করোনা : সংক্রমণ মৃত্যু দুটোই বেড়েছে

শীত আসার শুরুতেই করোনার সংক্রমণ বাড়তে শুরু করেছে বাংলাদেশে। গত কয়েক দিনে করোনা সংক্রমণ একেবারেই কমে গিয়েছিল। কিন্তু এখন আবার সংক্রমণ-মৃত্যু হার বাড়ছে। দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় করোনাভাইরাসে ৭ জনের মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে দেশে করোনায় মৃতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২৭ হাজার ৯৪৬ জনে।

গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে শনাক্ত হয়েছে ২৫৩ জনের। এ পর্যন্ত মোট শনাক্ত রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১৫ লাখ ৭৩ হাজার ৭১১ জনে।

গতকাল স্বাস্থ্য অধিদপ্তর থেকে পাঠানো করোনাবিষয়ক নিয়মিত সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে। এ তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, বৃহস্পতিবার আগের দিনের চেয়ে সংক্রমণ ও মৃত্যু দুটোই বেড়েছে। বৃহস্পতিবার (১৮ নভেম্বর) করোনায় ৫ জনের মৃত্যুর কথা জানিয়েছিল অধিদপ্তর। ওই সময়ে করোনা শনাক্ত হয়েছিল ২৪৪ জনের।

রাস্তায় একজন মানুষের মুখেও মাস্ক নেই, গাদাগাদি করে টং দোকানে চা খাচ্ছে। না আছে মাস্ক পরার সচেতনতা, না আছে সামাজিক দূরত্ব। কেউ মাস্ক পরছে না। মানুষের সামাজিক অনুষ্ঠানে যাবার প্রবণতা বেড়েছে। টুরিস্ট স্পটগুলোতে জনসমাগম বাড়ছে আগের তুলনায় অনেক বেশি। তাই আমাদেরও সাবধান হতে হবে। সবাইকে স্বাস্থ্যবিধি মানতে হবে।

টিকার কারণে গা ছাড়া দিলে হবে না। করোনা টিকার দ্বিতীয় ডোজ নেয়ার দুই সপ্তাহ পর তা কার্যকর হয়। প্রথম ডোজ নিয়েই শরীরে কোভিড প্রতিরোধক্ষমতা তৈরি হওয়ার কোন সম্ভাবনাই নেই। কাজেই টিকা নিয়েই নিশ্চিত হওয়া বা স্বাস্থ্যবিধি উপেক্ষা করা ভয়ংকর। আর মাস্ক অবশ্যই ব্যবহার করতে হবে। জনসমাগম এড়িয়ে চলতে হবে।

মাঝে সংক্রমণ কমে আসার কারণ ছিল মানুষ তখন সচেতন ছিল। একটা সময় মানুষ হোটেলে সেইভাবে খেতো না, স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলতো, গণপরিবহনে স্বাস্থ্য বিধি মেনে যাতায়াত করতো। কিন্তু পরবর্তীতে যখন এগুলো শিথিল হয়ে গেলো তখনই সামাজিক দূরত্ব মেনে চলার বিষয়ে উদাসীনতা ছিল পুরো দেশ জুড়েই। করোনাকালীন সময়ে নির্বাচনও অনুষ্ঠিত হচ্ছে।

তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, বাংলাদেশে মাস্ক পরা শুরু করলে সংক্রমণের সংখ্যাও কমেছে।

এদিকে করোনার সংক্রমণ বাড়তে থাকায় আগামী সোমবার থেকে ইউরোপের দেশ অস্ট্রিয়া পুরোপুরি লকডাউন শুরু করতে যাচ্ছে। এর আগে দেশটিতে যারা করোনার টিকা নেননি, তাদের জন্য লকডাউন ঘোষণা করা হয়েছিল।

অস্ট্রিয়ার চ্যান্সেলর আলেকজান্ডার শ্যালেনবার্গ বলেছেন, দেশটিতে পূর্ণ লকডাউন ২০ দিন চালু থাকবে। আগামী বছরের ১ ফেব্রুয়ারি থেকে টিকা নিতে আইনি বাধ্যবাধকতা আরোপ করা হবে বলে জানিয়েছে বিবিসি।

অস্ট্রিয়ায় করোনাভাইরাস সংক্রমণের রেকর্ড ও পশ্চিম ইউরোপের মধ্যে দেশটিতে সবচেয়ে কম টিকা গ্রহণ বিষয়ে প্রতিক্রিয়া জানাতে গিয়ে এ কথা বলেন চ্যান্সেলর শ্যালেনবার্গ। ইউরোপজুড়ে আবারও সংক্রমণ বাড়তে থাকায় অনেক দেশই নানা বিধিনিষেধ জারি করছে।

ইউরোপের আরেক দেশ সেøাভেনিয়ার প্রধানমন্ত্রী এডওয়ার্ড হেগার সোমবার থেকে টিকা না নেয়া লোকজনের জন্য লকডাউনের ঘোষণা দিয়েছেন। চেক প্রজাতন্ত্রও বিভিন্ন বিধিনিষেধ জারি করেছে। নেদারল্যান্ডস আংশিক লকডাউন শুরু করেছে। জার্মানিও টিকা না নেয়া লোকজনের জন্য কঠোর বিধিনিষেধ জারি করতে সম্মত হয়েছে।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় করোনা থেকে সুস্থ হয়েছেন ২৯৮ জন। এ পর্যন্ত মোট সুস্থ হয়েছেন ১৫ লাখ ৩৭ হাজার ৮১৬ জন। এই হিসাব অনুযায়ী, দেশে এখন সক্রিয় রোগীর সংখ্যা ৭ হাজার ৯৪৯ জন। অর্থাৎ, জানা হিসেবে এই সংখ্যক মানুষ এখন করোনাভাইরাস সংক্রমিত অবস্থায় রয়েছেন।

গত ২৪ ঘণ্টায় ১৮ হাজার ২৮ জনের নমুনা সংগ্রহ করা হয়। পরীক্ষা করা হয় ১৮ হাজার ১২৪টি নমুনা। পরীক্ষার বিপরীতে শনাক্তের হার ১ দশমিক ৪০ শতাংশ। এ পর্যন্ত মোট ১ কোটি ৬ লাখ ৯১ হাজার ৫৫৫টি নমুনা পরীক্ষায় শনাক্তের হার ১৪ দশমিক ৭২ শতাংশ। প্রতি ১০০ জনে সুস্থতার হার ৯৭ দশমিক ৭২ শতাংশ এবং মৃত্যুহার ১ দশমিক ৭৮ শতাংশ।

গত ২৪ ঘণ্টায় আক্রান্তদের মধ্যে ২০২ জনই ঢাকা বিভাগের যা মোট আক্রান্তের ৮০ শতাংশ। দেশের ৩৭টি জেলায় গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন কোন রোগী শনাক্ত হয়নি।

গত ২৪ ঘণ্টায় যারা মারা গেছেন তাদের ৪ জন নারী, বাকিরা পুরুষ। তাদের ৩ জনের বয়স ছিল ৬০ বছরের বেশি, তিনজনের বয়স ছিল ৪১ থেকে ৬০ বছরের মধ্যে। আর একজনের বয়স ২১ থেকে ৩০ বছরের মধ্যে ছিল। তাদের ৬ জন সরকারি হাসপাতালে এবং একজন বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন বলে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানিয়েছে। ঢাকা বিভাগের মধ্যে ঢাকা, গাজীপুর ও মুন্সিগঞ্জে দুজন করে মারা গেছেন।

এ সময়ে ঢাকায় ৬ ও চট্টগ্রামে ১ একজন মারা গেছেন। বাকি ছয় বিভাগগুলোতে কারো মৃত্যু হয়নি।

উল্লেখ্য, গত বছরের ৮ মার্চ দেশে প্রথম ৩ জনের দেহে করোনাভাইরাস শনাক্ত হয়। এর ১০ দিন পর ওই বছরের ১৮ মার্চ দেশে এ করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে প্রথম একজনের মৃত্যু হয়।

শনিবার, ২০ নভেম্বর ২০২১ , ৫ অগ্রহায়ণ ১৪২৮ ১৪ রবিউস সানি ১৪৪৩

করোনা : সংক্রমণ মৃত্যু দুটোই বেড়েছে

শীত আসার শুরুতেই করোনার সংক্রমণ বাড়তে শুরু করেছে বাংলাদেশে। গত কয়েক দিনে করোনা সংক্রমণ একেবারেই কমে গিয়েছিল। কিন্তু এখন আবার সংক্রমণ-মৃত্যু হার বাড়ছে। দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় করোনাভাইরাসে ৭ জনের মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে দেশে করোনায় মৃতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২৭ হাজার ৯৪৬ জনে।

গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে শনাক্ত হয়েছে ২৫৩ জনের। এ পর্যন্ত মোট শনাক্ত রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১৫ লাখ ৭৩ হাজার ৭১১ জনে।

গতকাল স্বাস্থ্য অধিদপ্তর থেকে পাঠানো করোনাবিষয়ক নিয়মিত সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে। এ তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, বৃহস্পতিবার আগের দিনের চেয়ে সংক্রমণ ও মৃত্যু দুটোই বেড়েছে। বৃহস্পতিবার (১৮ নভেম্বর) করোনায় ৫ জনের মৃত্যুর কথা জানিয়েছিল অধিদপ্তর। ওই সময়ে করোনা শনাক্ত হয়েছিল ২৪৪ জনের।

রাস্তায় একজন মানুষের মুখেও মাস্ক নেই, গাদাগাদি করে টং দোকানে চা খাচ্ছে। না আছে মাস্ক পরার সচেতনতা, না আছে সামাজিক দূরত্ব। কেউ মাস্ক পরছে না। মানুষের সামাজিক অনুষ্ঠানে যাবার প্রবণতা বেড়েছে। টুরিস্ট স্পটগুলোতে জনসমাগম বাড়ছে আগের তুলনায় অনেক বেশি। তাই আমাদেরও সাবধান হতে হবে। সবাইকে স্বাস্থ্যবিধি মানতে হবে।

টিকার কারণে গা ছাড়া দিলে হবে না। করোনা টিকার দ্বিতীয় ডোজ নেয়ার দুই সপ্তাহ পর তা কার্যকর হয়। প্রথম ডোজ নিয়েই শরীরে কোভিড প্রতিরোধক্ষমতা তৈরি হওয়ার কোন সম্ভাবনাই নেই। কাজেই টিকা নিয়েই নিশ্চিত হওয়া বা স্বাস্থ্যবিধি উপেক্ষা করা ভয়ংকর। আর মাস্ক অবশ্যই ব্যবহার করতে হবে। জনসমাগম এড়িয়ে চলতে হবে।

মাঝে সংক্রমণ কমে আসার কারণ ছিল মানুষ তখন সচেতন ছিল। একটা সময় মানুষ হোটেলে সেইভাবে খেতো না, স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলতো, গণপরিবহনে স্বাস্থ্য বিধি মেনে যাতায়াত করতো। কিন্তু পরবর্তীতে যখন এগুলো শিথিল হয়ে গেলো তখনই সামাজিক দূরত্ব মেনে চলার বিষয়ে উদাসীনতা ছিল পুরো দেশ জুড়েই। করোনাকালীন সময়ে নির্বাচনও অনুষ্ঠিত হচ্ছে।

তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, বাংলাদেশে মাস্ক পরা শুরু করলে সংক্রমণের সংখ্যাও কমেছে।

এদিকে করোনার সংক্রমণ বাড়তে থাকায় আগামী সোমবার থেকে ইউরোপের দেশ অস্ট্রিয়া পুরোপুরি লকডাউন শুরু করতে যাচ্ছে। এর আগে দেশটিতে যারা করোনার টিকা নেননি, তাদের জন্য লকডাউন ঘোষণা করা হয়েছিল।

অস্ট্রিয়ার চ্যান্সেলর আলেকজান্ডার শ্যালেনবার্গ বলেছেন, দেশটিতে পূর্ণ লকডাউন ২০ দিন চালু থাকবে। আগামী বছরের ১ ফেব্রুয়ারি থেকে টিকা নিতে আইনি বাধ্যবাধকতা আরোপ করা হবে বলে জানিয়েছে বিবিসি।

অস্ট্রিয়ায় করোনাভাইরাস সংক্রমণের রেকর্ড ও পশ্চিম ইউরোপের মধ্যে দেশটিতে সবচেয়ে কম টিকা গ্রহণ বিষয়ে প্রতিক্রিয়া জানাতে গিয়ে এ কথা বলেন চ্যান্সেলর শ্যালেনবার্গ। ইউরোপজুড়ে আবারও সংক্রমণ বাড়তে থাকায় অনেক দেশই নানা বিধিনিষেধ জারি করছে।

ইউরোপের আরেক দেশ সেøাভেনিয়ার প্রধানমন্ত্রী এডওয়ার্ড হেগার সোমবার থেকে টিকা না নেয়া লোকজনের জন্য লকডাউনের ঘোষণা দিয়েছেন। চেক প্রজাতন্ত্রও বিভিন্ন বিধিনিষেধ জারি করেছে। নেদারল্যান্ডস আংশিক লকডাউন শুরু করেছে। জার্মানিও টিকা না নেয়া লোকজনের জন্য কঠোর বিধিনিষেধ জারি করতে সম্মত হয়েছে।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় করোনা থেকে সুস্থ হয়েছেন ২৯৮ জন। এ পর্যন্ত মোট সুস্থ হয়েছেন ১৫ লাখ ৩৭ হাজার ৮১৬ জন। এই হিসাব অনুযায়ী, দেশে এখন সক্রিয় রোগীর সংখ্যা ৭ হাজার ৯৪৯ জন। অর্থাৎ, জানা হিসেবে এই সংখ্যক মানুষ এখন করোনাভাইরাস সংক্রমিত অবস্থায় রয়েছেন।

গত ২৪ ঘণ্টায় ১৮ হাজার ২৮ জনের নমুনা সংগ্রহ করা হয়। পরীক্ষা করা হয় ১৮ হাজার ১২৪টি নমুনা। পরীক্ষার বিপরীতে শনাক্তের হার ১ দশমিক ৪০ শতাংশ। এ পর্যন্ত মোট ১ কোটি ৬ লাখ ৯১ হাজার ৫৫৫টি নমুনা পরীক্ষায় শনাক্তের হার ১৪ দশমিক ৭২ শতাংশ। প্রতি ১০০ জনে সুস্থতার হার ৯৭ দশমিক ৭২ শতাংশ এবং মৃত্যুহার ১ দশমিক ৭৮ শতাংশ।

গত ২৪ ঘণ্টায় আক্রান্তদের মধ্যে ২০২ জনই ঢাকা বিভাগের যা মোট আক্রান্তের ৮০ শতাংশ। দেশের ৩৭টি জেলায় গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন কোন রোগী শনাক্ত হয়নি।

গত ২৪ ঘণ্টায় যারা মারা গেছেন তাদের ৪ জন নারী, বাকিরা পুরুষ। তাদের ৩ জনের বয়স ছিল ৬০ বছরের বেশি, তিনজনের বয়স ছিল ৪১ থেকে ৬০ বছরের মধ্যে। আর একজনের বয়স ২১ থেকে ৩০ বছরের মধ্যে ছিল। তাদের ৬ জন সরকারি হাসপাতালে এবং একজন বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন বলে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানিয়েছে। ঢাকা বিভাগের মধ্যে ঢাকা, গাজীপুর ও মুন্সিগঞ্জে দুজন করে মারা গেছেন।

এ সময়ে ঢাকায় ৬ ও চট্টগ্রামে ১ একজন মারা গেছেন। বাকি ছয় বিভাগগুলোতে কারো মৃত্যু হয়নি।

উল্লেখ্য, গত বছরের ৮ মার্চ দেশে প্রথম ৩ জনের দেহে করোনাভাইরাস শনাক্ত হয়। এর ১০ দিন পর ওই বছরের ১৮ মার্চ দেশে এ করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে প্রথম একজনের মৃত্যু হয়।