আরিচা-কাজিরহাট ফেরিঘাটে দালালদের দৌরাত্ম্য

আরিচা-কাজিরহাট ফেরিঘাটে গাড়ি বুকিং কাউন্টারে স্থানীয় দালালদের দৌরাত্ম্য বৃদ্ধি পেয়েছে। ফলে আরিচা ঘাটে দফায় দফায় যানজট ও মারপিটের মতো ঘটনা ঘটছে। গতকাল এ ব্যাপারে প্রতিবাদ করতে গিয়ে আরিচা ঘাটে দালালদের হাতে তিন ট্রাক শ্রমিক নির্যাতিত হয়েছেন। দালালদের অত্যাচারে অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছে অসহায় যানবাহন শ্রমিক এবং বিআইডব্লিউটিসি’র বুকিং কাউন্টারে কর্মরত লোকজন। এ থেকে পরিত্রাণ পেতে সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করছেন তারা।

জানা গেছে, আরিচা-কাজিরহাট নৌরুটে ফেরি সার্ভিস চালু হওয়ার পর থেকে দিন দিন যাত্রী এবং যানবাহনের সংখ্যা বৃদ্ধি পাচ্ছে। সেই সঙ্গে বৃদ্ধি পাচ্ছে গাড়ি বুকিংয়ের দালাল। এরা গাড়ি বুকিংয়ের নামে প্রতিটি গাড়ি থেকে নির্ধারিত ভাড়ার চেয়ে ৫শ’ থেকে ১ হাজার টাকা পর্যন্ত বেশি আদায় করছে গাড়ি শ্রমিকদের কাছ থেকে। বাড়তি টাকা না দিলে তাদের দিনের পর দিন ঘাটে অপেক্ষায় থাকতে হচ্ছে। আর যারা দালালদের মাধ্যমে বাড়তি টাকা দিচ্ছে তারাই সিরিয়াল ভঙ্গ করে ফেরিতে উঠে নদী পার হয়ে যাচ্ছে। বেশি ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে ঘাটে আটকে পড়া সিরিয়ালে থাকা এসব যানবাহনগুলোর শ্রমিকদের । ফলে ঘাট এলাকায় চরম বিশৃঙ্খলার সৃষ্টি হচ্ছে। সবাই যার যার মতো করে আগে ফেরিতে উঠার প্রতিযোগিতা শুরু করে দিচ্ছে। এতে যে কোন সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটার আশঙ্কা করা হচ্ছে।

গতকাল সকালে আরিচা ফেরিঘাট ঘুরে দেখা গেছে, শত শত পণ্যবাহী ট্রাক এবং মাইক্রোবাস ও প্রাইভেটকার ফেরি পারের জন্য অপেক্ষায় রয়েছে। একাধিকবার আরিচা ঘাটের টার্মিনাল এলাকায় যানবাহন শ্রমিক এবং দালালদের মধ্যে গাড়ি বুকিং নিয়ে মারপিটের ঘটনা ঘটেছে। গতকাল সকালে গাড়ির বুকিংয়ের স্থানীয় দালালরা তিনজন ট্রাকচালককে মারপিট করে জখম করে। গাড়ি ফেরিতে আগে-পরে উঠা নিয়ে এ ঘটনা ঘটে। দালালদের হাতে নির্যাতনের শিকার ট্রাক চালকরা হলেন ঢাকা-মেট্রো (ট-১৬-৮৪৮২) ট্রাকের চালক মো. শাহিন শেখ (২৮), ঢাকা মেট্রো (ট-২২-৭৩৬৩) ট্রাকের চালক মো. আলমগীর হোসেন, ঢাকা-মেট্রো (ট-১৮-১৬১২) ট্রাকের চালক মো. রোমন মিয়া। এরা গত বুধবার রাতে ফেরি পারের জন্য আরিচা ঘাটে আসেন। সিরিয়াল নিয়ে দীর্ঘ সময় অপেক্ষার পরও তারা ফেরি পার হতে পারেননি। অথচ তাদের পরে আসা অনেক ট্রাক দালারদের মাধ্যমে বুকিং দিয়ে ফেরি পার হয়ে যাচ্ছে। এ নিয়ে কথা কাটাকাটির এক পর্যায়ে সংঘবদ্ধ স্থানীয় দালাল চক্র তাদের এলোপাতাড়ি মারপিট করতে থাকে। এক পর্যায়ে যানবাহন শ্রমিকরা সংগঠিত হলে দালালরা ঘাট থেকে পালিয়ে যায়। চিহ্নিত এসব দালালদের মধ্যে ফিরোজ, রহিম, আমজাদ, তুষার এবং কাকন অন্যতম। এরা আরিচা ঘাট চালু হওয়ার সময় থেকেই চালকদের কাছ থেকে বাড়তি টাকা নিয়ে গাড়ি বুকিং দিয়ে আসছে। দিন দিন এদের কাছে অসহায় হয়ে পড়ছে যানবাহন শ্রমিক ও বিআইডব্লিউটিসি’র লোকজন।

ভুক্তভোগী ট্রাকচালক আলমগীর হোসেন জানান, ফেরিতে গাড়ি আগে-পরে উঠা নিয়ে ঘাটের দালালরা আমাদের মারপিট করে। দালালরা টাকা নিয়ে সিরিয়াল ভঙ্গ করে গাড়িগুলো বুকিং দেয়। এ নিয়ে কথা বললেই দালালরা চালকদের মারপিট করে।

অন্য চালক মো. রোমন জানান, আমরা সিরিয়াল নিয়ে দিনের পর দিন অপেক্ষা করছি ফেরি পারের জন্য। কিন্তু বাড়তি টাকা নিয়ে সিরিয়াল ভঙ্গ করে শুক্রবার সকালে (১১ জুন) গাড়ি বুকিং দেয়া নিয়ে দালালরা আমাদের মারপিট করে।

ট্রাকচালক শাহিন শেখ জানান, প্রথমে শ্রমিকে শ্রমিকে মারামারি শুরু হয়। এরপর দালাল এসে বাড়তি টাকা নিয়ে বুকিং দেয়া তার গাড়ি শ্রমিকের পক্ষ নিয়ে অন্য চালকদের মারপিট করে। এক পর্যায়ে যানবাহন শ্রমিকরা জড়ো হলে চিহ্নিত ওইসব দালালরা পালিয়ে যায়। বিআইডব্লিউটিসি’র ডিজিএম মো. জিল্লুর রহমান বলেন, আরিচা ঘাটে দালালদের বিষয়টি স্থানীয় পুলিশ প্রশাসনকে জানানো হয়েছে। এ ব্যাপারে তারা প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করবেন বলে জানিয়েছেন।

এ ব্যাপারে মানিকগঞ্জের পুলিশ সুপার রিফাত রহমান শামীম বলেন, আরিচা ঘাটে দালালদের বিষয়ে খুব দ্রুতই পদক্ষেপ নেয়া হবে।

শনিবার, ১২ জুন ২০২১ , ২৯ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৮ ৩০ শাওয়াল ১৪৪২

আরিচা-কাজিরহাট ফেরিঘাটে দালালদের দৌরাত্ম্য

দালালদের নির্যাতনে আহত ৩ ট্রাক শ্রমিক

আরিচা-কাজিরহাট ফেরিঘাটে গাড়ি বুকিং কাউন্টারে স্থানীয় দালালদের দৌরাত্ম্য বৃদ্ধি পেয়েছে। ফলে আরিচা ঘাটে দফায় দফায় যানজট ও মারপিটের মতো ঘটনা ঘটছে। গতকাল এ ব্যাপারে প্রতিবাদ করতে গিয়ে আরিচা ঘাটে দালালদের হাতে তিন ট্রাক শ্রমিক নির্যাতিত হয়েছেন। দালালদের অত্যাচারে অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছে অসহায় যানবাহন শ্রমিক এবং বিআইডব্লিউটিসি’র বুকিং কাউন্টারে কর্মরত লোকজন। এ থেকে পরিত্রাণ পেতে সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করছেন তারা।

জানা গেছে, আরিচা-কাজিরহাট নৌরুটে ফেরি সার্ভিস চালু হওয়ার পর থেকে দিন দিন যাত্রী এবং যানবাহনের সংখ্যা বৃদ্ধি পাচ্ছে। সেই সঙ্গে বৃদ্ধি পাচ্ছে গাড়ি বুকিংয়ের দালাল। এরা গাড়ি বুকিংয়ের নামে প্রতিটি গাড়ি থেকে নির্ধারিত ভাড়ার চেয়ে ৫শ’ থেকে ১ হাজার টাকা পর্যন্ত বেশি আদায় করছে গাড়ি শ্রমিকদের কাছ থেকে। বাড়তি টাকা না দিলে তাদের দিনের পর দিন ঘাটে অপেক্ষায় থাকতে হচ্ছে। আর যারা দালালদের মাধ্যমে বাড়তি টাকা দিচ্ছে তারাই সিরিয়াল ভঙ্গ করে ফেরিতে উঠে নদী পার হয়ে যাচ্ছে। বেশি ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে ঘাটে আটকে পড়া সিরিয়ালে থাকা এসব যানবাহনগুলোর শ্রমিকদের । ফলে ঘাট এলাকায় চরম বিশৃঙ্খলার সৃষ্টি হচ্ছে। সবাই যার যার মতো করে আগে ফেরিতে উঠার প্রতিযোগিতা শুরু করে দিচ্ছে। এতে যে কোন সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটার আশঙ্কা করা হচ্ছে।

গতকাল সকালে আরিচা ফেরিঘাট ঘুরে দেখা গেছে, শত শত পণ্যবাহী ট্রাক এবং মাইক্রোবাস ও প্রাইভেটকার ফেরি পারের জন্য অপেক্ষায় রয়েছে। একাধিকবার আরিচা ঘাটের টার্মিনাল এলাকায় যানবাহন শ্রমিক এবং দালালদের মধ্যে গাড়ি বুকিং নিয়ে মারপিটের ঘটনা ঘটেছে। গতকাল সকালে গাড়ির বুকিংয়ের স্থানীয় দালালরা তিনজন ট্রাকচালককে মারপিট করে জখম করে। গাড়ি ফেরিতে আগে-পরে উঠা নিয়ে এ ঘটনা ঘটে। দালালদের হাতে নির্যাতনের শিকার ট্রাক চালকরা হলেন ঢাকা-মেট্রো (ট-১৬-৮৪৮২) ট্রাকের চালক মো. শাহিন শেখ (২৮), ঢাকা মেট্রো (ট-২২-৭৩৬৩) ট্রাকের চালক মো. আলমগীর হোসেন, ঢাকা-মেট্রো (ট-১৮-১৬১২) ট্রাকের চালক মো. রোমন মিয়া। এরা গত বুধবার রাতে ফেরি পারের জন্য আরিচা ঘাটে আসেন। সিরিয়াল নিয়ে দীর্ঘ সময় অপেক্ষার পরও তারা ফেরি পার হতে পারেননি। অথচ তাদের পরে আসা অনেক ট্রাক দালারদের মাধ্যমে বুকিং দিয়ে ফেরি পার হয়ে যাচ্ছে। এ নিয়ে কথা কাটাকাটির এক পর্যায়ে সংঘবদ্ধ স্থানীয় দালাল চক্র তাদের এলোপাতাড়ি মারপিট করতে থাকে। এক পর্যায়ে যানবাহন শ্রমিকরা সংগঠিত হলে দালালরা ঘাট থেকে পালিয়ে যায়। চিহ্নিত এসব দালালদের মধ্যে ফিরোজ, রহিম, আমজাদ, তুষার এবং কাকন অন্যতম। এরা আরিচা ঘাট চালু হওয়ার সময় থেকেই চালকদের কাছ থেকে বাড়তি টাকা নিয়ে গাড়ি বুকিং দিয়ে আসছে। দিন দিন এদের কাছে অসহায় হয়ে পড়ছে যানবাহন শ্রমিক ও বিআইডব্লিউটিসি’র লোকজন।

ভুক্তভোগী ট্রাকচালক আলমগীর হোসেন জানান, ফেরিতে গাড়ি আগে-পরে উঠা নিয়ে ঘাটের দালালরা আমাদের মারপিট করে। দালালরা টাকা নিয়ে সিরিয়াল ভঙ্গ করে গাড়িগুলো বুকিং দেয়। এ নিয়ে কথা বললেই দালালরা চালকদের মারপিট করে।

অন্য চালক মো. রোমন জানান, আমরা সিরিয়াল নিয়ে দিনের পর দিন অপেক্ষা করছি ফেরি পারের জন্য। কিন্তু বাড়তি টাকা নিয়ে সিরিয়াল ভঙ্গ করে শুক্রবার সকালে (১১ জুন) গাড়ি বুকিং দেয়া নিয়ে দালালরা আমাদের মারপিট করে।

ট্রাকচালক শাহিন শেখ জানান, প্রথমে শ্রমিকে শ্রমিকে মারামারি শুরু হয়। এরপর দালাল এসে বাড়তি টাকা নিয়ে বুকিং দেয়া তার গাড়ি শ্রমিকের পক্ষ নিয়ে অন্য চালকদের মারপিট করে। এক পর্যায়ে যানবাহন শ্রমিকরা জড়ো হলে চিহ্নিত ওইসব দালালরা পালিয়ে যায়। বিআইডব্লিউটিসি’র ডিজিএম মো. জিল্লুর রহমান বলেন, আরিচা ঘাটে দালালদের বিষয়টি স্থানীয় পুলিশ প্রশাসনকে জানানো হয়েছে। এ ব্যাপারে তারা প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করবেন বলে জানিয়েছেন।

এ ব্যাপারে মানিকগঞ্জের পুলিশ সুপার রিফাত রহমান শামীম বলেন, আরিচা ঘাটে দালালদের বিষয়ে খুব দ্রুতই পদক্ষেপ নেয়া হবে।