বিপ্লব দেবের গড়ে তৃণমূলের শক্তি বৃদ্ধির কৌশল জিতবে ত্রিপুরা

বাংলার ভবানীপুরে রেকর্ড পরিমাণ ভোটে জেতার পর এবার ত্রিপুরায় বিপ্লব দেবের গড়ে তৃণমূল কংগ্রেসকে শক্তিশালী করতে আরও বেশি মনোযোগ দিয়েছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এজন্য আগামী ডিসেম্বরে মমতার আগরতলায় যাওয়ার কর্মসূচি রয়েছে। ঠিক তার আগে নভেম্বরে ফের আগরতলায় যাবেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। শনিবার দলের ভার্চুয়াল বৈঠকের পর এমনটাই তৃণমূল সূত্রে খবর।

আগামী দিনে ত্রিপুরার জন্য কী হবে রণনীতি, সেটাই ঠিক করা হয়েছে এ দিনের বৈঠকে। এ ছাড়াও সংগঠনকে শক্তিশালী করতে সদ্য ত্রিপুরায় তৃণমূলের একটি শক্তিশালী রাজ্য স্টিয়ারিং কমিটি তৈরি করা হয়েছে। এছাড়া, আগামী ২১ অক্টোবর থেকে তৃণমূল জনসংযোগ অভিযানও শুরু করবে ত্রিপুরায়। টানা ১০ দিন চলবে ওই প্রচার কর্মসূচি। সেই বিষয়েই এ দিনের বৈঠকে আলোচনা করেছেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। বিজেপির বিরোধিতায় সব নেতাদের রাস্তায় নামার নির্দেশ দেয়া হয়েছে। স্টিয়ারিং কমিটির নেতাদের দায়িত্ব জেলা ভিত্তিতে ভাগ করে দেয়া হয়েছে।

পাশাপাশি এদিন গোষ্ঠী দ্বন্দ্ব মেটাতে সচেষ্ট হয়েছেন অভিষেক। নেতাদের উদ্দেশে তিনি বলেছেন, কেউ কারও অধীন নয়। সবাই মমতার অধীনে কাজ করছে। সব গোষ্ঠীর মধ্যে সমন্বয় সাধনের চেষ্টা করেছেন তিনি। আগামী দিনে ত্রিপুরায় পুরসভার ভোটেও লড়বে তৃণমূল। আজ নবগঠিত কমিটির বৈঠকে তেমনই ইঙ্গিত দিয়েছেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। ডিসেম্বরে খোদ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও যাবেন ত্রিপুরায়, এমন সম্ভাবনার কথাও শোনা যাচ্ছে।

এ দিন কমিটির তিন নেতাকে আট জেলার দায়িত্ব দেয়া হয়েছে। সুস্মিতা দেবকে দেয়া হয়েছে পশ্চিম ত্রিপুরা ও সিপাহীজলার দায়িত্ব। আশিষ লাল সিংহ দেখবেন, ধলাই, খোয়াই, উনকোটি ও উত্তর ত্রিপুরা। সুবল ভৌমিকের দায়িত্বে দক্ষিণ ত্রিপুরা, গোমতী ও সিপাহীজলা। তিনটি দলের মাথায় থাকছে স্টিয়ারিং কমিটির আহ্বায়ক সুবল ভৌমিক, রাজ্যসভার সাংসদ সুস্মিতা দেব ও যুব তৃণমূল কংগ্রেসের স্টিয়ারিং কমিটির আহ্বায়ক বাপটু চক্রবর্তী। প্রথম ২ দলে ৯ জন করে প্রতিনিধি থাকছেন। ৬ জন করে প্রদেশ তৃণমূল কংগ্রেস স্টিয়ারিং সদস্য ৩ জন করে যুব তৃণমূল স্টিয়ারিং কমিটির সদস্য। শেষ দলে রয়েছেন ১২ জন। মোট ৩০ জন কাজ করবে গোটা রাজ্য জুড়ে। মোট তিনটি দলে ভাগ হয়ে গোটা রাজ্যে সংগঠন বিস্তারের কাজ করবে তারা। মানুষের স্বার্থে লড়াই করে তৃণমূল আওয়াজ তুলেছে, ‘জিতবে ত্রিপুরা’। এই প্রেক্ষাপটে মহালয়ার দিন ত্রিপুরার জন্য স্টিয়ারিং কমিটি ঘোষণা করা হয়। নতুন কমিটি কীভাবে কাজ করবে, তার রূপরেখা নির্ধারণে ত্রিপুরার নেতৃত্বকে দিক-নির্দেশনা দিয়েছেন অভিষেক। দলীয়সূত্রে খবর, বৈঠকে অভিষেক বলেছেন, বিপ্লব দেবের প্রশাসন যতই চেষ্টা করুক তাঁকে কোনওভাবে আটকে রাখা যাবে না। ত্রিপুরা প্রশাসন ইতিমধ্যেই রাজনৈতিক জমায়েতের ওপর ১৪৪ ধারা জারি করেছে যা বলবৎ থাকবে ৪ নভেম্বর পর্যন্ত। সেটা উঠলেই নভেম্বরে তিনি ত্রিপুরা সফরে যাচ্ছেন। পাশাপাশি তিনি এটাও উল্লেখ করেছেন, ডিসেম্বরে ত্রিপুরায় কর্মসূচি রয়েছে তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়-এর। ফলে মমতার পদার্পণে ত্রিপুরায় নতুন রাজনৈতিক উন্মাদনা তৈরি হবে বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল। তবে তার আগে ঠাসা কর্মসূচি ঘোষণা করেছেন অভিষেক।

এছাড়া ২১ অক্টোবর থেকে ত্রিপুরাজুড়ে লাগাতার কর্মসূচি নিচ্ছে তৃণমূল। কলকাতা থেকে যাবে দলের লোগো ও সাউন্ড সিস্টেমে সুসজ্জিত গাড়ি। বাংলায় বিধানসভা নির্বাচনের সময় ‘দিদির দূত’ নামে এই ধরনের গাড়ি ব্যবহার করা হয়েছিল। এবার সেই ধরনের গাড়ি ত্রিপুরায় নামাচ্ছে তৃণমূল। বলা হয়েছে, গাড়ি যাবে শহর-গ্রামের হাট-বাজার সহ জনবহুল এলাকায়। বাংলায় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকারের উন্নয়ন এবং তৃণমূলের কথা তুলে ধরবেন নেতৃত্ব। বিজেপির সময়কালে দেশ কীভাবে পিছিয়ে গিয়েছে, সেই বক্তব্যও রাখবেন নেতারা। বৈঠকে অভিষেক বলেছেন, পাঁচ-দশজন মানুষ থাকলেও তাঁদের সামনে তৃণমূলের কথা তুলে ধরতে হবে। প্রতিটি টিম দিনে দশ জায়গায় অন্তত আধঘণ্টা করে কর্মসূচি পালন করবে। ২১ অক্টোবর থেকে এই কর্মসূচি চলবে টানা দশদিন। বৈঠকের পর ত্রিপুরার তৃণমূল নেতৃত্ব বলেছেন, বিজেপির বিরুদ্ধে ‘অলআউট’ লড়াই চলবে।

ত্রিপুরা প্রদেশ তৃণমূল কংগ্রেসের স্টিয়ারিং কমিটি ও যুব কমিটির সঙ্গে ভার্চুয়াল বৈঠকে অভিষেক ব্যানার্জি বলেন, বাম-কংগ্রেস তো বিজেপিকে হারাতে পারবে না। বিজেপিকে তাড়াবে তৃণমূল। অভিষেক বলেন, ‘সিপিএম-কে এখন রাস্তায় দেখা যায় না। মাঠেও নেই সিপিএম। কার্যত বসে পড়েছে। আর কংগ্রেস তো ভুগছে অস্তিত্ব সংকটে। কংগ্রেস পার্টিতে রোজ চারটে করে রেজিগনেশন হচ্ছে। এক-দেড় পার্সেন্টের পার্টি হয়ে গিয়েছে কংগ্রেস। তাই সবাইকে বলছি কংগ্রেস-সিপিএমকে ভোট দেয়া মানে নিজেদের ভোট নষ্ট করা। দেশ থেকে বিজেপিকে তাড়াতে হলে তৃণমূল ও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের হাত শক্ত করতে হবে।’ অভিষেক ব্যানার্জি বলেন, ‘মানুষের আশীর্বাদ এবং সমর্থন নিয়ে ত্রিপুরায় সরকার গড়বে তৃণমূল। জোড়াফুল চিহ্নে মানুষের আস্থা, ভালোবাসা, আশীর্বাদ থাকলে বিপ্লব দেবের সরকারকে অস্তমিত করে মানুষের সরকার প্রতিষ্ঠা করে দেখিয়ে দেব।’

রবিবার, ১০ অক্টোবর ২০২১ , ২৫ আশ্বিন ১৪২৮ ০২ রবিউল আউয়াল ১৪৪৩

বিপ্লব দেবের গড়ে তৃণমূলের শক্তি বৃদ্ধির কৌশল জিতবে ত্রিপুরা

বাংলার ভবানীপুরে রেকর্ড পরিমাণ ভোটে জেতার পর এবার ত্রিপুরায় বিপ্লব দেবের গড়ে তৃণমূল কংগ্রেসকে শক্তিশালী করতে আরও বেশি মনোযোগ দিয়েছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এজন্য আগামী ডিসেম্বরে মমতার আগরতলায় যাওয়ার কর্মসূচি রয়েছে। ঠিক তার আগে নভেম্বরে ফের আগরতলায় যাবেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। শনিবার দলের ভার্চুয়াল বৈঠকের পর এমনটাই তৃণমূল সূত্রে খবর।

আগামী দিনে ত্রিপুরার জন্য কী হবে রণনীতি, সেটাই ঠিক করা হয়েছে এ দিনের বৈঠকে। এ ছাড়াও সংগঠনকে শক্তিশালী করতে সদ্য ত্রিপুরায় তৃণমূলের একটি শক্তিশালী রাজ্য স্টিয়ারিং কমিটি তৈরি করা হয়েছে। এছাড়া, আগামী ২১ অক্টোবর থেকে তৃণমূল জনসংযোগ অভিযানও শুরু করবে ত্রিপুরায়। টানা ১০ দিন চলবে ওই প্রচার কর্মসূচি। সেই বিষয়েই এ দিনের বৈঠকে আলোচনা করেছেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। বিজেপির বিরোধিতায় সব নেতাদের রাস্তায় নামার নির্দেশ দেয়া হয়েছে। স্টিয়ারিং কমিটির নেতাদের দায়িত্ব জেলা ভিত্তিতে ভাগ করে দেয়া হয়েছে।

পাশাপাশি এদিন গোষ্ঠী দ্বন্দ্ব মেটাতে সচেষ্ট হয়েছেন অভিষেক। নেতাদের উদ্দেশে তিনি বলেছেন, কেউ কারও অধীন নয়। সবাই মমতার অধীনে কাজ করছে। সব গোষ্ঠীর মধ্যে সমন্বয় সাধনের চেষ্টা করেছেন তিনি। আগামী দিনে ত্রিপুরায় পুরসভার ভোটেও লড়বে তৃণমূল। আজ নবগঠিত কমিটির বৈঠকে তেমনই ইঙ্গিত দিয়েছেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। ডিসেম্বরে খোদ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও যাবেন ত্রিপুরায়, এমন সম্ভাবনার কথাও শোনা যাচ্ছে।

এ দিন কমিটির তিন নেতাকে আট জেলার দায়িত্ব দেয়া হয়েছে। সুস্মিতা দেবকে দেয়া হয়েছে পশ্চিম ত্রিপুরা ও সিপাহীজলার দায়িত্ব। আশিষ লাল সিংহ দেখবেন, ধলাই, খোয়াই, উনকোটি ও উত্তর ত্রিপুরা। সুবল ভৌমিকের দায়িত্বে দক্ষিণ ত্রিপুরা, গোমতী ও সিপাহীজলা। তিনটি দলের মাথায় থাকছে স্টিয়ারিং কমিটির আহ্বায়ক সুবল ভৌমিক, রাজ্যসভার সাংসদ সুস্মিতা দেব ও যুব তৃণমূল কংগ্রেসের স্টিয়ারিং কমিটির আহ্বায়ক বাপটু চক্রবর্তী। প্রথম ২ দলে ৯ জন করে প্রতিনিধি থাকছেন। ৬ জন করে প্রদেশ তৃণমূল কংগ্রেস স্টিয়ারিং সদস্য ৩ জন করে যুব তৃণমূল স্টিয়ারিং কমিটির সদস্য। শেষ দলে রয়েছেন ১২ জন। মোট ৩০ জন কাজ করবে গোটা রাজ্য জুড়ে। মোট তিনটি দলে ভাগ হয়ে গোটা রাজ্যে সংগঠন বিস্তারের কাজ করবে তারা। মানুষের স্বার্থে লড়াই করে তৃণমূল আওয়াজ তুলেছে, ‘জিতবে ত্রিপুরা’। এই প্রেক্ষাপটে মহালয়ার দিন ত্রিপুরার জন্য স্টিয়ারিং কমিটি ঘোষণা করা হয়। নতুন কমিটি কীভাবে কাজ করবে, তার রূপরেখা নির্ধারণে ত্রিপুরার নেতৃত্বকে দিক-নির্দেশনা দিয়েছেন অভিষেক। দলীয়সূত্রে খবর, বৈঠকে অভিষেক বলেছেন, বিপ্লব দেবের প্রশাসন যতই চেষ্টা করুক তাঁকে কোনওভাবে আটকে রাখা যাবে না। ত্রিপুরা প্রশাসন ইতিমধ্যেই রাজনৈতিক জমায়েতের ওপর ১৪৪ ধারা জারি করেছে যা বলবৎ থাকবে ৪ নভেম্বর পর্যন্ত। সেটা উঠলেই নভেম্বরে তিনি ত্রিপুরা সফরে যাচ্ছেন। পাশাপাশি তিনি এটাও উল্লেখ করেছেন, ডিসেম্বরে ত্রিপুরায় কর্মসূচি রয়েছে তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়-এর। ফলে মমতার পদার্পণে ত্রিপুরায় নতুন রাজনৈতিক উন্মাদনা তৈরি হবে বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল। তবে তার আগে ঠাসা কর্মসূচি ঘোষণা করেছেন অভিষেক।

এছাড়া ২১ অক্টোবর থেকে ত্রিপুরাজুড়ে লাগাতার কর্মসূচি নিচ্ছে তৃণমূল। কলকাতা থেকে যাবে দলের লোগো ও সাউন্ড সিস্টেমে সুসজ্জিত গাড়ি। বাংলায় বিধানসভা নির্বাচনের সময় ‘দিদির দূত’ নামে এই ধরনের গাড়ি ব্যবহার করা হয়েছিল। এবার সেই ধরনের গাড়ি ত্রিপুরায় নামাচ্ছে তৃণমূল। বলা হয়েছে, গাড়ি যাবে শহর-গ্রামের হাট-বাজার সহ জনবহুল এলাকায়। বাংলায় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকারের উন্নয়ন এবং তৃণমূলের কথা তুলে ধরবেন নেতৃত্ব। বিজেপির সময়কালে দেশ কীভাবে পিছিয়ে গিয়েছে, সেই বক্তব্যও রাখবেন নেতারা। বৈঠকে অভিষেক বলেছেন, পাঁচ-দশজন মানুষ থাকলেও তাঁদের সামনে তৃণমূলের কথা তুলে ধরতে হবে। প্রতিটি টিম দিনে দশ জায়গায় অন্তত আধঘণ্টা করে কর্মসূচি পালন করবে। ২১ অক্টোবর থেকে এই কর্মসূচি চলবে টানা দশদিন। বৈঠকের পর ত্রিপুরার তৃণমূল নেতৃত্ব বলেছেন, বিজেপির বিরুদ্ধে ‘অলআউট’ লড়াই চলবে।

ত্রিপুরা প্রদেশ তৃণমূল কংগ্রেসের স্টিয়ারিং কমিটি ও যুব কমিটির সঙ্গে ভার্চুয়াল বৈঠকে অভিষেক ব্যানার্জি বলেন, বাম-কংগ্রেস তো বিজেপিকে হারাতে পারবে না। বিজেপিকে তাড়াবে তৃণমূল। অভিষেক বলেন, ‘সিপিএম-কে এখন রাস্তায় দেখা যায় না। মাঠেও নেই সিপিএম। কার্যত বসে পড়েছে। আর কংগ্রেস তো ভুগছে অস্তিত্ব সংকটে। কংগ্রেস পার্টিতে রোজ চারটে করে রেজিগনেশন হচ্ছে। এক-দেড় পার্সেন্টের পার্টি হয়ে গিয়েছে কংগ্রেস। তাই সবাইকে বলছি কংগ্রেস-সিপিএমকে ভোট দেয়া মানে নিজেদের ভোট নষ্ট করা। দেশ থেকে বিজেপিকে তাড়াতে হলে তৃণমূল ও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের হাত শক্ত করতে হবে।’ অভিষেক ব্যানার্জি বলেন, ‘মানুষের আশীর্বাদ এবং সমর্থন নিয়ে ত্রিপুরায় সরকার গড়বে তৃণমূল। জোড়াফুল চিহ্নে মানুষের আস্থা, ভালোবাসা, আশীর্বাদ থাকলে বিপ্লব দেবের সরকারকে অস্তমিত করে মানুষের সরকার প্রতিষ্ঠা করে দেখিয়ে দেব।’