কুমিল্লায় মুক্তিযোদ্ধাদের তালিকা যাচাই-বাছাই নিয়ে এলাকায় ক্ষোভ ও বিস্ময়

মুক্তিযোদ্ধাদের তালিকা পুনরায় যাচাই-বাছাই করছে জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিল (জামুকা)। ইতোমধ্যে সংশ্লিষ্ট ওয়েবসাইটে দেশের বিভিন্ন জেলার উপজেলা ওয়ারি একটি তালিকা প্রকাশ করা হয়েছে। কুমিল্লার এ তালিকায় নাম রয়েছে সাবেক প্রধানমন্ত্রী কাজী জাফর আহমেদ, সাবেক মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী রেদোয়ান আহমেদ, সাবেক এমপি আনসার আহমেদসহ রাজনৈতিক গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তির। এছাড়া যুদ্ধকালীন সাব সেক্টর কমান্ডার, ক্যাম্প ইনচার্জ ও ডেপুটি ক্যাম্প ইনচার্জও রয়েছেন এ তালিকায়। যাদের সুপারিশে অন্যরা মুক্তিযোদ্ধা সনদ পেয়েছেন, বরেণ্য এসব মুক্তিযোদ্ধাদের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করায় বিস্ময় ও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন মুক্তিযোদ্ধারা। উদ্ভুত এমন পরিস্থিতিতে যাচাই-বাছাইয়ের নামে জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিলের মহাপরিচালকের স্বেচ্ছাচারিতা বন্ধের দাবি জানিয়ে প্রধানমন্ত্রীর কাছে পত্র প্রেরণ করা হয়েছে।

জানা গেছে, একাত্তরে বঙ্গবন্ধুর আহ্বানে সাড়া দিয়ে মহান মুক্তিযুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়েছিল বাঙালি জাতি। পাক হানাদার বাহিনীদের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে দেশের অন্যান্য স্থানের ন্যায় কুমিল্লা জেলার মুক্তিযোদ্ধাদের ভূমিকাও ছিল অন্যতম। স্বাধীনতা সংগ্রামের ৪৯ বছর পর পুনরায় মুক্তিযোদ্ধাদের তালিকা যাচাই-বাছাই করছে জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিল। কুমিল্লায় ১৭টি উপজেলার মধ্যে ১৫টি উপজেলার মুক্তিযোদ্ধাদের পৃথক তালিকা ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হয়েছে।

প্রকাশিত তালিকা থেকে জানা যায়, জেলার আদর্শ সদরে ২২১ জন, সদর দক্ষিণে ৫০ জন, বরুড়ায় ৫৭ জন, বুড়িচংয়ে ৭৬ জন, ব্রাহ্মণপাড়ায় ১৫১ জন, চান্দিনায় ৭১ জন, চৌদ্দগ্রামে ১৯৬ জন, দাউদকান্দিতে ১৭৭ জন, দেবিদ্বারে ৫২৩ জন, হোমনায় ৭৭ জন, লাকসামে ১০৫ জন, মেঘনায় ৪৮ জন, মুরাদনগরে ২২৫ জন, নাঙ্গলকোটে ১১৬ জন ও তিতাসে ৪৪ জন মুক্তিযোদ্ধাকে যাচাই-বাছাই তালিকায় রাখা হয়েছে। এতে নাম রয়েছে সাবেক প্রধানমন্ত্রী কাজী জাফর আহমেদ, সাবেক মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী রেদোয়ান আহমেদ, সাবেক এমপি আনসার আহমেদ, আদর্শ সদর উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান অধ্যক্ষ আ. রউফ, ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান জাহাঙ্গীর খান চৌধুরী প্রমুখ।

রাজনৈতিক ব্যক্তিদের পাশাপাশি নাম রয়েছে কুমিল্লার বাসিন্দা যুদ্ধকালীন রংপুর সেক্টরের সাব সেক্টর কমান্ডার কর্নেল নওয়াজেশ উদ্দিন, দুর্গা চৌধুরীপাড়া ক্যাম্পের ডেপুটি ক্যাম্প চিফ কিরণময় দত্ত, বিবিরবাজার যুদ্ধে নেতৃত্বদানকারী কটকবাজার যুদ্ধে যুদ্ধকালীন কমান্ডার ও ২নং সেক্টর গঠনে অগ্রণী ভূমিকা পালনকারী রেজাউল আহম্মেদসহ সমাজে প্রতিষ্ঠিত গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিরা। এছাড়া খেতাবপ্রাপ্ত মুক্তিযোদ্ধাদের মধ্যে রয়েছেন বুড়িচং উপজেলার ভারেল্লা ইউনিয়নের কুসুমপুর গ্রামের মইনুল হোসেন (বীর উত্তম), চৌদ্দগ্রামের কালকোট গ্রামের আবদুল কাদের (বীর প্রতীক), চিওড়া গ্রামের বাহার উদ্দিন রেজা (বীর প্রতীক), লাকসামের পূর্ব বাতাবাড়িয়া গ্রামের মৃত আবদুল খালেক (বীর প্রতীক) প্রমুখ। এদিকে যাচাই-বাছাইয়ে প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধাদের নাম তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করায় বিস্ময় ও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন মুক্তিযোদ্ধা ও তাদের স্বজনরা। যাচাই-বাছাই তালিকায় সর্বমহলে স্বীকৃত বরেণ্য ব্যক্তিদের নাম উল্লেখ করায় জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিলের মহাপরিচালকের স্বেচ্ছাচারিতা বন্ধের দাবি জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বরাবরে গত রেববার পত্র প্রেরণ করেন জেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের সাবেক কমান্ডার সফিউল আহমেদ বাবুল। পত্রে উল্লেখ করা হয়, ‘সম্প্রতি মুক্তিযোদ্ধা যাচাই-বাছাইয়ের নামে কুমিল্লায় যেসব বীর মুক্তিযোদ্ধাদের নাম তালিকায় এসেছে তা দেখে যে কেউই বিব্রত বা স্তম্ভিত না হয়ে পারেন না। ২নং সেক্টরের গঠনপূর্ব প্রক্রিয়ার অন্যতম নায়ক যিনি ক্যাপ্টেন রেজা নামে পরিচিত ছিলেন তিনিসহ কর্নেল নওয়াজেশ উদ্দিন, অধ্যক্ষ আবদুর রউফ, অ্যাডভোকেট আফজল খান, সৈয়দ রেজাউর রহমান প্রমুখ যারা মুক্তিযুদ্ধ ক্যাম্প ইনচার্জ ছিলেন এবং বরেণ্য মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে সর্বমহলে স্বীকৃত, তাদের নামসহ যারা মুক্তিযুদ্ধকালে কুমিল্লা শহরের গেরিলা তৎপরতার জন্য সু-পরিচিত এবং আরও অনেক বীর মুক্তিযোদ্ধার নাম যাচাই-বাছাই তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করায় এক বিব্রতকর, দুঃখজনক পরিস্থিতির উদ্ভব হয়েছে। এর অবসান হওয়া জরুরি।

জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিলের মহাপরিচালকের এসব কর্মকা- সরকারের ভাবমূর্তি ক্ষুণœ করে মুজিব শতবর্ষের সরকারের সামগ্রিক কর্মকা-গুলোকে প্রশ্নবিদ্ধ করে মুজিব শতবর্ষকেই মলিন করে তুলবে। আমরা জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিলের মহাপরিচালকের এরূপ স্বেচ্ছাচারিতায় যেসব মুক্তিযোদ্ধা অসম্মান, অপমানিত বোধ করেছেন তাদের সে দুঃখ ঘোচাতে পারব না কিন্তু জামুকার এই মহাপরিচালকের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি প্রদান করে সে ভার লাঘবের আশু কার্যকরী পদক্ষেপ গ্রহণ করার জন্য বিশেষ প্রার্থনা জানাইতেছি।’ তবে এ বিষয়ে জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিলের মহাপরিচালক মো. জহুরুল ইসলাম রোহেল বলেন, ‘২০০২ থেকে ২০১০ সাল পর্যন্ত যেসব গেজেট হয়েছে, তা আমরা রেগুলার করব।

জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিলের সিদ্ধান্ত ছাড়া যেসব গেজেট হয়েছে, সেসব গেজেট নিয়মিতকরণ করার জন্য আমরা পরিকল্পনা নিয়েছি। ভবিষ্যতে মুক্তিযোদ্ধারা যেন আর কোন সমস্যায় না পড়েন। আগামী ২০ জানুয়ারির মধ্যে যাচাই-বাছাই করে ইউএনওরা তালিকা প্রেরণ করবেন এবং ৩০ জানুয়ারি যাচাই-বাছাই করা হবে। এরপরও বরেণ্যদের মধ্যে যাদের নাম তালিকায় প্রকাশ হয়েছে, এটা জানার সঙ্গে সঙ্গে আমরা তা অমিট (বাদ) দিচ্ছি। এক্ষেত্রে মুক্তিযোদ্ধাদের অপমানিত বোধ করার কোন কারণ নেই।’

মঙ্গলবার, ১২ জানুয়ারী ২০২১ , ২৮ পৌষ ১৪২৭, ২৭ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪২

কুমিল্লায় মুক্তিযোদ্ধাদের তালিকা যাচাই-বাছাই নিয়ে এলাকায় ক্ষোভ ও বিস্ময়

প্রধানমন্ত্রীর কাছে চিঠি

মুক্তিযোদ্ধাদের তালিকা পুনরায় যাচাই-বাছাই করছে জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিল (জামুকা)। ইতোমধ্যে সংশ্লিষ্ট ওয়েবসাইটে দেশের বিভিন্ন জেলার উপজেলা ওয়ারি একটি তালিকা প্রকাশ করা হয়েছে। কুমিল্লার এ তালিকায় নাম রয়েছে সাবেক প্রধানমন্ত্রী কাজী জাফর আহমেদ, সাবেক মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী রেদোয়ান আহমেদ, সাবেক এমপি আনসার আহমেদসহ রাজনৈতিক গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তির। এছাড়া যুদ্ধকালীন সাব সেক্টর কমান্ডার, ক্যাম্প ইনচার্জ ও ডেপুটি ক্যাম্প ইনচার্জও রয়েছেন এ তালিকায়। যাদের সুপারিশে অন্যরা মুক্তিযোদ্ধা সনদ পেয়েছেন, বরেণ্য এসব মুক্তিযোদ্ধাদের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করায় বিস্ময় ও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন মুক্তিযোদ্ধারা। উদ্ভুত এমন পরিস্থিতিতে যাচাই-বাছাইয়ের নামে জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিলের মহাপরিচালকের স্বেচ্ছাচারিতা বন্ধের দাবি জানিয়ে প্রধানমন্ত্রীর কাছে পত্র প্রেরণ করা হয়েছে।

জানা গেছে, একাত্তরে বঙ্গবন্ধুর আহ্বানে সাড়া দিয়ে মহান মুক্তিযুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়েছিল বাঙালি জাতি। পাক হানাদার বাহিনীদের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে দেশের অন্যান্য স্থানের ন্যায় কুমিল্লা জেলার মুক্তিযোদ্ধাদের ভূমিকাও ছিল অন্যতম। স্বাধীনতা সংগ্রামের ৪৯ বছর পর পুনরায় মুক্তিযোদ্ধাদের তালিকা যাচাই-বাছাই করছে জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিল। কুমিল্লায় ১৭টি উপজেলার মধ্যে ১৫টি উপজেলার মুক্তিযোদ্ধাদের পৃথক তালিকা ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হয়েছে।

প্রকাশিত তালিকা থেকে জানা যায়, জেলার আদর্শ সদরে ২২১ জন, সদর দক্ষিণে ৫০ জন, বরুড়ায় ৫৭ জন, বুড়িচংয়ে ৭৬ জন, ব্রাহ্মণপাড়ায় ১৫১ জন, চান্দিনায় ৭১ জন, চৌদ্দগ্রামে ১৯৬ জন, দাউদকান্দিতে ১৭৭ জন, দেবিদ্বারে ৫২৩ জন, হোমনায় ৭৭ জন, লাকসামে ১০৫ জন, মেঘনায় ৪৮ জন, মুরাদনগরে ২২৫ জন, নাঙ্গলকোটে ১১৬ জন ও তিতাসে ৪৪ জন মুক্তিযোদ্ধাকে যাচাই-বাছাই তালিকায় রাখা হয়েছে। এতে নাম রয়েছে সাবেক প্রধানমন্ত্রী কাজী জাফর আহমেদ, সাবেক মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী রেদোয়ান আহমেদ, সাবেক এমপি আনসার আহমেদ, আদর্শ সদর উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান অধ্যক্ষ আ. রউফ, ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান জাহাঙ্গীর খান চৌধুরী প্রমুখ।

রাজনৈতিক ব্যক্তিদের পাশাপাশি নাম রয়েছে কুমিল্লার বাসিন্দা যুদ্ধকালীন রংপুর সেক্টরের সাব সেক্টর কমান্ডার কর্নেল নওয়াজেশ উদ্দিন, দুর্গা চৌধুরীপাড়া ক্যাম্পের ডেপুটি ক্যাম্প চিফ কিরণময় দত্ত, বিবিরবাজার যুদ্ধে নেতৃত্বদানকারী কটকবাজার যুদ্ধে যুদ্ধকালীন কমান্ডার ও ২নং সেক্টর গঠনে অগ্রণী ভূমিকা পালনকারী রেজাউল আহম্মেদসহ সমাজে প্রতিষ্ঠিত গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিরা। এছাড়া খেতাবপ্রাপ্ত মুক্তিযোদ্ধাদের মধ্যে রয়েছেন বুড়িচং উপজেলার ভারেল্লা ইউনিয়নের কুসুমপুর গ্রামের মইনুল হোসেন (বীর উত্তম), চৌদ্দগ্রামের কালকোট গ্রামের আবদুল কাদের (বীর প্রতীক), চিওড়া গ্রামের বাহার উদ্দিন রেজা (বীর প্রতীক), লাকসামের পূর্ব বাতাবাড়িয়া গ্রামের মৃত আবদুল খালেক (বীর প্রতীক) প্রমুখ। এদিকে যাচাই-বাছাইয়ে প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধাদের নাম তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করায় বিস্ময় ও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন মুক্তিযোদ্ধা ও তাদের স্বজনরা। যাচাই-বাছাই তালিকায় সর্বমহলে স্বীকৃত বরেণ্য ব্যক্তিদের নাম উল্লেখ করায় জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিলের মহাপরিচালকের স্বেচ্ছাচারিতা বন্ধের দাবি জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বরাবরে গত রেববার পত্র প্রেরণ করেন জেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের সাবেক কমান্ডার সফিউল আহমেদ বাবুল। পত্রে উল্লেখ করা হয়, ‘সম্প্রতি মুক্তিযোদ্ধা যাচাই-বাছাইয়ের নামে কুমিল্লায় যেসব বীর মুক্তিযোদ্ধাদের নাম তালিকায় এসেছে তা দেখে যে কেউই বিব্রত বা স্তম্ভিত না হয়ে পারেন না। ২নং সেক্টরের গঠনপূর্ব প্রক্রিয়ার অন্যতম নায়ক যিনি ক্যাপ্টেন রেজা নামে পরিচিত ছিলেন তিনিসহ কর্নেল নওয়াজেশ উদ্দিন, অধ্যক্ষ আবদুর রউফ, অ্যাডভোকেট আফজল খান, সৈয়দ রেজাউর রহমান প্রমুখ যারা মুক্তিযুদ্ধ ক্যাম্প ইনচার্জ ছিলেন এবং বরেণ্য মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে সর্বমহলে স্বীকৃত, তাদের নামসহ যারা মুক্তিযুদ্ধকালে কুমিল্লা শহরের গেরিলা তৎপরতার জন্য সু-পরিচিত এবং আরও অনেক বীর মুক্তিযোদ্ধার নাম যাচাই-বাছাই তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করায় এক বিব্রতকর, দুঃখজনক পরিস্থিতির উদ্ভব হয়েছে। এর অবসান হওয়া জরুরি।

জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিলের মহাপরিচালকের এসব কর্মকা- সরকারের ভাবমূর্তি ক্ষুণœ করে মুজিব শতবর্ষের সরকারের সামগ্রিক কর্মকা-গুলোকে প্রশ্নবিদ্ধ করে মুজিব শতবর্ষকেই মলিন করে তুলবে। আমরা জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিলের মহাপরিচালকের এরূপ স্বেচ্ছাচারিতায় যেসব মুক্তিযোদ্ধা অসম্মান, অপমানিত বোধ করেছেন তাদের সে দুঃখ ঘোচাতে পারব না কিন্তু জামুকার এই মহাপরিচালকের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি প্রদান করে সে ভার লাঘবের আশু কার্যকরী পদক্ষেপ গ্রহণ করার জন্য বিশেষ প্রার্থনা জানাইতেছি।’ তবে এ বিষয়ে জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিলের মহাপরিচালক মো. জহুরুল ইসলাম রোহেল বলেন, ‘২০০২ থেকে ২০১০ সাল পর্যন্ত যেসব গেজেট হয়েছে, তা আমরা রেগুলার করব।

জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিলের সিদ্ধান্ত ছাড়া যেসব গেজেট হয়েছে, সেসব গেজেট নিয়মিতকরণ করার জন্য আমরা পরিকল্পনা নিয়েছি। ভবিষ্যতে মুক্তিযোদ্ধারা যেন আর কোন সমস্যায় না পড়েন। আগামী ২০ জানুয়ারির মধ্যে যাচাই-বাছাই করে ইউএনওরা তালিকা প্রেরণ করবেন এবং ৩০ জানুয়ারি যাচাই-বাছাই করা হবে। এরপরও বরেণ্যদের মধ্যে যাদের নাম তালিকায় প্রকাশ হয়েছে, এটা জানার সঙ্গে সঙ্গে আমরা তা অমিট (বাদ) দিচ্ছি। এক্ষেত্রে মুক্তিযোদ্ধাদের অপমানিত বোধ করার কোন কারণ নেই।’