খালেদাকে বিদেশে পাঠানোর অনুরোধ জানিয়ে প্রধানমন্ত্রীর কাছে ২০ দলের ৫ নেতার চিঠি

বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার প্রতি সরকারের ‘সহানুভূতির’ জন্য কৃতজ্ঞতা জানিয়ে তাকে বিদেশে পাঠানোর অনুমতি দেয়ার অনুরোধ জানিয়েছেন দলটির নেতৃত্বাধীন ২০ দলীয় জোটের পাঁচ শরিক নেতা। গতকাল তারা সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালের সঙ্গে দেখা করে একটি পত্র দেন।

অপরদিকে, বিভিন্ন গণমাধ্যমে লিভার সিরোসিস শনাক্ত হওয়ার যে খবর এসেছে, তা ‘সঠিক নয়’ বলে জানিয়েছেন তার ব্যক্তিগত চিকিৎসক।

ওই আবেদনপত্রে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর উদ্দেশে বলা হয়, ‘অসুস্থতার গুরুত্ব বিবেচনা করে রাজনৈতিক মতপার্থক্যের ঊর্ধ্বে উঠে মানবিক কারণে, সুস্থ রাজনৈতিক ধারা সৃষ্টির লক্ষ্যে আমরা আপনার মাধ্যমে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর কাছে আবেদন করছি বেগম জিয়ার সুচিকিৎসার জন্য তাকে বিদেশে পাঠানোর অনুমতি প্রদান করুন এবং ব্যবস্থা নিন।

এলডিপি মহাসচিব শাহাদাত হোসেন সেলিম ছাড়াও পত্রে স্বাক্ষর করেছেন বাংলাদেশ কল্যাণ পার্টির চেয়ারম্যান সৈয়দ মোহাম্মদ ইব্রাহিম বীর প্রতীক, ন্যাশনাল পিপলস পার্টির (এনপিপি) চেয়ারম্যান ড. ফরিদুজ্জামান ফরহাদ, বাংলাদেশ জাতীয় দলের চেয়ারম্যান সৈয়দ এহসানুল হুদা ও ন্যাশনাল ডেমোক্রেটিক পার্টির চেয়ারম্যান কারী আবু তাহের।

খালেদা জিয়ার লিভার সিরোসিসের খবর সঠিক নয়

হাসপাতালে চিকিৎসাধীন খালেদা জিয়ার লিভার সিরোসিস শনাক্ত হওয়ার যে খবর কয়েকটি সংবাদমাধ্যমে এসেছে, তা ‘সঠিক নয়’ বলে জানিয়েছেন খালেদা জিয়ার ব্যক্তিগত চিকিৎসক এজেডএম জাহিদ হোসেন।

গতকাল একটি গণমাধ্যমকে তিনি জানান, ‘বিএনপি চেয়ারপারসন যে কিডনি, হৃদযন্ত্রের পাশাপাশি লিভারের জটিলতায় ভুগছেন, তবে সেটা কী ধরনের সমস্যা তা স্পষ্ট নয়।’

এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘ম্যাডামের অবস্থা আগের মতই আছে। খুব একটা পরিবর্তন নেই। এটাকে উন্নতিও বলা যাবে না, আবার স্থিতিশীলও বলা যাবে না। এক কথায় বলা যেতে পারে, এখনও তিনি ক্রিটিক্যাল অবস্থার মধ্যেই আছেন। ডাক্তাররা সার্বক্ষণিক ক্লোজড মনিটিরিং করছেন। তার বিভিন্ন প্যারামিটারসগুলো ওঠানামা করছে, সে অনুযায়ী ডাক্তারা তাৎক্ষণিক দেখে ব্যবস্থা নিচ্ছেন।’

ডা. জাহিদ বলেন, ‘ম্যাডামের যে অবস্থা এখন, মাল্টি ডিসিপ্লিনারি ডিজিজগুলোর প্রপার রেসপনস করতে হলে দ্রুত অ্যাডভান্সড সেন্টারে নিয়ে চিকিৎসা করা অতি জরুরি হয়ে পড়েছে। এটা নিয়ে এভারকেয়ার হাসপাতালের মেডিকেল বোর্ড বলুন, যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্যে থেকে অনলাইনে যুক্ত হওয়া বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা বলুন, তারা সবাই উদ্বিগ্ন। সবাই বলছেন, তাকে দ্রুত বিদেশে নেয়া প্রয়োজন।’

গত ১৩ নভেম্বর থেকে ঢাকার এভারকেয়ার হাসপাতালের সিসিইউতে চিকিৎসাধীন খালেদা জিয়ার অবস্থার তেমন কোন উন্নতি হয়নি। হৃদরোগ বিশেষজ্ঞ ডা. শাহাবুদ্দিন তালুকদারের তত্ত্বাবধায়নে এভারকেয়ার হাসপাতালে রয়েছেন তিনি। তার চিকিৎসার জন্য ১০ সদস্যের একটি মেডিকেল বোর্ড করা হয়েছে।

জাতীয় সংসদের সামনে বিএনপির এমপিদের মানববন্ধন

বিএনপি দলীয় সংসদ সদস্যরা তাদের চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার মুক্তি ও তাকে বিদেশে নিয়ে উন্নত চিকিৎসার ব্যবস্থা করার দাবিতে মানববন্ধন করেছেন। সেখানে তারা বলেন, ‘খালেদা জিয়ার ওপর বেআইনিভাবে জুলুম করা হচ্ছে। খালেদা জিয়ার শরীর ভালো নেই। তার যদি কিছু হয়, পুরো দায়ভার এই সরকারকে নিতে হবে।’ সেইসঙ্গে খালেদা জিয়াকে মুক্তি দিয়ে চিকিৎসার জন্য বিদেশে না পাঠালে সংসদ থেকে পদত্যাগের হুমকি দিয়েছেন তারা।

জাতীয় সংসদ ভবনের সামনে এক মানববন্ধনে উপস্থিত ছিলেন, ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনের উকিল আবদুস সাত্তার, চাঁপাইনবাবগঞ্জ-৩ আসনের হারুনুর রশীদ, বগুড়ার গোলাম মোহাম্মদ সিরাজ, বগুড়া-৪ আসনের মোশাররফ হোসেন, চাঁপাইনবাবগঞ্জ-২ আসনের আমিনুল ইসলাম, বিএনপি মনোনীত সংরক্ষিত মহিলা আসনের সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানা।

মানববন্ধনে হারুনুর রশীদ বলেন, এই সরকার বেআইনিভাবে ৩০ জনের অধিক মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামির সাজা মওকুফ করেছে। সাবেক সেনাপ্রধানের ভাইকে ৪০১ ধারার যেভাবে প্রতিপালন হওয়ার কথা ছিল, সেটি উপেক্ষা করে তাকে মুক্তি দিয়েছিল। আজকে বাংলাদেশে ইয়াবা সম্রাট, মাদকপাচারকারী, টাকা পাচারকারীরা ক্ষমতার দাপটে প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়াচ্ছে। আর বেআইনিভাবে সাবেক প্রধানমন্ত্রীর ওপর জুলুম অব্যাহত রেখেছে।

বাংলাদেশে মানুষের মৌলিক অধিকার, সুশাসন, আইনের শাসন সাংঘাতিকভাবে অনুপস্থিত দাবি করে হারুনুর রশীদ বলেন, ‘নিন্দা জানানোর ভাষা নেই। সম্প্রতি মাননীয় প্রধানমন্ত্রী সংবাদ সম্মেলনে খালেদা জিয়ার চিকিৎসার ব্যাপারে এক প্রশ্নের উত্তর দিয়েছেন, যা গোটা দেশবাসীর সামনে প্রচার হয়েছে। তিনি (প্রধানমন্ত্রী) সুস্পষ্টভাবে বলেছেন, তাকে (খালেদা জিয়া) বাড়িতে থাকার যে সুযোগ দিয়েছি, এটিই যথেষ্ট। এটা কি প্রমাণ করে না, প্রধানমন্ত্রীর ইচ্ছার ওপর নির্ভর করছে বাইরে তার (খালেদা জিয়া) চিকিৎসা পাওয়া এবং না পাওয়া। যদি ৪০১ ধারা সঠিকভাবে (পরিপালন) হতো, তাহলে বেগম খালেদা জিয়া বহু আগেই চিকিৎসার জন্য বাইরে যাওয়ার সুযোগ পেতেন।

তিনি খালেদা জিয়াকে বাংলাদেশে বিরোধী জনমতের একমাত্র শক্তি উল্লেখ করে বলেন, ‘এটি প্রধানমন্ত্রী ভালোভাবেই জানেন তিনি মুক্তি পেলে সারাদেশের মানুষের মধ্যে নতুন উদ্দীপনা তৈরি হবে, এটি দমন করার জন্য তাকে বিদেশে চিকিৎসার সুযোগ দেয়া হচ্ছে না। তার মুক্তির জন্য আমরা জাতীয়তাবাদী শক্তি ঐক্যবদ্ধ আছি। আমরা চাই অবিলম্বে বেগম জিয়াকে মুক্তি দেয়া হোক, সুচিকিৎসার ব্যবস্থা করা হোক।’

খালেদা জিয়ার শরীর ভালো নেই উল্লেখ করে সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানা বলেন, ‘সেই মানুষটিকে (খালেদা জিয়া) সরকার ধীরে ধীরে মৃত্যুর দিকে ঠেলে দিচ্ছে। গত ৩ বছর আগে যখন তাকে কারাগারে নেয়া হয়, তিনি কিন্তু হেঁটে কারাগারে গিয়েছেন, তিনি সুস্থ ছিলেন। গত ৩ বছরে তিনি সরকারের হেফাজতে, এই সময়ে তার স্বাস্থ্যের অবনতি কি করে হলো, এ জবাব সরকারকে দিতে হবে। আমাদের সরকার দলের এমপিরা শোনায়, ওনার (খালেদা জিয়া) বেস্ট চিকিৎসা নাকি বাংলাদেশে হচ্ছে। বেস্ট চিকিৎসা বাংলাদেশে হওয়া সম্ভব হতো, তাহলে কেন অতি সাধারণ মানুষ ভারতে চিকিৎসার জন্য ছুটে যাচ্ছে? খালেদা জিয়ার যদি কিছু হয়, পুরো দায়ভার এই সরকারকে নিতে হবে।

একই দাবিতে আজ সোমবার সারাদেশে সমাবেশে ডাক দিয়েছে বিএনপি। ঢাকায় কেন্দ্রীয়ভাবে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে এই কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হবে।

প্রসঙ্গত, গত ১৩ নভেম্বর থেকে রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে সিসিইউতে চিকিৎসাধীন আছেন বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া। দলের পক্ষ থেকে বারবার বলা হচ্ছে, খালেদা জিয়া জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে আছেন।

সোমবার, ২২ নভেম্বর ২০২১ , ৭ অগ্রহায়ণ ১৪২৮ ১৬ রবিউস সানি ১৪৪৩

খালেদাকে বিদেশে পাঠানোর অনুরোধ জানিয়ে প্রধানমন্ত্রীর কাছে ২০ দলের ৫ নেতার চিঠি

বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার প্রতি সরকারের ‘সহানুভূতির’ জন্য কৃতজ্ঞতা জানিয়ে তাকে বিদেশে পাঠানোর অনুমতি দেয়ার অনুরোধ জানিয়েছেন দলটির নেতৃত্বাধীন ২০ দলীয় জোটের পাঁচ শরিক নেতা। গতকাল তারা সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালের সঙ্গে দেখা করে একটি পত্র দেন।

অপরদিকে, বিভিন্ন গণমাধ্যমে লিভার সিরোসিস শনাক্ত হওয়ার যে খবর এসেছে, তা ‘সঠিক নয়’ বলে জানিয়েছেন তার ব্যক্তিগত চিকিৎসক।

ওই আবেদনপত্রে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর উদ্দেশে বলা হয়, ‘অসুস্থতার গুরুত্ব বিবেচনা করে রাজনৈতিক মতপার্থক্যের ঊর্ধ্বে উঠে মানবিক কারণে, সুস্থ রাজনৈতিক ধারা সৃষ্টির লক্ষ্যে আমরা আপনার মাধ্যমে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর কাছে আবেদন করছি বেগম জিয়ার সুচিকিৎসার জন্য তাকে বিদেশে পাঠানোর অনুমতি প্রদান করুন এবং ব্যবস্থা নিন।

এলডিপি মহাসচিব শাহাদাত হোসেন সেলিম ছাড়াও পত্রে স্বাক্ষর করেছেন বাংলাদেশ কল্যাণ পার্টির চেয়ারম্যান সৈয়দ মোহাম্মদ ইব্রাহিম বীর প্রতীক, ন্যাশনাল পিপলস পার্টির (এনপিপি) চেয়ারম্যান ড. ফরিদুজ্জামান ফরহাদ, বাংলাদেশ জাতীয় দলের চেয়ারম্যান সৈয়দ এহসানুল হুদা ও ন্যাশনাল ডেমোক্রেটিক পার্টির চেয়ারম্যান কারী আবু তাহের।

খালেদা জিয়ার লিভার সিরোসিসের খবর সঠিক নয়

হাসপাতালে চিকিৎসাধীন খালেদা জিয়ার লিভার সিরোসিস শনাক্ত হওয়ার যে খবর কয়েকটি সংবাদমাধ্যমে এসেছে, তা ‘সঠিক নয়’ বলে জানিয়েছেন খালেদা জিয়ার ব্যক্তিগত চিকিৎসক এজেডএম জাহিদ হোসেন।

গতকাল একটি গণমাধ্যমকে তিনি জানান, ‘বিএনপি চেয়ারপারসন যে কিডনি, হৃদযন্ত্রের পাশাপাশি লিভারের জটিলতায় ভুগছেন, তবে সেটা কী ধরনের সমস্যা তা স্পষ্ট নয়।’

এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘ম্যাডামের অবস্থা আগের মতই আছে। খুব একটা পরিবর্তন নেই। এটাকে উন্নতিও বলা যাবে না, আবার স্থিতিশীলও বলা যাবে না। এক কথায় বলা যেতে পারে, এখনও তিনি ক্রিটিক্যাল অবস্থার মধ্যেই আছেন। ডাক্তাররা সার্বক্ষণিক ক্লোজড মনিটিরিং করছেন। তার বিভিন্ন প্যারামিটারসগুলো ওঠানামা করছে, সে অনুযায়ী ডাক্তারা তাৎক্ষণিক দেখে ব্যবস্থা নিচ্ছেন।’

ডা. জাহিদ বলেন, ‘ম্যাডামের যে অবস্থা এখন, মাল্টি ডিসিপ্লিনারি ডিজিজগুলোর প্রপার রেসপনস করতে হলে দ্রুত অ্যাডভান্সড সেন্টারে নিয়ে চিকিৎসা করা অতি জরুরি হয়ে পড়েছে। এটা নিয়ে এভারকেয়ার হাসপাতালের মেডিকেল বোর্ড বলুন, যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্যে থেকে অনলাইনে যুক্ত হওয়া বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা বলুন, তারা সবাই উদ্বিগ্ন। সবাই বলছেন, তাকে দ্রুত বিদেশে নেয়া প্রয়োজন।’

গত ১৩ নভেম্বর থেকে ঢাকার এভারকেয়ার হাসপাতালের সিসিইউতে চিকিৎসাধীন খালেদা জিয়ার অবস্থার তেমন কোন উন্নতি হয়নি। হৃদরোগ বিশেষজ্ঞ ডা. শাহাবুদ্দিন তালুকদারের তত্ত্বাবধায়নে এভারকেয়ার হাসপাতালে রয়েছেন তিনি। তার চিকিৎসার জন্য ১০ সদস্যের একটি মেডিকেল বোর্ড করা হয়েছে।

জাতীয় সংসদের সামনে বিএনপির এমপিদের মানববন্ধন

বিএনপি দলীয় সংসদ সদস্যরা তাদের চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার মুক্তি ও তাকে বিদেশে নিয়ে উন্নত চিকিৎসার ব্যবস্থা করার দাবিতে মানববন্ধন করেছেন। সেখানে তারা বলেন, ‘খালেদা জিয়ার ওপর বেআইনিভাবে জুলুম করা হচ্ছে। খালেদা জিয়ার শরীর ভালো নেই। তার যদি কিছু হয়, পুরো দায়ভার এই সরকারকে নিতে হবে।’ সেইসঙ্গে খালেদা জিয়াকে মুক্তি দিয়ে চিকিৎসার জন্য বিদেশে না পাঠালে সংসদ থেকে পদত্যাগের হুমকি দিয়েছেন তারা।

জাতীয় সংসদ ভবনের সামনে এক মানববন্ধনে উপস্থিত ছিলেন, ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনের উকিল আবদুস সাত্তার, চাঁপাইনবাবগঞ্জ-৩ আসনের হারুনুর রশীদ, বগুড়ার গোলাম মোহাম্মদ সিরাজ, বগুড়া-৪ আসনের মোশাররফ হোসেন, চাঁপাইনবাবগঞ্জ-২ আসনের আমিনুল ইসলাম, বিএনপি মনোনীত সংরক্ষিত মহিলা আসনের সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানা।

মানববন্ধনে হারুনুর রশীদ বলেন, এই সরকার বেআইনিভাবে ৩০ জনের অধিক মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামির সাজা মওকুফ করেছে। সাবেক সেনাপ্রধানের ভাইকে ৪০১ ধারার যেভাবে প্রতিপালন হওয়ার কথা ছিল, সেটি উপেক্ষা করে তাকে মুক্তি দিয়েছিল। আজকে বাংলাদেশে ইয়াবা সম্রাট, মাদকপাচারকারী, টাকা পাচারকারীরা ক্ষমতার দাপটে প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়াচ্ছে। আর বেআইনিভাবে সাবেক প্রধানমন্ত্রীর ওপর জুলুম অব্যাহত রেখেছে।

বাংলাদেশে মানুষের মৌলিক অধিকার, সুশাসন, আইনের শাসন সাংঘাতিকভাবে অনুপস্থিত দাবি করে হারুনুর রশীদ বলেন, ‘নিন্দা জানানোর ভাষা নেই। সম্প্রতি মাননীয় প্রধানমন্ত্রী সংবাদ সম্মেলনে খালেদা জিয়ার চিকিৎসার ব্যাপারে এক প্রশ্নের উত্তর দিয়েছেন, যা গোটা দেশবাসীর সামনে প্রচার হয়েছে। তিনি (প্রধানমন্ত্রী) সুস্পষ্টভাবে বলেছেন, তাকে (খালেদা জিয়া) বাড়িতে থাকার যে সুযোগ দিয়েছি, এটিই যথেষ্ট। এটা কি প্রমাণ করে না, প্রধানমন্ত্রীর ইচ্ছার ওপর নির্ভর করছে বাইরে তার (খালেদা জিয়া) চিকিৎসা পাওয়া এবং না পাওয়া। যদি ৪০১ ধারা সঠিকভাবে (পরিপালন) হতো, তাহলে বেগম খালেদা জিয়া বহু আগেই চিকিৎসার জন্য বাইরে যাওয়ার সুযোগ পেতেন।

তিনি খালেদা জিয়াকে বাংলাদেশে বিরোধী জনমতের একমাত্র শক্তি উল্লেখ করে বলেন, ‘এটি প্রধানমন্ত্রী ভালোভাবেই জানেন তিনি মুক্তি পেলে সারাদেশের মানুষের মধ্যে নতুন উদ্দীপনা তৈরি হবে, এটি দমন করার জন্য তাকে বিদেশে চিকিৎসার সুযোগ দেয়া হচ্ছে না। তার মুক্তির জন্য আমরা জাতীয়তাবাদী শক্তি ঐক্যবদ্ধ আছি। আমরা চাই অবিলম্বে বেগম জিয়াকে মুক্তি দেয়া হোক, সুচিকিৎসার ব্যবস্থা করা হোক।’

খালেদা জিয়ার শরীর ভালো নেই উল্লেখ করে সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানা বলেন, ‘সেই মানুষটিকে (খালেদা জিয়া) সরকার ধীরে ধীরে মৃত্যুর দিকে ঠেলে দিচ্ছে। গত ৩ বছর আগে যখন তাকে কারাগারে নেয়া হয়, তিনি কিন্তু হেঁটে কারাগারে গিয়েছেন, তিনি সুস্থ ছিলেন। গত ৩ বছরে তিনি সরকারের হেফাজতে, এই সময়ে তার স্বাস্থ্যের অবনতি কি করে হলো, এ জবাব সরকারকে দিতে হবে। আমাদের সরকার দলের এমপিরা শোনায়, ওনার (খালেদা জিয়া) বেস্ট চিকিৎসা নাকি বাংলাদেশে হচ্ছে। বেস্ট চিকিৎসা বাংলাদেশে হওয়া সম্ভব হতো, তাহলে কেন অতি সাধারণ মানুষ ভারতে চিকিৎসার জন্য ছুটে যাচ্ছে? খালেদা জিয়ার যদি কিছু হয়, পুরো দায়ভার এই সরকারকে নিতে হবে।

একই দাবিতে আজ সোমবার সারাদেশে সমাবেশে ডাক দিয়েছে বিএনপি। ঢাকায় কেন্দ্রীয়ভাবে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে এই কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হবে।

প্রসঙ্গত, গত ১৩ নভেম্বর থেকে রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে সিসিইউতে চিকিৎসাধীন আছেন বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া। দলের পক্ষ থেকে বারবার বলা হচ্ছে, খালেদা জিয়া জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে আছেন।