শেয়ারবাজারে ফিরেছে আরও ছয় হাজার কোটি টাকা

আগের সপ্তাহের মতো গত সপ্তাহেও উত্থানে পার করেছে দেশের শেয়ারবাজার। সপ্তাহটিতে শেয়ারবাজারের সব সূচক বেড়েছে। একই সঙ্গে বেড়েছে টাকার পরিমাণে লেনদেন এবং বেশিরভাগ প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিট দর। উত্থানের কারণে বিনিয়োগকারীরা সপ্তাহটিতে আরও ছয় হাজার কোটি টাকা ফিরে পেয়েছে।

সপ্তাহের প্রথম কার্যদিবস লেনদেন শুরুর আগে ডিএসইতে বাজার মূলধন ছিল ৫ লাখ ২ হাজার ৭৪৩ কোটি ৫০ লাখ ২৮ হাজার টাকায়। আর সপ্তাহের শেষ কার্যদিবসে লেনদেন শেষে বাজার মূলধন দাঁড়ায় ৫ লাখ ৮ হাজার ৯৪৭ কোটি ৪৫ লাখ ৭৫ হাজার টাকায়। অর্থাৎ সপ্তাহের ব্যবধানে বিনিয়োগকারীরা ৬ হাজার ২০৩ কোটি ৯৫ লাখ ৪৭ হাজার টাকা বাজার মূলধন ফিরে পেয়েছে।

গত সপ্তাহে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) ১০ হাজার ২৫৮ কোটি ৬৫ লাখ ৬৯ হাজার ৫০৯ টাকার লেনদেন হয়েছে। আর আগের সপ্তাহে লেনদেন হয়েছিল ৭ হাজার ৬৮৩ কোটি ৭৮ লাখ ৭৩ হাজার ১১৫ টাকার। অর্থাৎ সপ্তাহের ব্যবধানে ডিএসইতে লেনদেন ২ হাজার ৫৭৪ কোটি ৮৬ লাখ ৯৬ হাজার ৩৯৪ টাকা বা ৩৩.৫১ শতাংশ বেড়েছে।

সপ্তাহের ব্যবধানে ডিএসইর প্রধান সূচক ডিএসইএক্স ৬৭.৬১ পয়েন্ট বা ১.১৩ শতাংশ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৬ হাজার ৫৩.৪৩ পয়েন্টে। অন্য সূচকগুলোর মধ্যে শরিয়াহ সূচক ৮.১৬ পয়েন্ট বা ০.৬৪ শতাংশ এবং ডিএসই-৩০ সূচক ১৩.৮৫ পয়েন্ট বা ০.৬৩ শতাংশ বেড়ে দাঁড়িয়েছে যথাক্রমে ১ হাজার ২৯৩.১৭ পয়েন্ট এবং ২ হাজার ২০৩.৫৯ পয়েন্টে। গত সপ্তাহে ডিএসইতে মোট ৩৭১টি প্রতিষ্ঠান শেয়ার ও ইউনিট লেনদেনে অংশ নিয়েছে। প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে দর বেড়েছে ১৯২টির বা ৫১.৭৫ শতাংশের, কমেছে ১৩০টির বা ৩৫.০৪ শতাংশের এবং অপরিবর্তিত রয়েছে ৪৯টির বা ১৩.২১ শতাংশের শেয়ার ও ইউনিট দর।

অন্য শেয়ারবাজার চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জে (সিএসই) গত সপ্তাহে টাকার পরিমাণে লেনদেন হয়েছে ৩৭৮ কোটি ৩২ লাখ ৪২ হাজার ৭৩৫ টাকার। আর আগের সপ্তাহে লেনদেন হয়েছিল ৪৪৪ কোটি ১১ হাজার ৯৪৪ টাকার। অর্থাৎ সপ্তাহের ব্যবধানে সিএসইতে লেনদেন ৬৫ কোটি ৬৭ লাখ ৬৯ হাজার ২০৯ টাকা বা ১৪.৭৯ শতাংশ কমেছে।

সপ্তাহটিতে সিএসইর সার্বিক সূচক সিএএসপিআই ১৯৬.০৮ পয়েন্ট বা ১.১৩ শতাংশ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৭ হাজার ৫৪৩.৪৮ পয়েন্টে। সিএসইর অন্য সূচকগুলোর মধ্যে সিএসসিএক্স ১১৯.৫৩ পয়েন্ট বা ১.১৪ শতাংশ, সিএসই-৩০ সূচক ৮৫.৮৬ পয়েন্ট বা ০.৬৬ শতাংশ, সিএসই-৫০ সূচক ১.৯৫ পয়েন্ট বা ০.১৫ শতাংশ এবং সিএসআই ৬.৮৬ পয়েন্ট বা ০.৬৫ শতাংশ বেড়ে দাঁড়িয়েছে যথাক্রমে ১০ হাজার ৫৭৪.০৬ পয়েন্ট, ১৩ হাজার ৯০.৮৮ পয়েন্টে, ১ হাজার ২৯৫.৭৭ পয়েন্টে এবং সিএসআই ১ হাজার ৫৫.৬৬ পয়েন্টে।

সপ্তাহজুড়ে সিএসইতে ৩২৯টি প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিট লেনদেনে অংশ নিয়েছে। প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে ১৭৭টির বা ৫৩.৮০ শতাংশের দর বেড়েছে, ১১৭টির বা ৩৫.৫৬ শতাংশের কমেছে এবং ৩৫টির বা ১০.৬৪ শতাংশের দর অপরিবর্তিত রয়েছে।

গত সপ্তাহে প্রধান শেয়ারবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) সার্বিক মূল্য আয় অনুপাত (পিই রেশিও) ১.৩২ শতাংশ বেড়েছে। গত সপ্তাহের শুরুতে ডিএসইর পিই ছিল ১৮.২৪ পয়েন্টে। যা সপ্তাহ শেষে ১৮.৪৮ পয়েন্টে অবস্থান করছে। অর্থাৎ সপ্তাহের ব্যবধানে পিই রেশিও ০.২৪ পয়েন্ট বা ১.৩২ শতাংশ বেড়েছে।

সপ্তাহ শেষে ব্যাংক খাতের পিই রেশিও অবস্থান করছে ৮.০১ পয়েন্টে। এছাড়া তথ্যপ্রযুক্তি খাতের ২০.২০ পয়েন্টে, বস্ত্র খাতের ৩০.৯৬ পয়েন্টে, ওষুধ ও রসায়ন খাতের ১৯.১৫ পয়েন্টে, প্রকৌশল খাতের ১৪.৯১ পয়েন্টে, বীমা খাতের ২৬.৪৪ পয়েন্টে, বিবিধ খাতের ৫৮.২৮ পয়েন্টে, খাদ্য খাতের ২০.০৯ পয়েন্টে, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতের ১১.৮৭ শতাংশ, চামড়া খাতের ৭৮.৫৩ পয়েন্টে, সিমেন্ট খাতের ১৪.৭০ পয়েন্টে, আর্থিক খাতের ৪২.৭৭ পয়েন্টে, ভ্রমণ ও অবকাশ খাতের ৫১.৪৮ পয়েন্টে, পেপার খাতের ৮১.৭০ পয়েন্টে, টেলিযোগাযোগ খাতের ১১.৫২ পয়েন্টে, সেবা ও আবাসন খাতের ১৯.৪১ পয়েন্টে, সিরামিক খাতের ২৬.৬৮ পয়েন্টে এবং পাট খাতের পিই (-) ৪ ১.৫১ পয়েন্টে অবস্থান করছে।

শনিবার, ০৫ জুন ২০২১ , ২২ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৮ ২৩ শাওয়াল ১৪৪২

শেয়ারবাজারে ফিরেছে আরও ছয় হাজার কোটি টাকা

image

আগের সপ্তাহের মতো গত সপ্তাহেও উত্থানে পার করেছে দেশের শেয়ারবাজার। সপ্তাহটিতে শেয়ারবাজারের সব সূচক বেড়েছে। একই সঙ্গে বেড়েছে টাকার পরিমাণে লেনদেন এবং বেশিরভাগ প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিট দর। উত্থানের কারণে বিনিয়োগকারীরা সপ্তাহটিতে আরও ছয় হাজার কোটি টাকা ফিরে পেয়েছে।

সপ্তাহের প্রথম কার্যদিবস লেনদেন শুরুর আগে ডিএসইতে বাজার মূলধন ছিল ৫ লাখ ২ হাজার ৭৪৩ কোটি ৫০ লাখ ২৮ হাজার টাকায়। আর সপ্তাহের শেষ কার্যদিবসে লেনদেন শেষে বাজার মূলধন দাঁড়ায় ৫ লাখ ৮ হাজার ৯৪৭ কোটি ৪৫ লাখ ৭৫ হাজার টাকায়। অর্থাৎ সপ্তাহের ব্যবধানে বিনিয়োগকারীরা ৬ হাজার ২০৩ কোটি ৯৫ লাখ ৪৭ হাজার টাকা বাজার মূলধন ফিরে পেয়েছে।

গত সপ্তাহে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) ১০ হাজার ২৫৮ কোটি ৬৫ লাখ ৬৯ হাজার ৫০৯ টাকার লেনদেন হয়েছে। আর আগের সপ্তাহে লেনদেন হয়েছিল ৭ হাজার ৬৮৩ কোটি ৭৮ লাখ ৭৩ হাজার ১১৫ টাকার। অর্থাৎ সপ্তাহের ব্যবধানে ডিএসইতে লেনদেন ২ হাজার ৫৭৪ কোটি ৮৬ লাখ ৯৬ হাজার ৩৯৪ টাকা বা ৩৩.৫১ শতাংশ বেড়েছে।

সপ্তাহের ব্যবধানে ডিএসইর প্রধান সূচক ডিএসইএক্স ৬৭.৬১ পয়েন্ট বা ১.১৩ শতাংশ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৬ হাজার ৫৩.৪৩ পয়েন্টে। অন্য সূচকগুলোর মধ্যে শরিয়াহ সূচক ৮.১৬ পয়েন্ট বা ০.৬৪ শতাংশ এবং ডিএসই-৩০ সূচক ১৩.৮৫ পয়েন্ট বা ০.৬৩ শতাংশ বেড়ে দাঁড়িয়েছে যথাক্রমে ১ হাজার ২৯৩.১৭ পয়েন্ট এবং ২ হাজার ২০৩.৫৯ পয়েন্টে। গত সপ্তাহে ডিএসইতে মোট ৩৭১টি প্রতিষ্ঠান শেয়ার ও ইউনিট লেনদেনে অংশ নিয়েছে। প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে দর বেড়েছে ১৯২টির বা ৫১.৭৫ শতাংশের, কমেছে ১৩০টির বা ৩৫.০৪ শতাংশের এবং অপরিবর্তিত রয়েছে ৪৯টির বা ১৩.২১ শতাংশের শেয়ার ও ইউনিট দর।

অন্য শেয়ারবাজার চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জে (সিএসই) গত সপ্তাহে টাকার পরিমাণে লেনদেন হয়েছে ৩৭৮ কোটি ৩২ লাখ ৪২ হাজার ৭৩৫ টাকার। আর আগের সপ্তাহে লেনদেন হয়েছিল ৪৪৪ কোটি ১১ হাজার ৯৪৪ টাকার। অর্থাৎ সপ্তাহের ব্যবধানে সিএসইতে লেনদেন ৬৫ কোটি ৬৭ লাখ ৬৯ হাজার ২০৯ টাকা বা ১৪.৭৯ শতাংশ কমেছে।

সপ্তাহটিতে সিএসইর সার্বিক সূচক সিএএসপিআই ১৯৬.০৮ পয়েন্ট বা ১.১৩ শতাংশ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৭ হাজার ৫৪৩.৪৮ পয়েন্টে। সিএসইর অন্য সূচকগুলোর মধ্যে সিএসসিএক্স ১১৯.৫৩ পয়েন্ট বা ১.১৪ শতাংশ, সিএসই-৩০ সূচক ৮৫.৮৬ পয়েন্ট বা ০.৬৬ শতাংশ, সিএসই-৫০ সূচক ১.৯৫ পয়েন্ট বা ০.১৫ শতাংশ এবং সিএসআই ৬.৮৬ পয়েন্ট বা ০.৬৫ শতাংশ বেড়ে দাঁড়িয়েছে যথাক্রমে ১০ হাজার ৫৭৪.০৬ পয়েন্ট, ১৩ হাজার ৯০.৮৮ পয়েন্টে, ১ হাজার ২৯৫.৭৭ পয়েন্টে এবং সিএসআই ১ হাজার ৫৫.৬৬ পয়েন্টে।

সপ্তাহজুড়ে সিএসইতে ৩২৯টি প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিট লেনদেনে অংশ নিয়েছে। প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে ১৭৭টির বা ৫৩.৮০ শতাংশের দর বেড়েছে, ১১৭টির বা ৩৫.৫৬ শতাংশের কমেছে এবং ৩৫টির বা ১০.৬৪ শতাংশের দর অপরিবর্তিত রয়েছে।

গত সপ্তাহে প্রধান শেয়ারবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) সার্বিক মূল্য আয় অনুপাত (পিই রেশিও) ১.৩২ শতাংশ বেড়েছে। গত সপ্তাহের শুরুতে ডিএসইর পিই ছিল ১৮.২৪ পয়েন্টে। যা সপ্তাহ শেষে ১৮.৪৮ পয়েন্টে অবস্থান করছে। অর্থাৎ সপ্তাহের ব্যবধানে পিই রেশিও ০.২৪ পয়েন্ট বা ১.৩২ শতাংশ বেড়েছে।

সপ্তাহ শেষে ব্যাংক খাতের পিই রেশিও অবস্থান করছে ৮.০১ পয়েন্টে। এছাড়া তথ্যপ্রযুক্তি খাতের ২০.২০ পয়েন্টে, বস্ত্র খাতের ৩০.৯৬ পয়েন্টে, ওষুধ ও রসায়ন খাতের ১৯.১৫ পয়েন্টে, প্রকৌশল খাতের ১৪.৯১ পয়েন্টে, বীমা খাতের ২৬.৪৪ পয়েন্টে, বিবিধ খাতের ৫৮.২৮ পয়েন্টে, খাদ্য খাতের ২০.০৯ পয়েন্টে, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতের ১১.৮৭ শতাংশ, চামড়া খাতের ৭৮.৫৩ পয়েন্টে, সিমেন্ট খাতের ১৪.৭০ পয়েন্টে, আর্থিক খাতের ৪২.৭৭ পয়েন্টে, ভ্রমণ ও অবকাশ খাতের ৫১.৪৮ পয়েন্টে, পেপার খাতের ৮১.৭০ পয়েন্টে, টেলিযোগাযোগ খাতের ১১.৫২ পয়েন্টে, সেবা ও আবাসন খাতের ১৯.৪১ পয়েন্টে, সিরামিক খাতের ২৬.৬৮ পয়েন্টে এবং পাট খাতের পিই (-) ৪ ১.৫১ পয়েন্টে অবস্থান করছে।