞানিক, ভিত্তিহীন, মনগড়া, নির্লজ্জ অপপ্রচার, অহেতুক সাধারণ মানুষের মধ্যে ভ্যাকসিন প্রয়োগে অবিশ্বাস, সন্দেহ তৈরি করা অত্যন্ত গর্হিত কাজ এবং অবশ্যই তা নিন্দনীয়।

কতিপয় মানুষ কী ফায়দা নিতে চায়

ব্রিটিশ মেডিকেল জার্নাল গত ৮ জানুয়ারি নরওয়েতে ফাইজার-বায়োএনটেকের টিকা নেয়ার ফলে ৮০ বছরের বেশি বয়সী ২৩ জন বৃদ্ধ-বৃদ্ধার মৃত্যু সংবাদটি প্রকাশের পর সে দেশের সরকারের পক্ষ থেকে খুব বেশি বয়স্ক মানুষদের এই টিকা দেয়ার আগে আরও সতর্ক হওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে। মরদেহ ব্যবচ্ছেদ করার পর জানা গেছে, এই ২৩ জনের মধ্যে ১৩ জন শুরুতে টিকার স্বাভাবিক পার্শ্বপ্রতিক্রিয়াতেই আক্রান্ত হয়েছিলেন, কিন্তু অত্যধিক বয়সের কারণে এগুলোই একসময় মারাত্মক আকার ধারণ করে বলে নিউইয়র্ক পোস্ট জানিয়েছে। নরওয়েজিয়ান মেডিসিন এজেন্সি বলেছে, ফাইজার-বায়োএনটেক এবং মডার্নার দুটি টিকা ইউরোপে হাজার হাজার স্বেচ্ছাসেবকের ওপর পরীক্ষা করার পরই অনুমোদন দেয়া হয়। পর্তুগালের যে নার্স মারা গেছে, ওই নার্সের টিকাজনিত কোন সমস্যাই ছিল না। টিকা নেয়ার পর কোন সমস্যা হলে তা টিকা নেয়ার আধঘণ্টার মধ্যেই দেখা দেয়। তার বেলায় সে রকম কোন ঘটনা ঘটেনি, এমনকি ২৪ বা ৪৮ ঘণ্টা পরেও নয়। তাই সম্ভবত এই মৃত্যুর ঘটনাটি টিকা নেয়ার সঙ্গে সম্পর্কিত নয়। এছাড়া ভারত বায়োটেকের টিকা নেয়ার ৯ দিন পর একজনের মারা যাওয়ার ঘটনাটি আপাতদৃষ্টিতে খাদ্য বা পানীয়ে বিষক্রিয়ার কারণে ঘটেছে বলেই মনে হয়। কারণ টিকা নেয়ার সঙ্গে সাত দিন পর মুখ দিয়ে ফেনা বেরোনোর সামান্য যোগসূত্রও নেই। তাছাড়া তিনি অসুস্থতা বোধ করা সত্ত্বেও ডাক্তারের কাছে বা হাসপাতালে যেতে না চাওয়াটা সন্দেহজনক। ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালে নিবন্ধিত হওয়ার পর বা পরীক্ষাধীন টিকা নেয়ার পর তার যাবতীয় অসুস্থতার চিকিৎসা বিনা মূল্যে করার দায়িত্ব নিবন্ধনকারী সংস্থার। এমনকি তিনি খারাপ কিছু হলে ক্ষতিপূরণও পেতেন। ক্লিনিক্যাল স্টাডির এটাই নিয়ম। কিন্তু তিনি ডাক্তারের কাছে যেতেই রাজি ছিলেন না। সম্ভবত গেলে তার এমন কিছু কাজ প্রকাশ হয়ে যাবে, যা ক্লিনিক্যাল স্টাডির সময় তিনি করতে পারবেন না বলে অঙ্গীকারবদ্ধ ছিলেন, তাই যেতে চাননি। কিন্তু আশ্চর্যের বিষয়, ভারতে একজন মারা যাওয়ার এই শেষোক্ত ঘটনাটিকে বিকৃত করে অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয় আবিষ্কৃত ও সেরাম ইন্ডিয়ার উৎপাদিত টিকার ঘাড়ে চাপিয়ে কতিপয় মানুষ কী ফায়দা নিতে চান?

নিবন্ধন ছাড়া টিকা নয়

অনলাইনে নিবন্ধন ছাড়া কাউকে করোনার টিকা দেবে না সরকার। রাজধানীর কয়েকটি হাসপাতালে এ মাসের শেষ দিকে টিকাদানের মহড়া বা ড্রাই রান হবে। শ্রীঘ্রই দেশব্যাপী টিকা কার্যক্রম শুরু করার প্রস্তুতি নিচ্ছে স্বাস্থ্য বিভাগ। শুরুতে বেসরকারি প্রতিষ্ঠান টিকা দেয়ার অনুমতি পাচ্ছে না। ভারতের উপহার হিসেবে দেয়া ২০ লাখ করোনার টিকা ইতোমধ্যে ঢাকায় পৌঁছেছে। ব্যাপকভাবে টিকাদান শুরুর আগে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, মুগদা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতাল এবং বাংলাদেশ-কুয়েত মৈত্রী হাসপাতালে ৫০০ থেকে ৬০০ জনকে টিকা দিয়ে সাত দিন পর্যবেক্ষণে রাখা হবে বলে জানা যায়। বিশ্বের প্রভাবশালী দেশগুলোও এখনও ভ্যাকসিনের আলোর মুখ দেখেনি। সেখানে বাংলাদেশে ভ্যাকসিন এসে গেছে। সরকারের হাইপ্রোফাইল ব্যক্তিরাও ভ্যাকসিন গ্রহণের ঘোষণা দিয়েছেন। অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল জানিয়েছেন, ‘আমি টিকা নেব। অবশ্যই নেব। প্রয়োজনে সবার আগে টিকা নেব। সরকার যেটা এনেছে, সেই টিকাই নেব।’ এমন ঘোষণার পর বিশ্বস্থতা বেড়েছে সর্বমহলে। তবে মুখ পুড়েছে সরকারবিরোধীদের। যারা দীর্ঘদিন টিকা নিয়ে রাজনীতি করেছেন। সরকার টিকা আনতে ব্যর্থ হবে বলে সর্বনাশা অপপ্রচার চালিয়েছেন। সংশ্লিষ্ট বিষয়ে চোখ রাখা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, চলমান করোনাভাইরাসের সংকটকালীন সময়ে সবার আগে বাংলাদেশে ভ্যাকসিন এসেছে। এটা সরকারের কূটনৈতিক সফলতার বড় সুফল।

অ্যাপের কার্যকারিতার বিষয়ে প্রশ্ন

অন্যদিকে টিকা গ্রহণকারীদের নিবন্ধনভুক্ত হওয়ার জন্য একটি সফটওয়্যার অ্যাপ্লিকেশন (অ্যাপ) তৈরি করা হয়েছে। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় ও তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগ থেকে বলা হয়েছে যে টিকা নিতে হলে ওই অ্যাপের সাহায্যে অনলাইনে নিবন্ধন করতে হবে। নাগরিক মহলে এ অ্যাপের কার্যকারিতার বিষয়ে প্রশ্ন উঠেছে। কেউ কেউ বলেছেন, বাংলাদেশের আর্থসামাজিক বাস্তবতায় অনেক মানুষের পক্ষে এ অ্যাপ ব্যবহার করে টিকার জন্য নিবন্ধিত হওয়া সম্ভব নয়। আমাদেরও মনে হয়, গ্রামাঞ্চলে শিক্ষাবঞ্চিত ও দরিদ্র জনগোষ্ঠীর ক্ষেত্রে অ্যাপ কার্যকর হবে না। তবে সরকার প্রথমেই টিকা দেয়ার জন্য অগ্রাধিকার ভিত্তিতে যে ১৫টি জনগোষ্ঠীর তালিকা তৈরি করেছে, তাদের সংখ্যাগরিষ্ঠ অংশ পেশাজীবী হওয়ায় তাদের ক্ষেত্রে অ্যাপটি কার্যকর হতে পারে। অবশ্য সে জন্য অ্যাপটির উন্নত মান নিশ্চিত করতে হবে, যেন মুঠোফোনসহ ইন্টারনেটসংযুক্ত যে কোনো ডিজিটাল যন্ত্রে ওই অ্যাপের সাহায্যে সবার জন্য খুব সহজেই নিবন্ধন করা সম্ভব হয়।

abunoman1972@gmail.com

শুক্রবার, ২৯ জানুয়ারী ২০২১ , ১৫ মাঘ ১৪২৭, ১৫ জমাদিউস সানি ১৪৪২

টিকা নিয়ে টিপ্পনির ডেলিভারি!

মোহাম্মদ আবু নোমান
image

কেউ বলছেন বিএনপিকে আগে টিকা দাও! বিএনপি বলে আওয়ামী লীগকে আগে টিকা দাও! ভিআইপিরা বলে সাধারণ মানুষকে আগে টিকা দাও! সাধারণ মানুষ বলে ভিআইপিরা সম্মানিত; তাদের আগে টিকা দাও! এ রকম একটা দিনের কথা, এত নিঃস্বার্থ পরোপকারের উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত, কেউ কোন জনমেও দেখেছে কী? করোনার ভ্যাকসিন বাংলাদেশে আসার সুবাদে মনে হচ্ছে দেশে সব স্তরের মানুষ ভ্রাতৃত্বের মহা থেকে ‘মহাবন্ধনে’ আবদ্ধ হয়ে গেছে! এর আগে দেশের মানুষকে একে অন্যের জন্য এমন করে কখনও ভাবতে দেখেছেন কী? ভারত উপহার হিসেবে অক্সফোর্ড-অ্যাস্ট্রাজেনেকা উদ্ভাবিত ও ভারতের সেরাম ইনস্টিটিউট প্রস্তুতকৃত ২০ লাখ করোনার টিকা বাংলাদেশকে দিয়েছে। ভারত ভ্যাকসিন আসার খবর শুনে সোশ্যাল মিডিয়া, অফিস-আদালত, বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান ও ফুটপাত থেকে সর্বত্র এ নিয়ে আলোচনায় তোলপাড়।

মিথ্যা প্রোপাগান্ডা গুজব

টিকা নিয়ে টিপ্পনির টেক্কার ডেলিভারি, কাউন্টার কমেন্টস, আজেবাজে মন্তব্য, গুজব, বিভ্রান্তি ও অবিশ্বাসের ডালপালা বিস্তার আমাদের নিচু মানসিকতা ও হীনমন্যতারই পরিচয় নয় কী? ভ্যাকসিন দাবার চাল নয়, যেখানে জীবনের প্রশ্ন, মানুষ বাঁচানোর প্রশ্ন; এটি মাথায় রেখেই সর্বমহল, তথা পলিটিক্যাল লিডারদের বক্তব্য-বিবৃতি দেয়া উচিত। সোশ্যাল মিডিয়ায় যেভাবে কমেন্ট, রিকমেন্ট, রিঅ্যাক্ট তাতে মনে হয় প্রতিজনই স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ। কিন্তু প্রকৃতপক্ষে অধিকাংশই বিশেষ ‘অজ্ঞ’, তা স্পষ্ট। কিছু ‘পাকনা’ পাবলিকের ভেতর এমন জালাপোড়া শুরু হয়েছে যে-কমেন্ট, কাউন্টার কমেন্টস, দেখে মনে হয় সরকার পাবলিককে ধরে-ধরে টিকা দিবে। কতিপয় অতি উৎসাহীরা ভারত থেকে ভ্যাকসিন আসার খবরে কমেন্টে ঝাঁপিয়ে পড়ে বলছেন, সাংবাদিকদের অগ্রাধিকার ভিত্তিতে এই টিকা দেয়া হোক, কারণ, তারা বেঁচে থাকলে আমরা সানি লিওনির আপডেট পাব, মরে গেলে জাতি ... মুক্ত হবে! কেউ বলছেন রাজনীতিবিদদের, কেউ বলছেন অমুক-তমুক মন্ত্রীকে ভারতীয় ভ্যাকসিন সবার আগে শরীরে প্রয়োগ করা উচিত। বেঁচে থাকলে ‘ভ্যাকসিন নিরাপদ’, আর মরে গেলে ‘দেশ নিরাপদ’ ইত্যাদি। ভ্যাকসিন কে নিবে, আর কে নিবে না, সেটা নিতান্তই যার যার ব্যক্তিগত বিষয়। কিন্তু না জেনে বুঝে, ভ্যাকসিন নিয়ে মিথ্যা প্রোপাগান্ডা এবং গুজব ছড়ানো অবশ্যই অপরাধ।

কোভিড-১৯ মহামারীর বিপর্যয়মূলক প্রভাবের কারণে বাংলাদেশ শুধু নয় সমগ্র বিশ্বের মানুষই এই শতাব্দীর সবচেয়ে খারাপ সময় অতিবাহিত করছে। ইতিহাসের সবচেয়ে চ্যালেঞ্জপূর্ণ সময়ে যখন এক দেশ আরেক দেশকে, সরকার সর্বসাধারণকে, এক মহল্লা আরেক মহল্লাকে, ধর্ম-কর্ম নির্বিশেষে একজন নাগরিক আরেকজন নাগরিককে সাহায্য করবে মহামারীর ধ্বংসাত্মক প্রভাব কাটিয়ে উঠতে, ঠিক তখনই দেশের একটি কুচক্রী মহল গুজব ছড়িয়ে ভ্যাকসিন ও সরকারের বিশ্বাসযোগ্যতা এবং সফলতাকে প্রশ্নবিদ্ধ করার চেষ্টা করছে।

ভ্যাকসিন প্রশ্নবিদ্ধ করার দুরভিসন্ধি

ফাইজার-বায়োএনটেকের টিকা নেয়ার পর নরওয়েতে ২৩ জনের, পর্তুগালে একজন নার্সের ও ভারতের মধ্য প্রদেশে টিকা নিয়ে একজন মারা যাওয়া ও কিছু সংখ্যকের বিরূপ প্রতিক্রিয়ার ঘটনা ছিল গত কয়েক দিনের মিডিয়ার উল্লেখযোগ্য খবর। আমাদের এখানে দুটো সংবাদ পাশাপাশি এসেছে যে, ভারত বায়োটেক তাদের ভ্যাকসিনের ট্রায়াল বাংলাদেশে করতে চায়; আর সেরাম ইনস্টিটিউটের ভ্যাকসিন বাংলাদেশে আসা। এই দুটো বিষয় নিয়ে কতিপয় মানুষের মনে জট লেগে গেছে। কেউ ভাবছে, এটা ভারতের ভ্যাকসিন, এটা নেয়া নিরাপদ হবে কি না, ভারতের ভ্যাকসিন ভালো হবে কি না। স্বাস্থ্য সংশ্লিষ্টদের অবশ্যই এটা পরিষ্কার করে জনগণকে বোঝাতে হবে অক্সফোর্ড-অ্যাস্ট্রাজেনেকার যে ভ্যাকসিন যুক্তরাজ্যে ব্যবহার হচ্ছে, বাংলাদেশেও ভারত থেকে সেই একই ভ্যাকসিন এসেছে, যেটা সেরাম ইনস্টিটিউট উৎপাদন করছে মাত্র। বাংলাদেশে ইতোমধ্যে ২০ লাখ কোভিড ভ্যাকসিন ভারত সরকারের উপহার হিসেবে এসেছে। এগুলো যুক্তরাজ্যের অক্সফোর্ড-অ্যাস্ট্রাজেনেকার তৈরি করোনা ভ্যাকসিন। যার ভারতীয় নাম ‘কোভিশিল্ড’। বিশ্বের সর্ববৃহত ভ্যাকসিন প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান সেরাম ইনস্টিটিউট অক্সফোর্ড-অ্যাস্ট্রাজেনেকার সঙ্গে চুক্তির আওতায় এগুলো তৈরি করেছে। এ সঙ্গে একটি কথা জানা জরুরি, বাংলাদেশ কোন ট্রায়াল ভ্যাকসিন আনেনি। বাংলাদেশে অক্সফোর্ড-অ্যাস্ট্রাজেনেকার ভ্যাকসিন দিয়েই সারা দেশে ভ্যাকসিন কার্যক্রম পরিচালনা করা হবে। এটি সব ধরনের ট্রায়াল সম্পন্ন করে কার্যকারিতা, পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার হার ও ধরন নিশ্চিত হয়ে একাধিক আন্তর্জাতিক নিয়ন্ত্রক সংস্থা কর্তৃক অনুমোদিত হয়েই এসেছে। ভ্যাকসিনকে প্রশ্নবিদ্ধ করার যে দুরভিসন্ধি সেটা জনস্বাস্থ্য-জনস্বার্থ পরিপন্থি। এর বাইরে রয়টার্সের একটি সংবাদ নিয়ে দ্বিধা দেখা দিয়েছে যে, ভারত তাদের প্রতিষ্ঠান ‘ভারত বায়োটেক’ উদ্ভাবিত ভ্যাকসিনের ট্রায়াল বাংলাদেশে করতে চায়। বায়োটেকের সেই ভ্যাকসিনের নাম ‘কোভ্যাক্সিন’। কিন্তু, সেটি বাংলাদেশে ট্রায়াল নিয়ে কোন ধরনের সিদ্ধান্ত হয়নি, হবেও না।

দেশে সহনীয় পর্যায়ে করোনার প্রকোপ

এটা ঠিক যে স্বাস্থ্য বিভাগ মহামারীর প্রাথমিক পর্যায়ে এ ভাইরাসের বিরুদ্ধে লড়াই করতে কিছুটা হিমশিম খেয়েছে। পিপিই, ফেসমাস্ক, হ্যান্ড স্যানিটাইজারসহ অন্যান্য সরঞ্জামের অপ্রতুলতা, উচ্চমূল্য ও প্রাথমিক পর্যায়ে কোভিড-১৯ মহামারীর অর্থনৈতিক এবং স্বাস্থ্য সংশ্লিষ্টদের গাফিলতি সম্পর্কিত নেতিবাচক বিষয়াদি সম্পর্কে আমরাও লিখেছি। এর অর্থ এই নয় যে, তারা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুরোপুরি ব্যর্থ হয়েছিল। বরং শেখ হাসিনার বিশ্বাসযোগ্য ও পরিপক্ব নেতৃত্ব, সৃষ্টিকর্তার অশেষ কৃপায় দেশে প্রাণঘাতী ভাইরাসের বিস্তার নিয়ন্ত্রণে রাখতে সরকার সফল হয়েছে। সরকারের নানাবিধ প্রচেষ্টায় দেশে এখন অনেকটা সহনীয় পর্যায়ে এই ভাইরাসের প্রকোপ বিদ্যমান। সেবা প্রক্রিয়ায় কিছু অনিয়মের ঘটনা হয়তো ঘটেছে; এর অর্থ এই নয় যে সরকার দরিদ্র জনসাধারণকে পরিষেবা প্রদান করতে পারেনি। দরিদ্র জনগণের নিকট সরাসরি নগদ অর্থ সাহায্য প্রদানসহ সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগ সর্বস্তরে প্রশংসিত হয়েছে। কোভিড প্রতিরোধে ভ্যাকসিন আসা এবং এর সুষ্ঠু প্রয়োগকে সাধুবাদ না জানিয়ে অসত্য, অবৈজ্ঞানিক, ভিত্তিহীন, মনগড়া, নির্লজ্জ অপপ্রচার, অহেতুক সাধারণ মানুষের মধ্যে ভ্যাকসিন প্রয়োগে অবিশ্বাস, সন্দেহ তৈরি করা অত্যন্ত গর্হিত কাজ এবং অবশ্যই তা নিন্দনীয়।

কতিপয় মানুষ কী ফায়দা নিতে চায়

ব্রিটিশ মেডিকেল জার্নাল গত ৮ জানুয়ারি নরওয়েতে ফাইজার-বায়োএনটেকের টিকা নেয়ার ফলে ৮০ বছরের বেশি বয়সী ২৩ জন বৃদ্ধ-বৃদ্ধার মৃত্যু সংবাদটি প্রকাশের পর সে দেশের সরকারের পক্ষ থেকে খুব বেশি বয়স্ক মানুষদের এই টিকা দেয়ার আগে আরও সতর্ক হওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে। মরদেহ ব্যবচ্ছেদ করার পর জানা গেছে, এই ২৩ জনের মধ্যে ১৩ জন শুরুতে টিকার স্বাভাবিক পার্শ্বপ্রতিক্রিয়াতেই আক্রান্ত হয়েছিলেন, কিন্তু অত্যধিক বয়সের কারণে এগুলোই একসময় মারাত্মক আকার ধারণ করে বলে নিউইয়র্ক পোস্ট জানিয়েছে। নরওয়েজিয়ান মেডিসিন এজেন্সি বলেছে, ফাইজার-বায়োএনটেক এবং মডার্নার দুটি টিকা ইউরোপে হাজার হাজার স্বেচ্ছাসেবকের ওপর পরীক্ষা করার পরই অনুমোদন দেয়া হয়। পর্তুগালের যে নার্স মারা গেছে, ওই নার্সের টিকাজনিত কোন সমস্যাই ছিল না। টিকা নেয়ার পর কোন সমস্যা হলে তা টিকা নেয়ার আধঘণ্টার মধ্যেই দেখা দেয়। তার বেলায় সে রকম কোন ঘটনা ঘটেনি, এমনকি ২৪ বা ৪৮ ঘণ্টা পরেও নয়। তাই সম্ভবত এই মৃত্যুর ঘটনাটি টিকা নেয়ার সঙ্গে সম্পর্কিত নয়। এছাড়া ভারত বায়োটেকের টিকা নেয়ার ৯ দিন পর একজনের মারা যাওয়ার ঘটনাটি আপাতদৃষ্টিতে খাদ্য বা পানীয়ে বিষক্রিয়ার কারণে ঘটেছে বলেই মনে হয়। কারণ টিকা নেয়ার সঙ্গে সাত দিন পর মুখ দিয়ে ফেনা বেরোনোর সামান্য যোগসূত্রও নেই। তাছাড়া তিনি অসুস্থতা বোধ করা সত্ত্বেও ডাক্তারের কাছে বা হাসপাতালে যেতে না চাওয়াটা সন্দেহজনক। ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালে নিবন্ধিত হওয়ার পর বা পরীক্ষাধীন টিকা নেয়ার পর তার যাবতীয় অসুস্থতার চিকিৎসা বিনা মূল্যে করার দায়িত্ব নিবন্ধনকারী সংস্থার। এমনকি তিনি খারাপ কিছু হলে ক্ষতিপূরণও পেতেন। ক্লিনিক্যাল স্টাডির এটাই নিয়ম। কিন্তু তিনি ডাক্তারের কাছে যেতেই রাজি ছিলেন না। সম্ভবত গেলে তার এমন কিছু কাজ প্রকাশ হয়ে যাবে, যা ক্লিনিক্যাল স্টাডির সময় তিনি করতে পারবেন না বলে অঙ্গীকারবদ্ধ ছিলেন, তাই যেতে চাননি। কিন্তু আশ্চর্যের বিষয়, ভারতে একজন মারা যাওয়ার এই শেষোক্ত ঘটনাটিকে বিকৃত করে অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয় আবিষ্কৃত ও সেরাম ইন্ডিয়ার উৎপাদিত টিকার ঘাড়ে চাপিয়ে কতিপয় মানুষ কী ফায়দা নিতে চান?

নিবন্ধন ছাড়া টিকা নয়

অনলাইনে নিবন্ধন ছাড়া কাউকে করোনার টিকা দেবে না সরকার। রাজধানীর কয়েকটি হাসপাতালে এ মাসের শেষ দিকে টিকাদানের মহড়া বা ড্রাই রান হবে। শ্রীঘ্রই দেশব্যাপী টিকা কার্যক্রম শুরু করার প্রস্তুতি নিচ্ছে স্বাস্থ্য বিভাগ। শুরুতে বেসরকারি প্রতিষ্ঠান টিকা দেয়ার অনুমতি পাচ্ছে না। ভারতের উপহার হিসেবে দেয়া ২০ লাখ করোনার টিকা ইতোমধ্যে ঢাকায় পৌঁছেছে। ব্যাপকভাবে টিকাদান শুরুর আগে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, মুগদা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতাল এবং বাংলাদেশ-কুয়েত মৈত্রী হাসপাতালে ৫০০ থেকে ৬০০ জনকে টিকা দিয়ে সাত দিন পর্যবেক্ষণে রাখা হবে বলে জানা যায়। বিশ্বের প্রভাবশালী দেশগুলোও এখনও ভ্যাকসিনের আলোর মুখ দেখেনি। সেখানে বাংলাদেশে ভ্যাকসিন এসে গেছে। সরকারের হাইপ্রোফাইল ব্যক্তিরাও ভ্যাকসিন গ্রহণের ঘোষণা দিয়েছেন। অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল জানিয়েছেন, ‘আমি টিকা নেব। অবশ্যই নেব। প্রয়োজনে সবার আগে টিকা নেব। সরকার যেটা এনেছে, সেই টিকাই নেব।’ এমন ঘোষণার পর বিশ্বস্থতা বেড়েছে সর্বমহলে। তবে মুখ পুড়েছে সরকারবিরোধীদের। যারা দীর্ঘদিন টিকা নিয়ে রাজনীতি করেছেন। সরকার টিকা আনতে ব্যর্থ হবে বলে সর্বনাশা অপপ্রচার চালিয়েছেন। সংশ্লিষ্ট বিষয়ে চোখ রাখা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, চলমান করোনাভাইরাসের সংকটকালীন সময়ে সবার আগে বাংলাদেশে ভ্যাকসিন এসেছে। এটা সরকারের কূটনৈতিক সফলতার বড় সুফল।

অ্যাপের কার্যকারিতার বিষয়ে প্রশ্ন

অন্যদিকে টিকা গ্রহণকারীদের নিবন্ধনভুক্ত হওয়ার জন্য একটি সফটওয়্যার অ্যাপ্লিকেশন (অ্যাপ) তৈরি করা হয়েছে। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় ও তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগ থেকে বলা হয়েছে যে টিকা নিতে হলে ওই অ্যাপের সাহায্যে অনলাইনে নিবন্ধন করতে হবে। নাগরিক মহলে এ অ্যাপের কার্যকারিতার বিষয়ে প্রশ্ন উঠেছে। কেউ কেউ বলেছেন, বাংলাদেশের আর্থসামাজিক বাস্তবতায় অনেক মানুষের পক্ষে এ অ্যাপ ব্যবহার করে টিকার জন্য নিবন্ধিত হওয়া সম্ভব নয়। আমাদেরও মনে হয়, গ্রামাঞ্চলে শিক্ষাবঞ্চিত ও দরিদ্র জনগোষ্ঠীর ক্ষেত্রে অ্যাপ কার্যকর হবে না। তবে সরকার প্রথমেই টিকা দেয়ার জন্য অগ্রাধিকার ভিত্তিতে যে ১৫টি জনগোষ্ঠীর তালিকা তৈরি করেছে, তাদের সংখ্যাগরিষ্ঠ অংশ পেশাজীবী হওয়ায় তাদের ক্ষেত্রে অ্যাপটি কার্যকর হতে পারে। অবশ্য সে জন্য অ্যাপটির উন্নত মান নিশ্চিত করতে হবে, যেন মুঠোফোনসহ ইন্টারনেটসংযুক্ত যে কোনো ডিজিটাল যন্ত্রে ওই অ্যাপের সাহায্যে সবার জন্য খুব সহজেই নিবন্ধন করা সম্ভব হয়।

abunoman1972@gmail.com