মুক্তিপণ দাবিতে ৪ জেলেকে অপহরণ : গুলিতে নিহত ১

বাগেরহাটের সুন্দরবন সংলগ্ন বঙ্গোপসাগরে মাছধরা ট্রলারে ফের ডাকাতি শুরু হয়েছে। গত এক সপ্তাহে ৪ ট্রলারে হামলা চালিয়ে মুক্তিপণের দাবিতে ৪ জেলেকে অপহরণ ও এক জেলেকে গুলি করে হত্যা করেছে ডাকাত দল। এ সময় ট্রলারে থাকা ইলিশ মাছ, ডিজেলসহ প্রায় ১০ লাখ টাকার মালামাল লুট করে নিয়ে যায়। ডাকাতির শিকার হওয়া ট্রলারগুলো হচ্ছে, বাগেরহাটের শরণখোলা উপজেলার রাজৈর এলাকার আনোয়ার হাওলাদারের এফবি আট ভাই ফিস, একই এলাকার আমিনুল হাওলাদারের এফবি শাওন, পাথরঘাটা উপজেলার ফিরোজ মাতুব্বরের এফবি মায়ের দোয়া, বাদুরতলা গ্রামের নেছার উদ্দিন খানের এফবি মা এবং চর লাঠিমারা গ্রামের বাবুল ফকিরের এফবি বাবুল ট্রলার। গত রোববার সকালে ডাকাতের কবল থেকে শরণখোলার রাজৈর মৎস্যঘাটে ফিরে আসা এফবি আট ভাই ফিস ট্রলারের মাঝি মহিদুল মুন্সি জানান, গত শনিবার দিবাগত রাত ৯টায় সুন্দরবনের শরনখোলা রেঞ্জের কচিখালীর বাহির সাগরের গাঙ্গের আইন এলাকায় তারা ১৭ টি ট্রলার মাছ ধরছিলেন। এমন সময় অপর একটি ট্রলারে ১১ সদস্যের ডাকাত দল আগ্নেয়াস্ত্র ও দা নিয়ে তাদের ট্রলারগুলোতে হামলা চালায়।

ডাকাত দল হামলা চালিয়ে ইলিশ ও ডিজেলসহ বিভিন্ন মালামাল লুট করে নিয়ে যায়। এ সময় ৩ লাখ টাকা করে মুক্তিপনের দাবিতে তাদের ট্রলারের জেলে লোকমান হোসেন (৬০), এফবি শাওন ট্রলারের মাঝি জাকির হোসেন (৫০) ও পাথরঘাটার এফবি মায়ের দোয়া ট্রলারের জেলে জামাল হোসেনকে (৫০) অপহর করে নিয়ে যায়। পাথরঘাটা মাছধরা ট্রলার মাঝি সমিতির সভাপতি মোঃ দুলাল মিয়া গত রোববার দুপুরে জানান, গত শুক্রবার দক্ষিণ-পশ্চিম বঙ্গোপসাগরের আশার চর এলাকা থেকে এফবি মা ট্রলারে হামলা চালিয়ে ডিজেল ও বিভিন্ন মালামালসহ ট্রলারের মালিক ও মাঝি নেছার উদ্দিন খানকে মুক্তিপনের দাবীতে অপহরন করে নিয়ে যায়।

এ ঘটনার আগে গত ১৬ নভেম্বর সুন্দরবনের মান্দারবাড়িয়া এলাকায় এফবি বাবুল ট্রলারে হামলা চালায়। ডকাত দল ট্রলারের মালামাল লুট করে নিয়ে যওয়ার সময় প্রতিবাদ করলে জেলে মোঃ মুসাকে গুলি করে হত্যা করে। তার বাড়ি পাথরঘাটা উপজেলার চর লাঠিমারা গ্রামে। এ ব্যাপারে বাগেরহাট জেলা ফিসিং ট্রলার মালিক সমিতির সভাপতি এম সাইফুল ইসলাম খোকন বলেন, এ বছর ইলিশ মৌসুমে এ অঞ্চলে মাছ না পড়ায় জেলে ও মহাজনরা নিস্ব হয়ে দেনাগ্রস্ত হয়ে পড়েছে। এ অবস্থায় ডাকাতের কবলে পড়ায় তাদের পথে বসা ছাড়া কোন উপায় থাকবে না। জানতে চাইলে কোস্টগার্ড পশ্চিম জোনের নাম প্রকাশে অনেচ্ছুক এক কর্মকর্তা জানান, বঙ্গোপসাগরে তাদের একটি জাহাজ ও সুন্দরবনের কচিখালী, দুবলার চর স্টেশনের সদস্যরা টহলে রয়েছে। তবে জেলেরা কোস্টগার্ডের ০১৭৬৯৪৪৪৯৯৯ নম্বরে কল দিলে আমরা দ্রুত পদক্ষেপ গ্রহণ করতে পারি। প্রসঙ্গত, ২০১৮ সালের ১ নভেম্বরে প্রধানমন্ত্রী সুন্দরবন ও বঙ্গোপসাগর এলাকা দস্যুমুক্ত ঘোষণা করেন।

মঙ্গলবার, ২৩ নভেম্বর ২০২১ , ৮ অগ্রহায়ণ ১৪২৮ ১৭ রবিউস সানি ১৪৪৩

সুন্দরবনে ফের ডাকাতি শুরু

মুক্তিপণ দাবিতে ৪ জেলেকে অপহরণ : গুলিতে নিহত ১

বাগেরহাটের সুন্দরবন সংলগ্ন বঙ্গোপসাগরে মাছধরা ট্রলারে ফের ডাকাতি শুরু হয়েছে। গত এক সপ্তাহে ৪ ট্রলারে হামলা চালিয়ে মুক্তিপণের দাবিতে ৪ জেলেকে অপহরণ ও এক জেলেকে গুলি করে হত্যা করেছে ডাকাত দল। এ সময় ট্রলারে থাকা ইলিশ মাছ, ডিজেলসহ প্রায় ১০ লাখ টাকার মালামাল লুট করে নিয়ে যায়। ডাকাতির শিকার হওয়া ট্রলারগুলো হচ্ছে, বাগেরহাটের শরণখোলা উপজেলার রাজৈর এলাকার আনোয়ার হাওলাদারের এফবি আট ভাই ফিস, একই এলাকার আমিনুল হাওলাদারের এফবি শাওন, পাথরঘাটা উপজেলার ফিরোজ মাতুব্বরের এফবি মায়ের দোয়া, বাদুরতলা গ্রামের নেছার উদ্দিন খানের এফবি মা এবং চর লাঠিমারা গ্রামের বাবুল ফকিরের এফবি বাবুল ট্রলার। গত রোববার সকালে ডাকাতের কবল থেকে শরণখোলার রাজৈর মৎস্যঘাটে ফিরে আসা এফবি আট ভাই ফিস ট্রলারের মাঝি মহিদুল মুন্সি জানান, গত শনিবার দিবাগত রাত ৯টায় সুন্দরবনের শরনখোলা রেঞ্জের কচিখালীর বাহির সাগরের গাঙ্গের আইন এলাকায় তারা ১৭ টি ট্রলার মাছ ধরছিলেন। এমন সময় অপর একটি ট্রলারে ১১ সদস্যের ডাকাত দল আগ্নেয়াস্ত্র ও দা নিয়ে তাদের ট্রলারগুলোতে হামলা চালায়।

ডাকাত দল হামলা চালিয়ে ইলিশ ও ডিজেলসহ বিভিন্ন মালামাল লুট করে নিয়ে যায়। এ সময় ৩ লাখ টাকা করে মুক্তিপনের দাবিতে তাদের ট্রলারের জেলে লোকমান হোসেন (৬০), এফবি শাওন ট্রলারের মাঝি জাকির হোসেন (৫০) ও পাথরঘাটার এফবি মায়ের দোয়া ট্রলারের জেলে জামাল হোসেনকে (৫০) অপহর করে নিয়ে যায়। পাথরঘাটা মাছধরা ট্রলার মাঝি সমিতির সভাপতি মোঃ দুলাল মিয়া গত রোববার দুপুরে জানান, গত শুক্রবার দক্ষিণ-পশ্চিম বঙ্গোপসাগরের আশার চর এলাকা থেকে এফবি মা ট্রলারে হামলা চালিয়ে ডিজেল ও বিভিন্ন মালামালসহ ট্রলারের মালিক ও মাঝি নেছার উদ্দিন খানকে মুক্তিপনের দাবীতে অপহরন করে নিয়ে যায়।

এ ঘটনার আগে গত ১৬ নভেম্বর সুন্দরবনের মান্দারবাড়িয়া এলাকায় এফবি বাবুল ট্রলারে হামলা চালায়। ডকাত দল ট্রলারের মালামাল লুট করে নিয়ে যওয়ার সময় প্রতিবাদ করলে জেলে মোঃ মুসাকে গুলি করে হত্যা করে। তার বাড়ি পাথরঘাটা উপজেলার চর লাঠিমারা গ্রামে। এ ব্যাপারে বাগেরহাট জেলা ফিসিং ট্রলার মালিক সমিতির সভাপতি এম সাইফুল ইসলাম খোকন বলেন, এ বছর ইলিশ মৌসুমে এ অঞ্চলে মাছ না পড়ায় জেলে ও মহাজনরা নিস্ব হয়ে দেনাগ্রস্ত হয়ে পড়েছে। এ অবস্থায় ডাকাতের কবলে পড়ায় তাদের পথে বসা ছাড়া কোন উপায় থাকবে না। জানতে চাইলে কোস্টগার্ড পশ্চিম জোনের নাম প্রকাশে অনেচ্ছুক এক কর্মকর্তা জানান, বঙ্গোপসাগরে তাদের একটি জাহাজ ও সুন্দরবনের কচিখালী, দুবলার চর স্টেশনের সদস্যরা টহলে রয়েছে। তবে জেলেরা কোস্টগার্ডের ০১৭৬৯৪৪৪৯৯৯ নম্বরে কল দিলে আমরা দ্রুত পদক্ষেপ গ্রহণ করতে পারি। প্রসঙ্গত, ২০১৮ সালের ১ নভেম্বরে প্রধানমন্ত্রী সুন্দরবন ও বঙ্গোপসাগর এলাকা দস্যুমুক্ত ঘোষণা করেন।